ডাকসুর অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত ছাত্র জনতা মানবে না: সমমনা ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯

ডাকসু কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমমনা ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের আহ্বানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমমনা ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক, গণবিরোধী ও এখতিয়ার বহির্ভূত। ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যূষিত দেশে এহেন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে ডাকসুর কতৃত্ববহির্ভূত এ সিদ্ধান্ত প্রতিহত করা হবে। ডাকসুর ধর্মবিরোধী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।

আজ রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুরানা পল্টনস্থ মজলিস মিলনায়তনে বাংলাদশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নির্ধারণে সমমনা ছাত্র সংগঠনের বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এদেশে ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির অবস্থান অনস্বীকার্য। ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে ধৃষ্টতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত ডাকসু বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তা আইনগতভাবে সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। কেননা ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোন আইনগত এখতিয়ার ডাকসু বা কোন ছাত্রসংগঠনের নেই। অন্যদিকে এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সংবিধান-পরিপন্থী। যেখানে বাংলাদেশের সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আছে, সেখানে দেশের অভ্যন্তরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে ইসলামি রাজনীতি বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি মনসুরুল আলম মনসুরের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ মনির হোসাইনের পরিচালনায় ছাত্র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করিম মারুফ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাকির হোসাইন, ইসলামী ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হুজায়ফা ইবনে ওমর, তালামিযে ইসলামীয়ার সহ সভাপতি মাসুম আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বর্তমান জনবিচ্ছিন্ন সরকারের ছাত্র সংগঠন শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজীসহ নানা ধরণের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। সরকার দলীয়দের ছত্রছায়ায় ক্যাসিনোর নামে মদ, জুয়া, হাউজিতে সয়লাব দেশ। সম্প্রতি নৈতিক অপরাধের কারণে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকার ও সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন নিজেদের ব্যর্থতা ও অপকর্ম ঢাকার জন্যে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধের নামে ইসলামী ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে চায়। এটা ইসলামের উপর মারাত্মক আঘাত।  ৯২ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এ ভূখন্ডে ইসলামের উপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না।

ডাকসু’র বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশের সংবিধানে সকল নাগরিককে মত প্রকাশ ও সংগঠন করার অধিকার দিয়েছে। ডাকসু দেশের নাগরিকদের সেই সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন বিচ্ছিন্ন জনপদ নয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে প্রসংশনীয় ভূমিকা। ডাকসু’র এ ধরণের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিবে।

নেতৃবৃন্দ, ঢাকসু’র বৈঠকে গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ও স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক মুহাম্মদ শাহীন, অফিস ও প্রচার সম্পাদক বিলাল আহমদ চৌধুরী, ইশা ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুজ জাহের আরেফী, বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মোঃ জহিরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল গাফফার,কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও নারায়নগঞ্জ মহানগর সভাপতি শাব্বির আহমাদ, কেন্দ্রীয় জোন সদস্য শাহ শিহাব উদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সেক্রেটারি কেএম ইমরান হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেক্রেটারি ইবনে সালমান।

/এসএস

মন্তব্য করুন