বুয়েটে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ রাজনীতি : ১০ দফা মেনে নিল প্রশাসন

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৯

পাবলিক ভয়েস: বুয়েট রাজনী‌তি নিষিদ্ধ করেছে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিতে এই সিন্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। একই সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবিও মেনে নিয়েছেন তারা। এছাড়া আবরার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষার্থীকেও বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বুয়েট ভিসির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভিসি, ডিএসডব্লিউ পরিচালকসহ সাতজন মঞ্চে বসেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বুয়েট ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে, বুয়েট ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রবেশ করলেও অডিটোরিয়াম ভরে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বাইরে রাস্তায় বসে অবস্থান করেন। বৈঠকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর মধ্যে ষষ্ঠ দফায় আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, ‘বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটের হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। মোস্ট জুনিয়র ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে যেকোনও সময় যেকোনও হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।  আগামী সাত দিনের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন ভিসি।

ভিসি বলেন, ‘আমার নিজ ক্ষমতায় বুয়েটের সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি।’ এ সময় জোর করতালিতে এ সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানান শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে, রবিবার ( ৬ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের সিঁড়ি ঘর থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই হলের শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবরারকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে যায়। পরে, রাত ২টার দিকে হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ২০১১ নম্বর কক্ষে রাত ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করা হয়।

আই.এ/

মন্তব্য করুন