পরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করতে গঠিত হলো ‘ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন’

প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

আলেমদেরকে সমাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে ও আরও কিছু মহৎ উদ্দিশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ‘ইকরামুল মুসলিমিন ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠাতা দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, এটি সামাজিক ও দীনি সেবামূলক সংগঠন।

তারা এই সংগঠনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, অতীতে এরকম অসংখ্য সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে, কিন্তু বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত টেকেনি। রয়েছে নানা প্রতিকূলতাও। সবকিছু জেনেবুঝেই আমরা সামনে বেড়েছি। আমরা বিশ্বাস করি— আমাদের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা গন্তব্যে পৌঁছুবে ইনশাআল্লাহ। একটি উঁচু পাহাড়ে কেউ উঠতে পারেনি, তার মানে এই নয় আমিও উঠতে পারবো না। কেউ পারেনি বলে আমরা চেষ্টা ছেড়ে দেবো না।

সংগঠনটির উদ্দিশ্য সম্পর্কে তারা বলেন, আমাদের সমাজে অগনিত অফুটন্ত প্রতিভাবান মেধা রয়েছে— যারা সুযোগের অভাবে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাবার সুযোগ পাচ্ছে না। যেমন, উঠতি বয়সি এমন অনেক মেধা রয়েছে, যারা লেখক হতে আগ্রহী, কেউ আলোচক, কেউ সাংবাদিক, আবার মেধাবী অনেক ছাত্র রয়েছে, যারা সুযোগ খোঁজে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার, কিন্তু লিংক না থাকায় অকালেই হারিয়ে যায় এই প্রতিভাগুলো। আমরা এই প্রতিভাগুলোকে সঠিক কক্ষপথে উঠিয়ে দিতে চাই।

তারা বলেন, কেবল বন্যা, শীত বা শুধু ঈদভিত্তিক সেবা নয়, আমরা পরিকল্পিতভাবে সামাজিক ও মানবিক সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই। দাঁড়াতে চাই সকল ধর্ম-মতের অসহায়দের পাশে। অবহেলিত অঞ্চলগুলোতে সাধ্যানুযায়ি অবদান রাখতে চাই। জাতির মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই— ওলামায়ে কেরামই জাতির যোগ্য রাহবার।

আরও যে মৌলিক চিন্তা ও বিষয়াদী নিয়ে “ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন”র আত্মপ্রকাশ—
১. ইসলাম, দেশ, মানবতাবিরোধী ও সামাজিক-চারিত্রিক অবক্ষয়মূলক সকল কর্মকান্ডের প্রতিবাদে কার্যকরি শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ২. যৌন হয়রানী, মাদক, শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান করা। ৩. সুবিধাবঞ্চিত/পথশিশু, অভিভাবকহীন নারী/বৃদ্ধ, সর্বহারা পরিবার ও অসহায় এতীমদের চিকিৎকসা-সহ যাবতীয় সহায়তা/সেবা প্রদান করা। ৪. প্রতিভা বিকাশে সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। ৫. উপযুক্ত, অভিজ্ঞ ও চিন্তাশীল আলেম এবং সুস্থ চিন্তাধারার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে লেখক, ওয়ায়েজ, শিক্ষক, ছাত্র ও ছাত্র রাজনীতিকদের তরবিয়াত এবং কর্মশালার আয়োজন করা। ৬. রাষ্ট্রীয় ও ইসলামিক বিশেষ দিন ও ইস্যূতে সৃজনশীল প্রোগ্রামের আয়োজন করা। ৭. পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার ব্যক্তিদের নিয়ে “হৃদ্যতার সংলাপ” আয়োজন করা। ৮. আত্মমর্যাদাশীল গরীব আলেম পরিবারের খোঁজে সফর করা এবং গোপনে সহায়তা প্রদান করা। ৯. ওলামায়ে কেরামের ঐক্য’র লক্ষ্যে কার্যকরি প্রোগ্রাম ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ১০. বছরে এক বা একাধিক আলোচনা সভা, সেমিনার, মতবিনিময় সভা ও ইসলামী মহাসম্মেলনের আয়োজন করা।

ফাউন্ডেশনটি কাদের নেতৃত্বে কিভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন ঘোষণা না এলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পরিচিত ব্যক্তিরা এ বিষয়ে পোস্ট করে তাদের সমর্থন ও কাজ পরিচালনা করার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছেন। সাথে সাথে খুব শীগ্রই এর গঠনতন্ত্রসহ পরিচালনা কমিটির নাম প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র।

মন্তব্য করুন