পুলিশ পেল বৈধ কাগজ, র‍্যাব ধরল অবৈধ মাদক

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

ফু-ওয়াং ক্লাবে পুলিশের পরে র‌্যাবের অভিযান

পুলিশ পেল বৈধ কাগজ, র‍্যাব ধরল অবৈধ মাদক। রাজধানীর গুলশান তেজগাঁও লিংক রোডের ফু-ওয়াং ক্লাবে পুলিশের অভিযানে কাগজপত্রের বৈধতা মিললেও পরে র‍্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনজনকে আটকসহ ক্লাবটি সিলগালা করে দিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।  

গতকাল বুধবার রাত ১২টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ক্লাবটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ক্লাবটিতে মাদকের অনুমোদন ও পরিমাণ যাচাই করতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও সহায়তার জন্য ডাকে র‌্যাব। সকাল সাড়ে ৬টায় অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

অভিযান শেষে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ফু-ওয়াং ক্লাবে রাতভর অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, সিগারেট ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ২০০ বোতল মদ আর ১০ হাজারের বেশি বিয়ারের ক্যান। যার সবই অবৈধ ও অনুমোদনহীন।

তিনি বলেন, এখন যে জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ, যেকোনো অবৈধ জিনিসের সঙ্গে যদি বৈধ জিনিস থাকে তাহলে পুরো জিনিসটাই কিন্তু অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। একই সঙ্গে একটা ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে কিন্তু একটা সুনির্দিষ্ট পরিমাপ থাকে যে একটা ট্রেড লাইসেন্সে কি পরিমাণ বিয়ার বা মদ থাকবে। সেই পরিমাপের কোনো মাত্রা এখানে ছিল না এবং অধিক মাত্রায় মদ এবং বিয়ার আমরা পেয়েছি।’

ফু-ওয়াং ক্লাব তাদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হয়নি বলে অভিযোগ করে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘এখানে বিদেশি কিছু সিগারেট আছে যেগুলো আমদানি নিষিদ্ধ। এর কোনো বৈধ কাগজপত্র তারা আমাদের দেখাতে পারেনি।’

এএসপি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযান থেকে আমরা তিনজনকে আটক করেছি। এই তিনজনসহ ক্লাবটির মালিকের বিরুদ্ধে মাদক ও বিশেষ আইনে মামলা করা হবে। এছাড়া ক্লাবটি সিলগালা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যে কর্মচারীরা আছেন যাদের মাদক বিক্রি করার জন্য লাইসেন্স থাকার কথা ছিল সেগুলো সঠিকভাবে নেই। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রজু করব।’

র‌্যাবের এই পরিচালক বলেন, ‘মামলায় প্রধান আসামি অর্থাৎ এই ক্লাবের যে স্বত্বাধিকার মো. শেখ নুরুল ইসলাম তার ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী আমরা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করব। তার বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের কবর। এবং যে তিনজন কর্মচারী আছেন ম্যানেজার, বার টেন্ডার তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের করছি।’

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ক্লাবটির বারে কোনো ধরনের অসঙ্গতি পাননি পুলিশ সদস্যরা। অভিযান শেষে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছিলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ বারে রাখা লিকারের কাগজপত্র দেখিয়েছে। তাদের সব কাগজপত্র ঠিক আছে।

জিআরএস/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন