ভারতের সাথে চুক্তিকে ফেসবুকে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত বলেছিলেন বহিস্কৃত আ’লীগ নেতা

প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এসব চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তেমন কোনো বিষয়ের উল্লেখ্যযোগ্য উপস্থিতি নেই। বিশেষ করে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে কোনো কথাই নেই। তার ওপর ভারতকে ফেনী নদীর পানি তোলার অনুমতি দেওয়ার চুক্তি হয়।

এছাড়া চুক্তির বাইরে রোহিঙ্গা ও এনআরসি বিষয়েও কোনো বক্তব্য নেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ অবস্থায় দেশের নানান মহলে সমালোচনা তৈরি হয়।  এসব বিষয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হয়েছেন গতকাল বুধবার।

খোদ আওয়ামী লীগেরই এক নেতা এ নিয়ে ফেসবুকে স্টাটাস দেওয়ার অভিযোগে বহিস্কার হন নিজ দল থেকে। বহিস্কৃত খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ডা. শেখ বাহারুল আলম দলের এ সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও সভাপতির একক সিদ্ধান্ত বলে অভিযোগ তোলেন।

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সাথে এ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ওইদিন যে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সে সভা পূর্বনির্ধারিত কোন সভাও ছিল না। সভায় আমার বিষয়টি নিয়ে কোনো এজেন্ডাও ছিল না। অন্য একটি বিষয়ে সভা চলছিল। সেখানে থেকে নেতাকর্মীদের ডেকে এনে অগঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুরোটাই সভাপতির একতরফা কাজ। অভিযোগ আনতে হলে সভাপতির বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনতে হয়। কারণ উনি দলের গঠনতন্ত্র নিয়মনীতি কিছুই মানেন না।

৬টি পয়েন্ট তুলে ধরে তিনি দুই দেশের এ চুক্তিকে দ্বিপক্ষীয় না বলে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেন। কী লিখেছিলেন তিনি দেখে নেয়া যাক। ডা. শেখ বাহারুল আলম এর সেই স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘ভারত – বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বলা হলেও বাস্তবে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত – বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ ও অধিকার চরম উপেক্ষিত

………………………

দুর্বল অবস্থানে থেকে বন্ধু-প্রতিম শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে -ফলাফল শক্তিধরের পক্ষেই আসে। বাংলাদেশ- ভারত উভয়-পক্ষীয় সমঝোতা স্মারক নাম দেওয়া হলেও বাস্তবে একপক্ষীয় সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হয় দুর্বল রাষ্ট্রকে।

ভারত বাংলাদেশ থেকে তার সকল স্বার্থই আদায় করে নিয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে এখনও ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারেনি।

১) দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবারের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় স্থান পায়নি ।

২) ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ হুংকার দিয়েছে নাগরিক পঞ্জীতে বাদ পড়া জনগণকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হবে। তারপরেও এবারের সমঝোতা চুক্তিতে ‘অভ্যন্তরীণ’ অজুহাতে বিষয়টি স্থান পায়নি।

৩) বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবসনের বিষয়ে ভারত কিছু বলে নি ।

৪) তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুপ থাকলেও বাংলাদেশ অংশের ফেনী নদীর পানি ত্রিপুরা রাজ্যের পানীয় জল হিসাবে প্রতিদিন ১.৮২ কিউসেক টেনে নেবে ভারত । এ বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে।

৫) বাংলাদেশের জনগণের তরল গ্যাসের চাহিদা পূরণের ঘাটতি থাকলেও ভারতে তরল গ্যাস রপ্তানির সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং যৌথভাবে সে প্রকল্প উদ্বোধনও হয়েছে।

৬) চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ভারত কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবহারযোগ্য ভারতের কোনও বন্দর সেই তালিকায় ছিল না।

অমানবিক আচরণের শিকার হয়েও বাংলাদেশ পানি ও গ্যাস সরবরাহ দিয়ে মানবিকতার প্রদর্শন করেছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার উপেক্ষিত রেখে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হয়েছে।

শক্তিধর প্রতিবেশীর আধিপত্যের চাপ এতোই তীব্র যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে কিনা আশংকা হয়। কারণ ভারতের চাপিয়ে দেওয়া সব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে মেনে নিতে হচ্ছে।

/এসএস

মন্তব্য করুন