৮ দফা দাবিতে বুয়েটের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

আবরার হত্যা

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৯

আবরার হত্যার প্রতিবাদে ৮ দফা দাবিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ক্লাস-পরীক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, আবরার হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

আবরারের খুনিদের ফাঁসিসহ ৮ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রথমে তারা বুয়েট শহীদ মিনারে জড়ো হন। পরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে আবরারের খুনিদের বিচার দাবি করেন। পরে আট দফা দাবির কথা জানান।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দবিগুলো হলো-
>খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
>৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে।
>আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগ এর নামে এবং ভিন্নমত ধমানোর নামে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
>ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পরও ভিসি কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে তার জবাব দিতে হবে।
>আবরার হত্যা মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
>এর আগের ঘটনাগুলোর বিচার করতে হবে।
>১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করতে হবে।
>ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

এছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে বুয়েট সব ছাত্রসংগঠনের সাংগঠননিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে আসলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের জন্য তার কাছে দাবি জানান।

অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে ঘিরে ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘স্যার, যে ঘটনা ঘটলো ক্যাম্পাসে। তাতে আপনি ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেবেন কিনা’। এসময় সন্তোষজনক জবাব দিতে না পেরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।

পরে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই। এছাড়াও আমাদের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই’। এসময় শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এরপর শিক্ষার্থীরা বুয়েট উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে আসার জন্য ছাত্রলকলাণ পরিচালককে অনুরোধ করেন।

প্রসঙ্গ, রোববার রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটায় শাখা ছাত্রলীগের নেতারা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

এঘটনায় ছাত্রলীগের ১০নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার (৯ অক্টোবর) রাতে আবরার হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার বাবা বরকত উল্লাহ। আটক ১০ জনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম।

অন্যদিকে হত্যাকণ্ডে সম্পৃক্ততা পাওয়া বুয়েট ছাত্রলীগের ১১জনকে বহিস্কার করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ। সোমবার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র গঠিত তদন্তদ কমিটির প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শাখা ছাত্রলীগের ১১জনকে বহিস্কারের কথা জানায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

/এসএস

মন্তব্য করুন