বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ১৪ দল

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দন্ডিত পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য খলনায়কদের মুখোশ উন্মোচন করার দাবি তোলা হয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে। ১৪ দলের পক্ষে এ দাবি তোলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। সভায় ১৪ দলের বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এতে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে তারা কি করে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আশ্রয় দেয়? আইনের ফাঁকফোকড় দেখিয়ে তাদের ফেরত না পাঠানোয় বিস্ময় ও ক্ষোভ জানান তিনি। নাসিম বলেন, ৭১ এর ঘাতকদের বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরও বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে।

সভায় দেশগুলোর প্রতি বঙ্গবন্ধু হত্যার পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এ প্রেসিডিয়াম সদস্য।

হাসানুল হক ইনু:

হাসানুল হক ইনু বলেন, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের পক্ষে যারা উচ্চকন্ঠ, যারা অন্যদেশের গনতন্ত্র মেপে দেখেন কারা খুনিদের আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন। এমন অভিযোগ করা যেতেই পারে । এবং কানাডায় , আমেরিকার , লন্ডনে কি করে মুক্ত ভাবে জীবন যাপন করতে পারে সে বিষয়টি আলোচনায় আসতেই পারে । এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসকে আরো জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানান ।

রাশেদ খান মেনন:

রাশেদ খান মেনন বলেন, বঙ্গবন্ধুর বিচারে যে বিলম্ব তার দায় থেকে জিয়াউর রহমান, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া কেউ এড়িয়ে যেতে পারেন না উল্লেখ্য করে তিনি স্বাধীন কমিশন গঠনের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশিলবদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তৎপরতার আহ্বান জানান আইন মন্ত্রণালয়কে।

মেনন বলেন, এখনো কর্নেল রশিদ মুক্ত ভাবে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে এবং তিনি রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে । জাসদের জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আসল কুশিলবদের আড়াল করতেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে । মুজিব শতবর্ষের আগেই একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি। সরকারের সক্ষমতা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে ডালিম এবং রশিদের সন্ধান খুঁজে বের করার কথাও বলেন তিনি ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ১৫ আগষ্ট আমাদের জাতীয় চেতনা এবং আদর্শকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে । ১২ জনের মধ্যে তিন জনের কোথায় আছে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না এরা কে কোথায় আছে তা বলা যাচ্ছে না । এটি নির্সন্দেহে একটি ব্যর্থতা । তবে এর মূল কারণ একাধিক সরকার তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে এবং হতে পারে এরা একাধিক নাম ব্যবহার এবং পাসপোর্ট পরিবর্তন করে থাকতে পারে বলে জানান তিনি। এক্ষেত্রে তিনি প্রবাসী বাঙ্গালীদের তৎপরত হতে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা সোচ্চার হলে কিছুটা হলেও উক্ত দেশ বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন । তবে আমেরিকায় অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত কর্নেল রশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বর্তমান সরকার ।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক:

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, তৎকালীন সরকার শুধু যে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশের বাইরে যেতে সহায়তা করেছে তাই নয়, তাদের কোনো তথ্য মজুদ রাখেনি সেই সময়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একটু সময় লাগলেও কানাডার সরকার নূর চৌধুরীকে ফেরত দিতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আইনী প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যদিয়ে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের খুঁজতে বা ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট ছিল না যা খুনিদের আরো শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছে।

ডালিম , রশিদ, মুছলেমউদ্দিন, মাজেদ খুঁজে বের করার বিষয়ে সরকারের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই উল্লেখ্য করে আইনমন্ত্রী জানান, এই হত্যার কুশিলবদের আইনের আওতায় আনতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিশনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য পেছনের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা । কারণ এরাও বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করতে তৎপর। এছাড়া খুনিদের সম্পদ ক্রোপ বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনে আনার কথাও তিনি উল্লেখ্য করেন।

/এসএস

মন্তব্য করুন