ভারতে দু’দিনে ষাটের বেশি শিশুর মৃত্যু; কাফিলকে নির্দোষ ঘোষণা

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে পর পর দু’দিনে ষাটের বেশি শিশুর মৃত্যু। বছর দু’য়েক আগে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের বাবা রাঘব দাস মেডিক্যাল কলেজের (বিআরডি হাসপাতাল) এই ঘটনা দেশ জুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। সেই কাণ্ডে ওই হাসপাতালেরই চিকিৎসক কাফিল খানকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু, তার দু’বছরের মাথাতেই ঢোঁক গিলতে হল উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কাফিল খানকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রায় সমস্ত বড় ধরনের অভিযোগ থেকেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাকে। সেই রিপোর্ট হাতে পেয়েই ফুঁসে উঠেছেন ওই চিকিৎসক। যোগী সরকারের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে সিবিআই তদন্তেরও দাবি তুলেছেন। বছক দু’য়েক আগে বিআরডি হাসপাতালের যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কর্তব্যে অবহেলার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল, বৃহস্পতিবার সেই কাফিল খানকেই প্রায় সব অভিযোগ থেকেই রেহাই দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

ওই দিনই ১৫ পাতার ওই রিপোর্ট কাফিল খানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিলেই সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেন তদন্তকারী আইএএস অফিসার হিমাংশু কুমার। কী বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে? তদন্ত রিপোর্ট জানাচ্ছে, কাফিল খান কর্তব্যে অবহেলা দেখাননি। তিনি হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও যুক্ত ছিলেন না।

অক্সিজেন যে বাড়ন্ত তাও কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। তদন্ত রিপোর্টে এ-ও বলা হয়েছে, বিপর্যয়ের সময় নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে হাসপাতালের সাতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করেছিলেন চিকিৎসক কাফিল খান।তবে, সরকার প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেওয়া সত্ত্বেও তিনি ২০১৬ সালের অগস্ট মাস পর্যন্ত তা চালু রেখেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।

দু’বছর বাদে শাপমুক্তি। মাথার উপর থেকে অভিযোগের পাহাড় সরে যাওয়ার পর কাফিল খান বলেন, ‘সব সময়ই জানতাম, আমি কোনও অপরাধ করিনি। দুর্ঘটনার দিন এক জন চিকিৎসক, এক জন বাবা এবং এক জন ভারতীয় হিসাবে আমি আমার সেরাটা দিয়েছি। শিশুদের বাঁচানোর জন্য আমার চেষ্টা সত্ত্বেও আমাকে গরাদের পিছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যম আমার দুর্নাম করেছে। আমার পরিবারকে দুর্বিষহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।’

আইএ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন