পূজার শুভেচ্ছা: দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৯

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজা আসন্ন। পূজা উপলক্ষ্যে মুসলমান সম্প্রদায়ের আগ্রহ, উদ্দীপনা, অংশগ্রণ কিংবা শুভেচ্ছা জানানো ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ কিনা এ ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা থেকে দেওয়া ফতোয়ায় বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দূর্গা পূজায় মুসলামনদের অংশগ্রহণ চাই যেকোনোভাবে হোক সেটা নাজায়েজ। পূজা উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানানো কিংবা অর্থ প্রদান করা, প্রাসাদ খাওয়া অথবা শারিরীকিভাবে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে হারাম। এমনকি দেখার জন্যও পূজায় যাওযা মুসলমানদের জন্য নাজায়েজ।

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো, পূজায় চাঁদা দেয়া, অংশগ্রহণ করা এবং প্রসাদ খাওয়া মুসলিমদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয

ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে দেওবন্দ মাদ্রাসায় এই মর্মে প্রশ্ন প্রেরণ করা হয় যে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কী আমরা শুভেচ্ছা জানাতে পারবো, পূজায় টাকা দিতে পারবো, অমুসলিমদের এসব উৎসবে অংশগ্রহণ করা এবং তাদের প্রসাদ খাওয়া কী আমাদের জন্য জায়েয হবে কিনা?

জবাবে মাদারে ইলমী দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ থেকে বলা হয়, অমুসলিমদের অনুষ্ঠান ও উৎসবগুলো তাদের শিরকযুক্ত আকীদা-বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়ে থাকে।

তাই আমাদের জন্য জরুরি হলো, মুশরিকের সাথে সম্পর্কহীনতার প্রকাশ করা। আর যেহেতু শুভেচ্ছা জানালে তাদের চিন্তা চেতনা ও আকীদার সমর্থন হয় সেহেতু এর থেকে বিরত থাকা আমাদের জন্য আবশ্যক। অনেক সময় এটা ঈমান চলে যাওয়ার কারণও হতে পারে।

(ফতোয়া নং ১৪৫৬৪৯, লিঙ্ক: http://www.darulifta-deoband.com/home/ur/World-Religions/145649

পূজা হিন্দুদের একটি বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তাদের প্রোগ্রামে চাঁদা দেয়া কুফর, শিরক এবং নাজায়েয কাজে সাহায্য করার নামান্তর। এটা কুরআনের আলোকে সম্পূর্ণ নাজায়েয।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ.

‘আর তোমরা গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সাহায্য করো না’। (সূরা মায়িদা: আয়াত ২)।

[ফতোয়া নং ১৫৫২৬৪, লিঙ্ক: http://www.darulifta-deoband.com/home/ur/Islamic-Beliefs/155264

এমনিভাবে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাও হারাম। পরস্পর সম্পর্কের ভিত্তিতে হোক অথবা চাপে পড়ে; কোনো অবস্থাতেই যাওয়া জায়েয নয়।

ঘুরেফিরে দেখার জন্যও যাওয়া যাবে না। কুরআনে পাকের হুকুম

وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّار.

‘আর পাপিষ্ঠদের (কাফেরদের) প্রতি (তাদের ধর্মীয় বিষয়ে ও কাজে শরীক হয়ে কিংবা সাদৃশ্য রেখে) ঝুঁকবে না।
নতুবা তোমাদেরও আগুনে ধরবে’। (সূরা হূদ: আয়াত ১১৩)।

তাদের প্রতি সামান্য ঝুঁকলে এবং তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখলেই যদি জাহান্নামে যাওয়ার শঙ্কা থাকে তাহলে তাদের কুফরি ও শিরকি উৎসবে অংশগ্রহণ করা তো আরও মারাত্মক হবে।

তেমনিভাবে তাদের অনুষ্ঠানে দেব-দেবি এবং ভূতের নামে যেসব মিষ্টি ও প্রসাদ উৎসর্গিত করা হয়, সেগুলোও খাওয়া জায়েয নয়।

(ফতোয়া নং ৬২৪৬৪, লিঙ্ক: http://www.darulifta-deoband.com/home/ur/Islamic-Beliefs/62464

(ফতোয়া নং ৬৩৯৫০, লিঙ্ক: http://www.darulifta-deoband.com/home/ur/Halal–Haram/63950

(বি.দ্র. মূল ফতোয়া দেখার জন্য উর্দুু ভার্সন লক্ষ্য করুন)

/এসএস

মন্তব্য করুন