যারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ চায় তাদের জন্য আমাদের হুঁশিয়ারি রয়েছে: ছাত্রলীগ

প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা কখনও ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে ছিলাম না৷ কারণ দেশের সংকট মুহূর্তে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা অনেক।’

লেখক ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘যারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ চায়, তাদের অবস্থান আসলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।তাদের জন্য আমাদের হুঁশিয়ারি রয়েছে।’

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হবে৷ আর এটির জন্য ছাত্রলীগই দায়ী থাকবে৷ কারণ তারাই ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারিত্ব এবং সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি চালু করেছে। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে প্রশাসনের স্বৈরাচারিতা বাড়বে ৷’

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার চালটি একটি চরম প্রতিক্রিয়াশীল উদ্যোগ বলে দাবি করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কথিত ছাত্র রাজনীতি বন্ধ আছে সেখানেও প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ ও গোপনে ছাত্র শিবিরের তৎপরতা আছে৷ এছাড়া প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র সেখানে প্রবল মাত্রায় চালু থাকবে।’

আবরার হত্যার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি রাখা না রাখা সেটা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে আমরা পর্যালোচনা না করে কিছু বলতে চাচ্ছি না।’ তিনি মনে করেন, সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ না করে এর ভুলত্রুটি থাকলে তা শুধরে নিয়ে সঠিক পথে আনা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর রবিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরে বাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যার বিচার চেয়ে ইতোমধ্যে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের অ্যালামনাই সংগঠন ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি করে। যদিও আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছে ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তারা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। ফাঁকে সারাদেশে ঝটিকা মিছিলে মাঠ গরম করেছে ছাত্র শিবিরও।

বুয়েটের রাজনীতির বিষয়টি নিয়ে এনজিও সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করতে। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে মৌলবাদীরা সুযোগ নেবে।’

আই.এ/

মন্তব্য করুন