মায়ের গায়ে হাত তোলায় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি: মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৯

৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের উঠতি তারকা ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। নিজের মায়ের সঙ্গে দূর্বব্যহার ও মাকে মারার অভিযোগে স্ত্রী সামিয়া শারমিনকে তালাক দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মোসাদ্দেক।

ছয় বছর আগে খালাতো বোন সামিয়া শারমিনকে বিয়ে করেন ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। বিয়ের পর থেকে সৈকতকে তার পরিবার ছেড়ে আলাদা সংসার করতে চাপ দিতে থাকে স্ত্রী শারমিন। এ নিয়ে পারিবারিক দ্বন্ধ তৈরি হয়। মায়ের সঙ্গে দূর্বব্যহার করেন স্ত্রী শারমিন। এমনকি শাশুড়িকে একাধিকবার মেরেছেন বলেও অভিযোগ স্বামী মোসাদ্দেকের। ফলে বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মোসাদ্দেক।

অন্যদিকে সম্প্রতি নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তার স্ত্রী সামিয়া শারমিন।

এ বিষয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ও আমাকে আলাদা সংসার গড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু আমার বাবা নেই, যে মায়ের কারণে আমি আজ ক্রিকেটার। সেই মাকে ছেড়ে কিভাবে আলাদা থাকি? এটা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি ওকে এটা নিয়ে অনেক বুঝিয়েছি’।

সৈকত বলেন, ‘আমি যখন খেলার কারণে ট্যুরে থাকতাম তখন ও আমার মার সঙ্গে ঝগড়া করত। মাকে একাধিকবার মেরেছেও। এসব কারণে আমি গত ১৬আগস্ট তাকে কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দেই’।

স্ত্রীর করা যৌতুকের অভিযোগ নিয়ে বলেন, ‘দেখেন ওকে আমি গত ১৬ আগস্ট ডিভোর্স দিয়েছি। তার আগে ও কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। ডিভোর্স দেয়ার পর ও নাটক শুরু করেছে। আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্ত করছে। আমি মনে করি এত খারাপ সময় আমার আসেনি যে, যৌতুক নিয়ে আমার চলতে হবে। আমি শুনেছি ডিভোর্স দিলে নাকি এমন নারী নির্যাতন বা যৌতুকের একটা মামলা করা হয়। তারাও হয়তো তাই করেছে’।

স্ত্রীর কর্মকাণ্ডে হতাশ জাতীয় দলের এ অলরাউন্ডার আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছেলে হয়ে জন্মে ভুল করেছি। আজ মেয়েরা যা বলে তাই সত্যি হয়। আমাদের কথা কেউ সত্যি মনে করে না’।

প্রসঙ্গত, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন তার স্ত্রী সামিয়া শারমিন। ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন ৩ ও ৪ ধারায় অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।

২০১২ সালে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সাথে তার আপন খালাতো বোন সামিয়া শারমিনের বিয়ে হয়।

সৈকতের স্ত্রীর বড় ভাই মোজাম্মেল কবির জানান, সৈকত আমার খালাতো ভাই। তাদের পারিবারিক অবস্থা এক সময় খুব খারাপ ছিল। সে আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো। তখন আমার বোনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। আমরা বোনের বিয়ের জন্য পাত্র ঠিক করি, সৈকত তখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়। সৈকত তখন আত্মহত্যার হুমকি দেয়। একসময় আমরা তাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হই।

সৈকতের স্ত্রী সামিয়া শারমিন বলেন, সৈকতের দুর্দিনে আমি তার পাশে ছিলাম। তার অর্থ-খ্যাতি হওয়ার পর সে আমার সাথে বাজে ব্যবহার শুরু করে। মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও শুরু করে। এপ্রিলে আমি কনসিভ করি। রোজার ঈদের আগে আমার বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যায়। ঈদে সৈকত বাড়ি আসে। আমি তাদের বাসায় ছিলাম। তার মা আমাকে বললো, বাপের বাড়ি চলে যেতে। কারণ আমার সেভাবে যত্ন হচ্ছিল না সেখানে। দু’মাস ধরে আমি বাসায়। তারা আমার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি।

/এসএস

মন্তব্য করুন