সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাল-মন্দ কী আছে?

প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

সোশাল মিডিয়ায় আমাদের এই আচরণ ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে কতটুকু সম্পৃক্ত? এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে ডয়চে ভেলে’তে। কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দীন কাউসার বিল্পব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি মানুষের কেন এত আসক্তির কথা জানতে চাইলে সালাউদ্দীন কাউসার বিল্পব বলেন, এই আসক্তির অনেক রকম কারণ। মানুষ বিভিন্নভাবে কমিউনিকেশনকে একটা গুরুত্বপূর্ণ টুল হিসেবে ব্যবহার করে। এক জায়গায় বসে বহু পুরনো বা অনেক মানুষের সঙ্গে একসাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। অল্প খরচে, অল্প পরিশ্রমে এটা সম্ভব হয়। আমাদের দেশে এটার উপযোগিতা, আপনি যদি ফাস্ট ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে তুলনা করেন তাহলে দেখবেন তাদের থেকে আমরা অনেক আলাদা৷ আমরা ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছু এখানে দেই। এটা কিন্তু বাইরের পৃথিবীতে পাবেন না।

সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তি আক্রমণের এত প্রবণতার কারণ হিসেবে কাউসার বলেন, এটা আমাদের দেশে বিতর্কিত বিষয়। আমাদের দেশে সুখ দুঃখে একজন অন্যজনের পাশে দাঁড়াই। ব্যক্তি জীবনেও আমরা এটা করি। একইভাবে আমরা একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে দ্রুত ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলি। এটা আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক বা পারিবারিক যে বিশ্বাস তার প্রতিফলন৷ শুধু সামাজিক মাধ্যমে যে এই আক্রমণ তা নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও এটা করা হচ্ছে।

আবার দেখা যায় যে কোনো বিষয় সঠিক ভাবে বিশ্লেষণ না করেই মত দেয়া করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা একটা দুঃখজনক। দেখেন, কেউ যদি একটা স্ট্যাটাস দেয় তাহলে অনেকেই সেটা পুরো না পড়ে মন্তব্য করছেন। ভেতরের গল্পটা হয়ত অন্য। আসলে এখন পড়ার বা বিশ্লেষণ করার ধৈর্য আমাদের নেই। এখন কোনো কিছুর ভেতরে ঢুকে তার যৌক্তিকতা না বুঝেই তারা বলে দিচ্ছেন। এটার ইমপ্যাক্ট তো খারাপ। অনেক সময়ই উল্টোটা ঘটে। আসলে কিছু একটা বলার আগে যৌক্তিকতা বুঝে বলা উচিৎ।

কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই‘বিচার’করেফেলা হচ্ছে? এতে করে মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত হয় কি না? এমন প্রশ্ন করা হলে কাউসার জানান, কখনও কখনও হয়৷ সবসময় যে হয় তা না। তবে সম্প্রতি এমন ঘটনা তো আমরা দেখেছি। আবার অনেক সময় প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েও মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়া হয়। এতে অনেক সময় না বুঝেই অনেকে ঝাপিয়ে পড়ে, তারা তখন ভিকটিম হয়ে যায়।

সামাজিক মাধ্যমে যেমন আগে কোনো ঘটনার বিচার করে ফেলে একটা ভীতিকর অবস্থার তৈরি করা হচ্ছে, তেমনি এর পজিটিভ দিকও আমরা দেখি। যে ঘটনাগুলো একটু জাস্টিফাই করে সামাজিক মাধ্যমে আসে সেগুলোর কিন্তু ভালো মূল্যায়ন হয়। সেই ঘটনাগুলোর বিচারও কিন্তু হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেরিয়ে আসার প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন কাউসার বলেন, এটা অত্যন্ত কঠিন বিষয়। আইন করে সব করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি সচেতনতা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশে আমাদের যেসব বন্ধু থাকে তারা মাঝেমধ্যেই বলেন, ব্যক্তি জীবনের এত কথা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়ার দরকার কি? ওরা কিন্তু অনেক চিন্তা করেই কাজটা করে। তারা এখানে কতটা সময় দিচ্ছে তা খেয়াল করে। কিন্তু আমরা এটা খেয়াল করি না। এখানে আসলে আমরা কি করছি, নিজেরাও জানি না৷

এটাতে তরুণদের প্রভাবিত হওয়া নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, বাইরের বিশ্বের কথা আমি অতটা বলতে পারব না। তবে অবশ্যই আমাদের দেশে তরুণরা খুবই প্রভাবিত। এখানে সকাল বিকেল বা রাত নেই হাজার হাজার মানুষ সবসময় একটিভ থাকেন। অনেকে রাতের পর রাত ফেসবুক চালায়। এর ফলে সকালে তারা স্কুলে বা অফিসে হয়ত ঠিকমতো যেতেই পারছেন না। একজন মা আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি বলছিলেন, তার তিন সন্তানের সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত৷ পারিবারিক যে আলোচনা বা বন্ধন সেটা থাকছে না। প্রতিটি পরিবারেই এখন এই সমস্যা।

আই.এ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন