জাতিসংঘে ইমরান খানের ভাষণ ও ফজলুর রহমানের রাজনীতি

প্রকাশিত: ৭:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৯

পাকিস্তানের ফজলুর রহমান সাহেব ক্ষমতার লোভে অনেকটাই বিকৃত ধরণের কাজকর্ম করছেন এটা বুঝতে প্রচুর জ্ঞানী হওয়া লাগে না। তার অবস্থা অনেকটাই ভারতের এক জমিয়ত নেতা এবং বাংলাদেশে রাজনীতি করা বয়োঃবৃদ্ধ আলেমদের মত যারা একটু ক্ষমতা পাবার নেশায় জাতী, ধর্ম, দেশ কোনকিছুর স্বার্থকেই খুব একটা তোয়াক্কা করছেন না। কিন্তু এভাবে নিজেদের স্বকীয়তা নষ্ট করে শেষ পর্যন্ত যে অপমানের জীবন যাপন করতে হয় সেটা হয়ত মনে রাখেন না তারা।

ফজলুর রহমান সাহেব এর আগেও একুল-ওকুল ধরে অনেক চেষ্টা করেছেন ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে কিন্তু পারেননি। এখন যেভাবে ইন্ডিয়ার স্বার্থ রক্ষা করে কথা বলে যাচ্ছেন তাতে হুট করে তিনি ক্ষমতায় চলে আসলে আসতেও পারেন; এমন স্বপ্নই তিনি দেখছেন। কারণ পাকিস্তানের রাজনীতিতে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ সব সময়ই সমানভাবে আছে এবং থাকবে কারণ পারমানবিক শক্তিধর একটি দেশকে তারা কখনও হাতছাড়া করতে দেবে না। আর পশ্চিমা শক্তির কাছে ভারত এখন নির্ভরযোগ্য পালিতু কুকুরে পরিণত হয়েছে বলা যায়।

ফজলুর রহমান সাহেবের বিরোধিতা ইমরান খানের জাতিসংঘে দেওয়া অনবদ্য ভাষণের বিপক্ষে বলার কারণে করছি বিষয়টি তেমন না বরং জাতিসংঘে ইমরান খানের দেওয়া এই ভাষণের গুরুত্ব আমার কাছে তেমন নেই। ভাষণ প্রথম দিনই শুনেছি এবং ভালোও লেগেছে কিন্তু বর্তমান এই বুদ্ধিভিত্তিক লড়াইয়ের পৃথিবীতে এসব মিষ্টি কথা আর ভাষণে খুব একটা লাভবান হওয়া যায় না। কিন্তু তথাপিও জাতিসংঘের মত একটি জায়গায় মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন সুন্দর বক্তব্য ইতিপূর্বে কেউ দেয়নি এটা নির্বিঘ্নে স্বীকার করে নিতে হবে এবং ইমরান খানকে অনেক বড় ধন্যবাদ দিতে হবে।

বাকি মাওলানা ফজলুর রহমানের বিরোধিতার মূল কারণ হলো তিনি নির্বাচনের হেরে যাওয়ার পর থেকেই যেসব ভূমিকা পালন করছেন তা অনেকটাই ক্ষমতালোভী রাজনৈতিকদের মতো কার্যক্রম। ইমরান খানের বিরোধিতায় তিনি লংমার্চ আহবান করেন কিন্তু কাশ্মীর ইস্যূতে তার কোনো কঠোর অবস্থান থাকে না। একটি পারমানবিক শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধী দলের ভূমিকা যে কেবলই রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট হতে হয় এই সহজ লাইনটি ফজলুর রহমান সাহেব বুঝতেই চাচ্ছেন না সম্ভবত।

জাতিসংঘের এবারের সাধারণ অধিবেশনে পাকিস্তান সবচেয়ে সফল হয়েছে তার প্রমান হলো ভারতীয় মিডিয়ার পাকিস্তানের ইমরান খানকে নিয়ে প্রচুর বিশ্লেষণ। সেই সাথে সাথে জাতিসংঘে এবার সবচেয়ে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যূতে বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের ভোটটা পর্যন্ত আনতে পারেনি তারা। এটা একটা বড় কুটনৈতিক ব্যর্থতা।

পাকিস্তান তুরস্ক এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ইস্যূতে যেই সম্মিলিত ভূমিকার আওয়াজটুকু শোনা যাচ্ছে এটা বাস্তবায়ন হলেও মুসলিম বিশ্বের জন্য অনেক কাজ হবে। সবচেয়ে বেশি যেটা চাচ্ছি তা হলো পাকিস্তানের কাছ থেকে পরমানু শক্তির সম্পূর্ণ ফর্মূলা তুরস্ক এবং মালয়েশিয়া পেয়ে যাক। যদিও পাকিস্তান নিয়ে এসব কথাবার্তায় এদেশের ভারতীয় দালালদের কলিজায় আগুন ধরে যায়। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে ধর্মীয় পরিচয় সবচেয়ে বড়। এবং তাদের বর্তমান ভূমিকা বৈশ্বিকভাবেই ইসলাম ধর্মের উপকার করছে।

তাছাড়া ভারতের দালালী করা বাংলাদেশে এক ধরণের একটা আর্ট! বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন ধাপে ধাপে ইন্ডিয়ার দালালরা তাদের মত-মতামত প্রকাশ করে থাকে অনেকটাই শৈল্পিক আকারে। যেখানে এমন সব যুক্তি আর কথাবার্তা থাকে যা শুনলে সেই মীর জাফর আর লেন্দুপ দর্জিদের কথা খুব মনে পড়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দ্বিতীয় প্রজন্ম বলে একটি কথা আছে আমাদের দেশে অর্থাৎ এটা বলে আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা যারা নিজের মধ্যে লালন করে থাকে তাদের বুঝিয়ে থাকি। বর্তমান এই দ্বিতীয় প্রজন্মের মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা লালন করে এবং বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে ৯৯% মানুষই বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থানের বিরোধী। অনেকে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারে অনেকে পারে না। অপরদিকে ৭১ সালে পাকিস্তানের দালালী করা যে গোষ্টিটা ছিলো তাদের চেতনায় যারা বিশ্বাসী তারাই এখন ভারতের তাবেদার দালালে রূপ নিয়েছে বলেই যুক্তির দাবি।

সোজা বাংলায় যুক্তিটা হলো, বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে যাচ্ছে ভারত। পেয়াজ না দিয়ে ক্ষতি করছে বিষয়টা এমন নয় বরং ভারতের কোনো পণ্য বাংলাদেশে না আসা এটা বাংলাদেশের জন্যই লাভ। ভারত বাংলাদেশে যখন তার ‘মা’ (গরু) দেওয়া বন্ধ করলো তখন বাংলাদেশ গরু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন হয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সব বিষয়েই এমনই হবে। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের সাথে যে সতিনের ব্যবহার করে তা নিয়ে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত এখন। বাংলাদেশের প্রতি ভারতের চাঁপ সৃষ্টি করার খুব একটা পয়েন্ট কোনোভাবেই নেই বরং বাংলাদেশ কঠোর হলে ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত প্রদেশগুলো অল্পতেই স্বাধীন হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ভারত থেকে খুব একটা কিছু আদায় করতে পারেনি কখনোই। কিন্তু ভারত বাংলাদেশকে চুষে নিয়েছে সব সময়। অথচ এদেশের ভারতের দালালরা বর্তমানে বিভিন্ন হাস্যকর যুক্তি দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করবে যে, বাংলাদেশের উচিত ভারতের প্রতি লয়্যালিটি প্রকাশ করে যাওয়া কিন্তু এটা যে একটা মেরুদন্ডহীন কথা এটা তারা আগেও বুঝেনি এখনো বুঝবে না।

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। পাবলিক ভয়েস-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য পাবলিক ভয়েস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

/এসএস

মন্তব্য করুন