অবসাদের উপসর্গ ও মুক্তির উপায়

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

আপনি কি অবসাদে ভুগছেন? অবসাদ মানে হলো দীর্ঘদিনের মানসিক চাপে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল বোধ করা। যদি আপনি দুর্বল বোধ করেন, শক্তি কমে গেছে মনে হয়, মনোযোগে ব্যাঘাত হয়, অনুপ্রেরণার অভাব দেখা দেয়, তাহলে অবসাদে ভুগছেন ধরে নিতে পারেন। অবশ্য এ পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ঘুমের ঘাটতি হয়েছে ভেবে ভুল বুঝতে পারেন।

পৃথিবীর সব দেশেই মানুষ এ ধরণের অবসাদে ভুগে থাকেন। বেশ কিছু কারণেই অবসাদ আসতে পারে আপনার মাঝে। তবে এটি কোনও রোগ নয়, বরং এক ধরণের মানসিক ও শারীরিক পরিস্থিতি, যদিও অনেক রোগের লক্ষণের সাথে এ পরিস্থিতির মিল পাওয়া যায়। এক জরিপে জানা গেছে, বিশ্বের প্রায় সব কর্মক্ষেত্রেই ৯৭ শতাংশ মানুষের মাঝে অবসাদের কোনো না কোনো লক্ষণ দেখা যায়।

অবসাদের উপসর্গ: কিছু ক্ষেত্রে অন্য কোনো রোগের কারণে অবসাদ দেখা দিতে পারে। তবে যেসব উপসর্গ দেখলে বুঝবেন আপনি অবসাদগ্রস্ত, সেগুলো হলো-

১) দুর্বলতা

২) অল্প শারীরিক কাজেই ক্লান্ত বোধ করা

৩) হাইপারসোমনিয়া বা অতিরিক্ত ঘুম

৪) কাজ শুরু করা বা চালিয়ে যেতে আগ্রহ না পাওয়া

৫) চেতনাবোধ কমে যাওয়া

৬) সব সময় পরিশ্রান্ত বোধ করা

৭) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

৮) হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া

৯) উচ্চতা ভীতি

১০) ত্বক শুকনো থাকা

এসব উপসর্গের দেখা পেলেই অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জেনে রাখুন অবসাদ আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেও পারে। সূত্র: বোল্ডস্কাই, ছবি: আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন।

মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তির ১০ উপায়

সুখ লাভের জন্য খাদ্য

অবসাদে আক্রান্ত হলে লোকের খাবারের রুচি কমে বা বেড়ে যায়। কিন্তু সঠিক খাবার খাওয়ার মাধ্যমে অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাটাই উত্তম। মানসিক অবসাদে আক্রান্ত থাকাকালীন সময়ে বাদাম, জাম জাতীয় ফল, কালো চকোলেট, টমেটো, শাক-সবজি, নারকেল, মধু, শস্যজাতীয় খাবার খান। এসব খাবার দেহে এন্ডরফিন নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা আপনার সুখানুভুতি বাড়িয়ে দিবে।

ধুমপান ত্যাগ করুন

সম্প্রতি ৩ হাজার মানুষের উপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে ধুমপায়ীদের জীবনভর অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে ৬.৬ শতাংশ। অধুমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির পরিমাণ মাত্র ২.৯ শতাংশ। ওই জরিপে আরো দেখা গেছে পুরুষ ধুমপায়ীদের ৭০ শতাংশ এবং নারী ধুমপায়ীদের ৮০ শতাংশ জীবনে অন্তত একবারের জন্য হলেও বড় ধরনের অবসাদের আক্রান্ত হন।এছাড়া ৩০ শতাংশ ধুমপায়ীর মাঝেই মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার নানা উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়। এর মূল কারণ নিকোটিন। নিকোটিনের মাত্রায় হেরফের হওয়ার ফলে মানুষের মস্তিষ্কে উদ্বেগ বেড়ে যায়। আর উদ্বেগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে মানসিক অবসাদ সৃষ্টির যোগসাজশ রয়েছে।

শরীরচর্চা

গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক অবসাদে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দেড় ঘন্টা করে ব্যায়াম করছেন তাদের অবসাদ কমে আসছে। এর ফলে অবসাদের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিও কমে আসে।

জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব লোকের খাদ্যতালিকা ভাজা-পোড়া খাবার, প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংস, মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারে পরিপূর্ণ থাকে তাদের মাঝে অবসাদের লক্ষণ দেখা দেওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। জাঙ্ক ফুড মানসিক অবসাদ সৃষ্টির পাশাপাশি কারো আচরণকে বিরক্তিমূলক এবং আগ্রাসীও করে তুলতে পারে।

বেশি রাত জাগা অভ্যাস ত্যাগ করুন

গভীর রাত পর্যন্ত কম্পিউটার স্ক্রিন বা টিভির সামনে বসে থাকা অথবা ঘুমের সময় টিভি বা কম্পিউটার খোলা রাখার ফলে অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায়ে দেখা গেছে।

বাইরে বেড়াতে যান

যদি মানসিক সুখানুভুতি বাড়াতে চান তাহলে দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ সেরোটোনিন নিঃসরণের বিষয়টি নিশ্চত করুন। আর সেরোটোনিন নিঃসরণের মাত্রা ঠিক রাখতে দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যের তাপ লাগাতে হবে। ফলে যখনই আপনার মানসিক অবসাদ অনুভুত হবে ঘরের বাইরে বের হয়ে ঘোরাঘুরি করুন এবং সূর্যের আলোয় নিজেকে সিক্ত করুন।

ইতিবাচক মনোভাবের লোকদের সঙ্গে সময় কাটান

নিঃসঙ্গতা আপনার মানসিক অবসাদকে আরো বাড়িয়েই চলবে। সূতরাং ইতিবাচক, প্রাণোচ্ছল লোকদের সঙ্গে সময় কাটান। এতে আপনার অবসাদ কমে আসবে। কোনো শরীরচর্চার ক্লাব বা সখের গ্রুপে যোগ দিন।

নেতিবাচক চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন

অবসাদের ফলে আপনার মাঝে অতিরিক্ত নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে। এ থেকে দূরে থাকা খুবই কঠিন। কিন্তু নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ত্যাগ করে আরো ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তা করুন। এতে আপনার মানসিক সুখ বাড়বে। ইতিবাচক মনোভাবের মানুষদের সান্নিধ্যে থাকা, বদঅভ্যাস ত্যাগ করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আপনাকে অবসাদ থেকে মুক্ত করতে বিস্ময়করভাবে কাজ করবে।

দুঃখের গান শোনা থেকে বিরত থাকুন

মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হলে যে কারো মাঝেই দুঃখের গান শোনার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু সুস্থ হতে চাইলে এ ধরনের প্রবণতা ত্যাগ করুন। কারণ বিষাদের গান শুনলে আপনার জন্য দুঃখের স্মৃতিগুলো ভোলা কঠিন হয়ে পড়বে। সূতরাং অবসাদের সময় সুখের গান শুনুন। এতে দেখবেন আপনার দিনগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

অ্যালকোহল ও ড্রাগস পরিহার করুন

অবসাদের সময় হয়তো আপনি সাময়িক প্রশান্তি লাভের জন্য লোভে পড়ে মদ পান বা মাদক সেবন করতে পারেন। কিন্তু এই সাময়িক প্রশান্তি দীর্ঘমেয়াদে অশান্তি ডেকে আনতে পারে। মাদক মূলত অবসাদ সৃষ্টিকারী দ্রব্য। ফলে মাদক গ্রহণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে উঠতে পারে। আর মাদকাসক্তি আত্মঘাতি চিন্তা-ভাবনার উদ্রেক এবং পুরো জীবনব্যাপী অবসাদে আক্রান্ত করে রাখতে পারে আপনাকে।

আই.এ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন