আসেম ওমর নিহতের দাবি ভিত্তিহীন: তালেবান

প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯

ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস

জেহাদি সংগঠন আল-কায়েদার দক্ষিণ এশিয়া শাখার প্রধান মাওলানা আসেম ওমর মার্কিন বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (০ ৮ অক্টোবর) দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তর টুইটারে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যকে এই প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) তালেবানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ক্বারী মোহাম্মদ ইউসুফ আহমাদী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে আসেম ওমরের নিহত হওয়ার খবরটি ভুয়া বলে দাবি করা হয়।

ওই দাবির সমর্থনে কোন নিরপেক্ষ সূত্রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানায় কাতার ভিত্তিক  বার্তা সংস্থা আল জাজিরা। এরপর আফগানিস্তানের ন্যাশনাল ডাইরেক্টরেট অব সিকিউরিটি (এনডিএস) জানায়, চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর হেলমান্দ প্রদেশে তালেবানের ঘাঁটিতে অভিযানে ছয় আল কায়েদা সদস্যসহ নিহত হয়েছিলেন আসেম ওমর। ওই অভিযানে অন্তত ৪০ জন বেসামরিক নিহত হয়।

কিন্তু তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে তালেবানের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আসেম ওমর নিহত হওয়ার খবরটি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি মূলত শত্রুদের প্রচারিত মিথ্যা খবর। হেলমান্দ প্রদেশের ‘মুসা কালা জেলায়’ একটি বিবাহকে লক্ষ্য করে শত্রুরা আক্রমণ চালিয়েছিল। এতে কয়েক ডজন সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছিল। এই মারাত্মক অপরাধ লুকানোর জন্যই শত্রুরা আল কায়েদা নেতা আসেম ওমর নিহত হওয়ার মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে।’ শত্রুদের অপরাধ বৈধ করার জন্যই আল কায়েদার নাম জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করে তালেবান নেতারা।

ওমর ছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের সাম্ভাল অঞ্চলের দীপা সারাই এলাকার অধিবাসী। সেখানে তিনি সানাউল হক আলিয়াস সান্নু নামে পরিচিত ছিলেন। ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্ব সন্ত্রাস’ বলে ঘোষণা দিলে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তানে চলে যান তিনি। উত্তর প্রদেশের দারুল উলুম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেন ওমর। এরপর ভর্তি হন পাকিস্তানের ‘ইউনিভার্সিটি অব জিহাদ’ নামে পরিচিত নাওসেরার দারুল উলুম হাকানিয়া মাদ্রাসায়। জিহাদি সাহিত্য ও সমরাস্ত্র প্রশিক্ষণের পর হারকাত-উল-মুজাহিদীনে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে পাকিস্তানের তাহরিক-ই-তালেবানে (টিটিপি) চলে যান। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) শাখা গঠন করে সংগঠনটির নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। সেবছরই তিনি এই শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন ওমরকে।

আই.এ/

মন্তব্য করুন