ইশা ছাত্র আন্দোলন: আন্দোলন, সংগ্রাম আর বিপ্লবী অভিযাত্রার ২৮ বছর

প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০১৯

সামছ আল ইসলাম ভূঁইয়া

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। যার সংক্ষিপ্ত নাম ইশা ছাত্র আন্দোলন। ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট ইসলামী আন্দোলন এর সফল রূপকার, ইসলামের মুক্তিদাতা চরিত্রকে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সমস্যার সমাধানে উপস্থানকারী বিপ্লবী রাহবার, তৎকালীন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন (বর্তমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) -এর আমির হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম,পীর সাহেব চরমোনাই রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন।

স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব অর্থ ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের দুষ্টচক্রে পাক খাওয়া বস্তুবাদী চিন্তায় আচ্ছন্নতা, সমাজের দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচারের ফলে দেশ যখন অশুভ কালচক্রে ঘুর্নয়মান, স্বাধীনতা হাতছাড়া হওয়ার জোগাড়; তখনই ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন তার পথচলার ৫ বছরের মধ্যে অনুধাবন করে যে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। তারা ইসলামের নৈতিক, আদর্শিক এবং ইসলাম প্রবর্তিত রাষ্ট্র, অর্থ-সমাজ সংক্রান্ত শিক্ষা সম্পর্কে অনবগত থাকছে। আরেকটি অংশ যারা মাদরাসায় পড়ছে তারা চলমান বিশ্বব্যবস্থায় রাষ্ট্র, অর্থ ও সমাজনীতি সম্পর্কে না-ওয়াক্বিফ। ফলে বাঙালি মুসলিম সমাজকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো কোন প্রজন্ম এদেশে গড়ে উঠছে না। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রতি এক সময়ের উদ্যোক্তা ও শরীকদের অবজ্ঞা ছিল অন্যতম সমস্যা।

পীর সাহেব চরমোনাই রহ. এগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি প্রচন্ডরকম সংকল্পবদ্ধ হলেন সাংগঠনিক মজবুতির ব্যাপারে। গভীর চিন্তায় মগ্ন হলেন কিভাবে আন্দোলন কে ধরে রাখা যায়। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির ব্যাপারে শুরু হয় তার ভেতরে উদ্বেগে। রাত দিন পরামর্শ করতে থাকেন সহচরদের সাথে। শেষ পর্যন্ত ইশা আন্দোলন কে ধরে রাখা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন পীর সাহেব চরমোনাই রহ.।

প্রবল উৎসাহ উদ্দিপনা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ১৯৯১ সালের ২৩ আগস্ট শুক্রবার প্রতিষ্ঠা লাভ করে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সহযোগী সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। সেদিন মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ আল-ফরিদী কে আহবায়ক এবং মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম কে যুগ্ম আহবায়ক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট ইশা ছাত্র আন্দোলনের প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়।

শুরু হয় নবযাত্রা। অভাবনীয় সাড়া পড়ে গোটা দেশে। পরবর্তীতে ১৯৯২-৯৩ সেশনের জন্য মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ আল-ফরিদী কে সভাপতি এবং মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কে সেক্রেটারি করে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন’র কেন্দ্রীয় কমিটি ঘটিত হয়।

জাহিলিয়াতের সকল প্রকার আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী খোলাফায়ে রাশেদার নমুনায় – সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথে মানবজীবন গঠন ও সমাজের সর্বস্তরে পূর্ণ দীন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইশা ছাত্র আন্দোলের পথ চলা শুরু হয়। লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রণয়ন করে ৫দফা কর্মসূচি: ইলম ও তারবিয়াত, আমল ও তাযকিয়াহ, তাবলিগ, তানজিম এবং ইনকিলাব (বিপ্লব)।

“সত্যের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধ” এর মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত।ছাত্র সমাজ এ কাজের যোগ্য সৈনিক। কারণ ছাত্র সমাজই দেশ ও জাতির কার্যকর ও সক্রিয় জনশক্তি। এরা দেশের অমূল্য সম্পদ, ভবিষ্যৎ কর্ণধার। ছাত্রদের ক্লান্তিহীন শ্রম,অপ্রতিরোধ্য শক্তি এবং তীক্ষ্ণ মেধার সঠিক চর্চা ও প্রয়োগের উপর নির্ভর করে দেশের গতি প্রকৃতি,সুখ সমৃদ্ধি তথা জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ছাত্রদের শ্রম দেশ গড়ায় ও মানবকল্যাণে প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের শক্তি, অন্যায় -অবিচার -জুলুম তথা বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে আর তাদের মেধা সত্য অন্বেষণ, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে ব্যাবহৃত হওয়ার মাধ্যমেই সার্থক হয়ে ওঠে। তাই পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, আলীয়া ও কওমী মাদ্রাসাসহ সর্বস্তরের ছাত্রদের সঠিক পরিচর্যা করার লক্ষ্যে রূহানীয়াত ও জিহাদের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পরিচালিত করেছেন ইশা ছাত্র আন্দোলন কে। ইশা ছাত্র আন্দোলন এদেশের সর্বস্তরের ছাত্রদের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র সংগঠন। দীর্ঘ দুই যুগ অতিক্রম করা এই ছাত্র সংগঠনটির সফলতা অবাক করা।

ভোগবাদে মত্ত তরুণ সমাজকে মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ, পাশ্চাত্য জীবন দর্শনে বিভ্রান্ত লাখো তরুনকে সুন্নাহ এর পথে পরিচালিত করেছে ইশা ছাত্র আন্দোলন। দেশের মুসলিম শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে জাগতিক জীবনের কার্যকরি শিক্ষা অর্জন করলেও সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা না থাকায় তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীর চাহিদা বুঝতে ব্যর্থ। ফলে দেশে সৎ-দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্বের অভাববোধ, সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বার্থপরতা, অন্যায় জেকে বসে সমাজের প্রতিস্তরে। ইশা ছাত্র আন্দোলন জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের বিশাল এক অংশকে ইসলামের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ করে সমাজের যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলেছে। কওমিয়া মাদরাসাসমূহ জাতির ধর্মীয়, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির বাসনা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইশা ছাত্র আন্দোলন কওমি শিক্ষার্থীদের মাঝে আকাবিরে দেওবন্দের সংগ্রামী চেতনা পুনর্জাগরিত করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশি তারুণ্য নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ভুলে ভিনদেশি সংস্কৃতিক অনুকরণে লিপ্ত হয়েছিলো। ভিনদেশি পণ্যের সস্থা বাজারে পরিণত হয়েছিলো। ইশা ছাত্র আন্দোলন তারুণ্যেকে তার নিজস্ব বাঙালি ও মুসলিম ইতিহাস ঐতিহ্যকে স্বরণ করে দিয়েছি। আজকাল ক্যাম্পাসসমূহে মাদক প্রগতিশীলতার প্রতীক, ধুমপান স্মাটনেসের প্রতীক। এর মোকাবলা ইশা ছাত্র আন্দোলন ক্যম্পাসে মাদকমুক্ত শেকড় সন্ধানী একদল তরুনের কাফেলা তৈরি করতে পেরেছে। ছাত্র রাজনীতির অর্থ (আজকাল) ক্ষমতা লিপ্সু সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি, দলান্ধাতা, কর্মী পালনের নামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী মাদকের ব্যবসা ইশা ছাত্র আন্দোলন ছাত্র রাজনীতির এই ধারায় পরিবর্তন এনেছে। একাত্তর পূর্ব ও পরবর্তি ছাত্র রাজনীতির অর্থই হলো মাদক, মাস্তানী, হল দখল, চাঁদাবাজী আর হত্যার রাজনীতি। ইশা ছাত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আদর্শিক, জ্ঞানভিত্তিক সুস্থধারার ছাত্র রাজনীতির প্রবর্তন করেছে। আজ দেশে আদর্শিক রাজনীতির এক দিকপাল এই সংগঠন।

ইশা ছাত্র আন্দোলন দেশের একমাত্র শতভাগ ছাত্রদের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠন। দেশের ত্রিধারার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি ধারা থেকে শিক্ষার্থীর সমাবেশ ঘটাতে পেরেছে এই সংগঠনটি। আদর্শে অবিচলতা যেকোন আন্দোলন এর অপরিহার্য বিষয়। ইশা ছাত্র আন্দোলন আদর্শের ওপর দৃঢ় থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যায় গত ২৮ বছর যাবৎ কাজ করছে ইশা ছাত্র আন্দোলন।

ইসলাম বিরোধী চক্রান্তে ক্ষেভে ফেটে পড়া জনতাকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ইসলামী হুকুমতের পথ দেখিয়েছে, ইসলামের দর্শনগত, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়কে জনতার সামনে ফুটিয়ে তুলেছে ইশা ছাত্র আন্দোলন। দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলা ৫৬০টি থানা, ৫০০টি উপজেলা সহ সহস্রাধিক ইউনিয়নে ইশা ছাত্র আন্দোলন তার সাংগঠনিক কাজ সৃষ্টি করতে পেরেছে। কাজের সুবিধার্থে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহানগর সমূহে ১৯টি সাংগঠনিক জেলা তৈরি করে কাজ করছে সংগঠনটি।

দেশের সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইশা ছাত্র আন্দোলন কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সকল সরকারি কলেজে সংগঠনটি কাজের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও কাজ চলমান। দেশের প্রায় সকল কওমিয়া মাদরাসায় সংগঠনকে মজবুত স্থানে পৌছে দিতে পেরেছে। আলিয়া মাদরাসাসমূহে তার কাজের শক্তিশালী ধারা অব্যহত।

২৮ বছরে হাজার হাজার ধর্মীয় নেতা তৈরি করেছে যারা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামের সামগ্রিক ব্যাখ্যা করে জনমানুষকে ইসলামের দিকে আহবান করছে। সমাজ, রাষ্ট্র, ব্যবসা-বাণিজ্য-প্রশাসন সকল ক্ষেত্রই পরার্থতার শিক্ষায় উদ্ভুদ্ধ একদল মানুষ তৈরি করতে পেরেছে যারা জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সারাদেশ সৎ, যোগ্য, খোদা ভীরু নেতৃত্ব তৈরিতে এর অবদান চোখে পড়ার মত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মুহতারাম আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাইসহ ২০জন সাবেক ছাত্রনেতা আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে। যে কোনো আন্দোলনে ইশা ছাত্র আন্দোলন ছিল সবার সাথে, সবার আগে। ছাত্রদের অধিকার আদায়ের জন্য যেকোনো মুহূর্তে আন্দোলন সংগ্রামে ইশা ছাত্র আন্দোলন ছিল ছাত্র সমাজের সহযোদ্ধা। দুই যুগের দীর্ঘ পথচলায় দেশ, জাতি, মানবতা আর ইসলামের সার্থ রক্ষার্থে নিজেদের জিবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছে ইশা ছাত্র আন্দোলন। বর্তমান বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যেখানে দেশের মানুষকে সন্ত্রাস, খুন-ধর্ষন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ছাড়া ভাল কোন কিছু উপহার দিতে পারছে না সেখানে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ২৮ বছরের ইতিহাস দেশবাসীর নিকট একটি আদর্শ হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

তাসলিমা আন্দোলন কিংবা মালিবাগ মসজিদ রক্ষার আন্দোলন, মদের লাইসেন্স বন্ধের আন্দোলন অথবা হিন্দুত্ববাদী শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলন সবখানেই সক্রিয় ভূমিকা ছিল ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন সমাজ পরিবর্তনের এক দুর্জেয় কাফেলা। জাহিলী এ সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনই যার লক্ষ্য, নির্যাতিত নিপীড়িত মাজলুম মানবতাকে বন্দিত্বের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে মুক্তির পথ দেখানোই যার নেশা, চিরশান্তির নিকেতন ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই যার সাধনা, শাহাদাতের আমীয় সুধা যার আকাঙ্খা, সে অপ্রতিরোধ্য বিপ্লবী সংগঠন “ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন”। এই সংগঠনটির ২৮ বছরের পথচলা, লাখ লাখ জানবাজ, সৎ, দক্ষ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক ও খোদাভীরু ইসলামী আন্দোলন এর কর্মী তৈরি, জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টি, সুবিধা বঞ্চিত ছাত্র সমাজের পাশে দাড়ানো এবং দেশ-ধর্মের পক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম এই সবকিছুই বিপ্লবী এক ছাত্র কাফেলার ইতিহাস ও অবদান। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে।

লেখক: সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইশা ছাত্র আন্দোলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

মন্তব্য করুন