বিপিএল নিয়ে বিসিবির শঙ্কা

প্রকাশিত: ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৯

আগামী ৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা সপ্তম বিপিএল। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বাদ দিয়ে এবারের প্রতিযোগিতা ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ নামে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই টুর্নামেন্টের পর্দা উঠতে আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকলেও নানা জটিলতায় এবারের আসরটি আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দল গঠন ও দল পরিচালনা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। এসব কাজের দায়িত্ব বিসিবি তুলে নিয়েছে এককভাবে।

নতুন ফরম্যাটে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জায়গা নেবে স্পন্সররা। কিন্তু সেই স্পন্সর কারা হবে? তা সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারণ করে ফেলার কথা। কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোনও ঘোষণা আসেনি। এমনকি বিসিবি কয়টি দল চালাবে, নাকি সবগুলো দলই স্পন্সর করা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এটাও অস্পষ্ট।

বিসিবির পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য জালাল ইউনুসও জানাতে পারলেন না বিস্তারিত। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আমার জানা মতে ৬টি কোম্পানি স্পন্সর হিসেবে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে’। কিন্তু এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি তাদের নাম।

এদিকে স্পন্সরশিপের ৬টি আবেদন জমা পড়লেও দল তো ৭টা! তবে বাকি একটি দল কি বিসিবি পরিচালনা করবে? স্পন্সরদের কেউ যদি কোনও কারণে অযোগ্য প্রতিপন্ন হন বা যদি তাদের সঙ্গে শর্তে না মেনে নেয়, তাহলে সেই সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে।

জালাল ইউনুস অবশ্য বলেন, ‘স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কী দায়িত্ব, তারা কী কী করতে পারবে সবকিছুই আমাদের পরিকল্পনায় আছে। প্রক্রিয়াগুলো শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। এখন সময় লাগলে তো কিছু করার নেই। সময়মতো কাজ না হলে বিপিএল পিছিয়ে যাবে, এইতো!’

সহজে বড় মানের বিদেশি ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের এই প্রতিযোগিতায় আর ভরসা রাখবেন কিনা এনিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন। এনিয়ে জালাল ইউনুস জানালেন, ‘চাইলে বিদেশি ক্রিকেটারদের তারাও (স্পন্সর প্রতিষ্ঠান) আনতে পারবে।’

নতুন মেয়াদে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বোর্ড প্রধানের সিদ্ধান্তের পর এখন পর্যন্ত এগোয়নি কিছুই। ক্রিকেট অঙ্গনে তাই ঘুরতে শুরু করেছে একটা প্রশ্ন- বিপিএল এবার হচ্ছে তো? আরও অস্বস্তির ব্যাপার এই যে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিপিএলের দায়িত্বরত কর্তাব্যক্তিদের বলতে গেলে কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য জালাল ইউনুস আর ও জানিয়েছেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা কিছুই জানি না। তবে বোর্ড প্রধান হয়তো খুব শিগগিরই সভা ডাকবেন। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। সত্যি কথা বলতে আমি তো বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য। চেয়ারম্যান আছেন, সদস্য সচিব আছেন তারা আসলে ভালো বলতে পারবেন।’

যথাসময়ে বিপিএল না হলে দেশের ক্রিকেটই ক্ষতিগ্রস্থ হবে! কেন না আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ। সেই হিসেবে চলতি বছর বিপিএলটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনিয়ে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বিপিএল তো হওয়ার কথাই! না হলে অবশ্যই আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়। কেন না আগামী বছর আমাদের বিশ্বকাপ। তার আগে বিপিএল প্রস্তুতির বড় মঞ্চ। আশা করি যথাসময়েই বিপিএল হবে এবং আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রা এখানে বিদেশি বড় তারকাদের সঙ্গে খেলে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবে।’

আই.এ/

মন্তব্য করুন