আমেরিকাকে সভ্যতা শেখালো ইরান

প্রকাশিত: ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ তার মার্কিন সমকক্ষ মাইক পম্পেও’কে উদ্দেশ করে বলেছেন, “আপনি ‘সভ্য’ কাকে বলে জানেন?” তিনি আরও বলেছেন, যারা ড্রোন পাঠিয়ে বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তারা কি সভ্য? মাইক পম্পেও শুক্রবার এক টুইটার বার্তায় লিখেছিলেন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ বিশ্বের সব সভ্য দেশের উচিত ইরানের ‘পারমাণবিক চাঁদাবাজি’ বন্ধ করার লক্ষ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আজ রোববার ইরানি গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।

খবরে জানানো হয়, পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে পাশ্চাত্যের গড়িমসির প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুক্রবার তৃতীয় পর্যায়ে ওই সমঝোতার আরও কিছু ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পর পম্পেও টুইটারে ওই পোস্ট প্রকাশ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ তার অফিসিয়াল টুইটার পেজে লিখেছেন, “আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অন্য দেশের জাহাজে ডাকাতি করাকে কি সভ্য আচরণ বলে? মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ হত্যার লক্ষ্যে এ অঞ্চলের দেশগুলোর কাছে সমরাস্ত্র পাঠানো কি অসভ্যতা নয়?” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ওরা সভ্য নাকি হাজার হাজার বছরের সভ্যতার অধিকারী যে দেশটি (ইরান) বিগত কয়েকশ’ বছরে কারো ওপর আগ্রাসন চালায়নি তারা সভ্য?”

ড. জারিফ এর আগের টুইটার বার্তায় পম্পেও’কে উদ্দেশ করে বলেন, “মিস্টার পম্পেও আপনি জানেন কি চাঁদাবাজি ঠিক কি জিনিস? জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করা এবং যে দেশটিতে তা মেনে চলে তাকে শাস্তি দেয়ার নাম চাঁদাবাজি নয়?”ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওকে উদ্দেশ করে আরো লিখেছেন, “বরং চাঁদাবাজি হচ্ছে ইরানি জনগণ আত্মসমর্পন না করলে তাদেরকে অভুক্ত রাখার হুমকিকে চাঁদাবাজি বলা যায়।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন যখন তার দেশ ২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়ে মূলত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। এই পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করার অপরাধে এই আমেরিকা এর আগে বিশ্বের বহু দেশে হামলা চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে।

আই.এ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন