সবচেয়ে সুখী ভারতের মুসলমানরা: আরএসএস প্রধান

প্রকাশিত: ১২:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র মতাদর্শিক পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবত বলেছেন, হিন্দু সংস্কৃতির কারণে ভারতের মুসলমানরা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুখে রয়েছে। শনিবার বুদ্ধিজীবীদের এক জমায়েতের উদ্দেশে তিনি বলেন, হিন্দু কোনও ধর্ম বা ভাষা এমনকি কোনও দেশও নয়। ভারতে যারা বসবাস করে তাদের জন্য হিন্দু একটি সংস্কৃতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভারতের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতাকর্মীরা স্বঘোষিত গো-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। গরু জবাই ও গরুর মাংস খাওয়ার অপরাধে হামলা এবং বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে দেশটিতে।

একাধিক মুসলিম গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো পৈশাচিক ঘটনারও জন্ম দিয়েছে বিজেপি-আরএসএস-এর গো-রক্ষকরা। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা সংখ্যালঘু মুসলমানদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দিতে নাগরিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে বিজেপি সরকার।

এমন বাস্তবতায় শনিবার আরএসএস প্রধান বলেন, ‘ভারতে যারা বসবাস করে তাদের সবার জন্য হিন্দু একটি সংস্কৃতি…যারা সাংস্কৃতিক বিভিন্নতায় শ্রদ্ধা রাখে আর গ্রহণ করে। যখন কোনও জাতি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় তখন তারা সত্যের খোঁজে আমাদের কাছে আসে’। তিনি বলেন, ইহুদিরা যখন রাষ্ট্রহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল তখন কেবল ভারতই তাদের আশ্রয় দিয়েছে। পার্সিরা তাদের ধর্ম ভারতে নির্বিঘ্নে পালন করে। সবচেয়ে সুখী মুসলমানদের পাওয়া যায় ভারতে। এটা কেন?

কারণ আমরা হিন্দু। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, এটা আমাদের হিন্দু রাষ্ট্র। ভারতের অনেকে তাদের হিন্দু পরিচয় দিতে লজ্জা পান। আবার অনেকেই আছে যারা হিন্দু পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। আবার অনেকে আছে যারা নিজেদের হিন্দু দাবি করে কিন্তু হিন্দু শব্দটি উচ্চারণ করলে বিরক্ত হয়ে ওঠে। আবার কেউ কেউ হিন্দু পরিচয় নিয়ে সতর্ক থাকে। কিন্তু দরজা বন্ধ থাকা ঘরে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তখন বলে হিন্দু। কারণ তাদের স্বার্থ আক্রান্ত হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে বিজেপি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হলে ভারতের বিভিন্নস্থানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়। এছাড়াও নানা বিদ্বেষী ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘটন। এসব অপরাধের নেপথ্যে সাধারণত আরএসএস সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন