সাড়ে ৫ হাজার আদিবাসীর ইসলাম গ্রহণ মেক্সিকোতে

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

মেক্সিকোর চিয়াপাস রাজ্যের নওমুসলিমদের সংখ্যা গত দশকে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ তারা শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছে। লেবানন, সিরিয়া এবং এমনকি স্পেন থেকে মুসলিম অভিবাসীদের আগমন, মেক্সিকোতে ইসলাম প্রচারে ব্যাপক অবদান রেখেছে। জার্মানি গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এক প্রতিবেদনে এই সংবাদ দিয়েছে।

মেক্সিকোর অন্যতম একটি মুসলিম কেন্দ্র হচ্ছে চিয়াপাস রাজের দক্ষিণাঞ্চলের ইসলামিক সেন্টার। কয়েক দশকে দেশটিতে ইসলাম গ্রহণের হার কয়েক গুণ বেড়েছে। তাজুতাজিল নাম প্রসিদ্ধ গোত্রের লোকেরা সেদেশের সান ক্রিস্টোবাল দে লাস কাসাস শহরে বসবাস করে। এই গোত্রের অধিকাংশ নাগরিকই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন।

তাজুতাজিল গোত্রের আদিবাসীদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ হবে। এই গোত্রের লোকেরা মধ্য আমেরিকান প্রাচীন মায়া সাম্রাজ্যের অনুসারী। এই গোত্রটি মধ্য আমেরিকান প্রাচীন মায়া সাম্রাজ্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

মেক্সিকোর চিয়াপাস রাজ্যের সান ক্রিস্টোবাল ডে লাস কাসাস শহরে বাস করেন উমর। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর স্থানীয় মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন উমর। তিনি বলেন, ‘আমাদের একেশ্বরবাদী ধর্ম। তবে আমরা সন্তের পূজা করি না ’ ৬৪ বছর বয়সি উমর বলেন, একসময় তিনি এভানজেলিক্যাল গির্জার যাজক ছিলেন। নব্বই দশকের শেষ দিকে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

উমর সহ অনেক মুসলমানের বসবাস চিয়াপাস রাজ্যে। তাদের অধিকাংশই সোসিল সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগে তারা ক্যাথলিকসহ খ্রিষ্টান ধর্মের অন্যান্য গোষ্ঠীর অংশ ছিলেন। আশির দশকের শেষ দিকে স্থানীয়রা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ শুরু করে। ঐ সময় চিয়াপাস রাজ্যে সাপাতিস্তা মুভমেন্টে ছড়িয়ে পড়ছিল। ফলে পুঁজিবাদসহ খ্রিষ্টান ধর্ম সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

স্থানীয় মুসলিম মুস্তফা জানান, ‘আমরা যখন ধর্মান্তরিত হই তখন মানুষ আমাদের দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে ছিল। তারা ভেবেছিল আমরা সন্ত্রাসী, তাই তারা আমাদের ভয়ও পেয়েছিল।’ তবে সময়ের সঙ্গে তা ঠিক হয়ে গেছে। তিনি বলেন,  ‘আমাদের কাজ দেখে তাদের মতামতে পরিবর্তন আসে।’

৫৫ বছরের মোহাম্মদ আমিন ইসলাম গ্রহণ করার কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘এটা একটা পবিত্র ধর্ম। এই বিষয়টিই আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন