ফেসবুক ভাইরালের ভাইরাস; শাস্তির দুয়ার ও নতুন অপরাধের আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯

ফেসবুক ব্যবহারকারিরা প্রায়ই দাবি করেন দেশের অনেক অপরাধ সামাজিক এই যোগাযোগ মাধ্যমে আসার কারণেই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসছে৷ এসব অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে খুব জোর ভূমিকা রাখছে। তাদের এই কথার সঙ্গে আমার দ্বিমত নেই। তবে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে কখনো কখনো আমরা অন্য একটি অপরাধ করছি কিনা তা ভেবে দেখার অবকাশ আছে।

সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই খবর পড়ি। ফেসবুকে ভাইরালের হুমকি দিয়ে তরুণীর শ্লীলতাহানি। এধরনের খবর থেকে বুঝি যখন কোন কিছুর মধ্যে একটা ‘ক্ষমতা’ তৈরি হলে তার চরিত্র ক্ষমতার স্বাভাবিক ‘চরিত্র’ হয়ে যায়। ফেসবুক তাই একদিকে যেমন অপরাধিদের শাস্তির দুয়ার খুলে দিচ্ছে। অন্যদিকে অপরাধীদের অপরাধ করার নতুন আশঙ্কা তৈরি করছে। মানুষ ছুড়ি চাকু বন্দুক রামদা এমন নানা অস্ত্র দিয়ে যেমন হুমকি দিচ্ছে।

আজকাল ফেসবুক ভাইরালও তেমনি এক অস্ত্র হয়ে উঠেছে৷ আর সব অস্ত্রের মতোই এই অস্ত্র ব্যবহার তাই শতর্কতা দাবি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুধু যোগাযোগ আর তথ্য আদান প্রদানের বাইরে গিয়ে যখন ব্যক্তির সিদ্ধান্ত দেয়ার প্রধান এবং অনেক ক্ষেত্রে একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে তখন বিপদের ঝুকি বাড়ে৷ বিশেষ করে অপরাধের মতো ক্ষেত্রে৷ যেখানে অভিযুক্তের পক্ষে ওকালতি খুব একটা চোখে পরে না।

সেখানে যুক্তিতর্কের মধ্যে তথ্য প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত পৌছে যাচ্ছেন সবাই৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ট্রায়ালের আসাছে তাৎক্ষণিক রায়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এসব রায় প্রভাবিত করছে প্রশাসনকে এমনকি কখনো কখনো বিচারকেও। একটা যুক্তি এখন প্রবল হচ্ছে। সরকার যা কিছু ভালো করছে, বিশেষ করে অপরাধ দমনে তার বলতে গেলেই সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চাপে। একথা অনেকাংশে সত্যও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই শক্তি নিয়ে ব্যবহারকারিদের মধ্যে একটা গৌরব বোধ আছে। এবং এর মাধ্যমে তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে গর্ব করেন। কোনটা বড় অপরাধ তা যেনো এখন নির্ভর করছে ঘটনার ভয়াবহতার চাইতেও ওই ঘটনার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে কি নেই তার ওপর। গত কয়েক বছরের একটা সাধারণ হিসেব যদি নেন তাহলে হলে দেখা যাবে তনু বা রূপা হত্যার মতো খুব কম ঘটনাই অপরাধির বিচারের জন্য মানুষকে এক করতে পেরেছে যে ঘটনার কোন ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেই।

ফেসবুক ভাইরাল সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিষেধকের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে নাকি অপরাধের নেটবাহী ভাইরাস হিসেবে ব্যবহার হবে তা নির্ভর করবে ব্যবহারকারিদের ওপর। রাতারাতি পুরো সামাজের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন হয়তো করা কঠিন। কিন্তু ফেসবুক ভাইরাল যেনো ভাইরাস না হতে পারে তার এন্টি ভাইরাস খুজে বের করার উদ্যোগ নেয়ার এখনই সময়। আর সে উদ্যোগ এই মাধ্যম ব্যবহারকারিদের নিতে হবে। সরকার বা পুলিশ দায়িত্ব নিলে তারা আমূল উপড়ে ফেলার দিকে ঝুঁকবেন। কেননা সরকার জানে, সামাজিক বিচারই তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের শেষ যুদ্ধ।

সাংবাদিক জাহিদ হোসেনের লেখা

আই.এ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন