সাজেক: ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য্যের জীবন্ত রুপ; ঘুরে আসুন ঈদের ছুটিতে

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯
কংলাক পাহাড়ের চুড়ায় মেঘ উপভোগ

শাহনূর শাহীন

শিরোনাম দেখে অনেকে ভ্রু কুঁচকে বলবেন সৌন্দর্য আবার ভয়ঙ্কর হয় কীভাবে। হুম কিছু কিছু সৌন্দর্য আছে যা খুবই ভয়ঙ্কর হয়। পশ্চিমা বিশ্বের কিছু দার্শনিক আছে যারা নারীর সৌন্দর্যকে ভয়ঙ্কর বলে অভিহিত করেন। কেননা শুধুমাত্র নারীর সৌন্দর্যই পৃথিবীতে হাজারো ঘটন অঘটন ঘটিয়েছে যা খুবই ভয়ঙ্কর এবং বিস্ময়কর। এই সৌন্দর্য কোনো বীর যোদ্ধাকে বানিয়েছে ভীতু কাপুরুষ আবার কোনো কোনো ভীতু কাপুরুষকে পরিণত করেছে রণাঙ্গনের বীর। মূলত সৌন্দর্যটা ভয়ঙ্কর হয় না। কিছু সৌন্দর্য আছে যা উপভোগ করতে চাইলে ভয়ঙ্কর পথ মাড়াতে হয় কিংবা ওই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ভয়ঙ্কর কিছু মুহুর্ত।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তেমনই এক নয়নাভিরাম দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন জেলা পার্বত্য রাঙামাটির ‘সাজেক’। সাজেকের সবচেয়ে সুন্দর এবং উপভোগ্য দৃশ্য হলো সন্ধার মেঘ। খুব কাছ থেকে মেঘ ছোঁয়া যায়। এটাই সাজেকের মূল আকর্ষণ। এখানে এসে কোনো রোমান্টিক কবি তার ‘প্রেয়সী অভিমান করো না/কথা দিলাম তোমাকে মেঘ ছুঁয়ে দেবো’র চাওয়া পূরণ করতে পারেন সহজেই।

সাজেক-শাহনূর শাহীন

মেঘে ঢাকা পাহাড়ের পরেই ভারতের মিজোরামের মেঘশূন্য কালো পাহাড়

ঈদের ছুটিতে গতবছর ২৫ আগস্ট ২০১৮ইং শনিবার ফেসবুক পরিচয়ের সুত্র ধরে হৃদ্যতা গড়ে ওঠা ১০ জনের একটা টিম মিলে ৫ দিনের সফরে বের হই। ৫ দিনের সফরে আমরা ঘুরেছি খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার। আমাদের টিমের নাম ছিলো ‘টিম নানা-নাতি’। আমাদের সকলের প্রিয় নানা ভাই মুফতি আবু মুছা নেছারীর নেতৃত্বে অংশ নিয়েছেন, কাওছার মাহমুদ, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মো. ফরহাদ, গোলাম রাব্বি, মো. জান্নাতুল ফেরদৌস, আল আমিন, ড্রাইভার আব্দুল মজিদ এবং আমি শাহনূর শাহীন। এই সফরের অভিজ্ঞতাগুলোই আমরা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করার চেষ্টা করবো। শুরুতেই আমরা সাজেক নিয়ে আলোচনা করবো।

‘সাজেক’ পার্বত্য রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন একটি ইউনিয়ন। রুইলুইপাড়া এবং কংলাকপাড়া নিয়ে ‘সাজেক’। ‘সাজেক’ থেকে রাঙামাটির বিশাল অংশ দেখা যায়। সাজেককে এজন্য রাঙামাটির ছাদ বলা হয়। ‘সাজেক’ রাঙামাটি জেলার অন্তর্গত হলেও যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ি থেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা হয়ে যেতে হয়। দীঘিনালা পার হয়ে ১০ নং বাঘাইঘাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প থেকে দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাজেকে যাওয়ার অনুমতি নিতে হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সাজেকে প্রবেশের অনুমতি মিলে। সময়টা কখনো ৩০ মিনিট এদিক সেদিক হয়।

বাঘাইঘাট থেকে সাজেকের (রুইলুইপাড়া) দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সামনে থেকে আর্মিদের বেস্টনীতে পৌঁছানো হয়। এর আগে সকাল ৯টায় দুইদিক থেকে পুলিশের গাড়ি যাতায়াত করে রাস্তার নিরাপত্তা চেক করে। বাঘাইঘাট থেকে মূলত পাহাড়ের ভয়ঙ্কর উঁচুনিচু আঁকাবাকা রাস্তা, তার ওপর জনমানব শূন্য এলাকা। রয়েছে পাহাড়ীদের হামলা ও অপহরণের ভয়। এজন্যই মূলত এতো নিরাপত্তা।

আমরা আর্মিদের সাথে কথা বলে জানতে পারি প্রতিদিন দুই দিক থেকে ৩ বার করে যাতায়াত করতে হয় তাদের। তার মানে দর্শনার্থীরাও যাওয়ার জন্য মোট ৩টি ট্রিপ সুযোগ পায়। প্রথম ট্রিপে যেতে পারলে বিকেলের ফিরতি ট্রিপে চলে আসা যায়। তবে সেক্ষেত্রে সাজেকের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে। আগেই বলা হয়েছে সাজেকের মূল আকর্ষণ কাছ থেকে মেঘ ছোঁয়া। আর এটা কেবল সন্ধার পর থেকেই সম্ভব। প্রতিদিন সন্ধা হলে মেঘ নামতে শুরু করে। পরের দিন সূর্যী মামা গরম হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে। অর্থাত প্রথম ট্রিপে গেলেও সাজেকে পৌঁছার আগেই মেঘ কেটে যায়।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে জিপ, সিএনজি, ব্যক্তিগত বা ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেলে করে যাওয়া যায়। তবে বাইক চালানোয় দক্ষ এবং সাহসী না হলে নিজে ড্রাইভিং না করাই ভালো। প্রাইভেট কার বা হায়েস গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায় তবে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে উপরে উঠা খুব রিস্ক। জিপ গাড়িগুলোকে স্থানীয়ভাবে চান্দের গাড়ি বলা হয়। চান্দের গাড়িতে ২০-৩০ জন যাত্রী নিয়ে অনায়াসেই যেতে পারে স্থানীয় অভিজ্ঞ ড্রাইভাররা। তবে যে কয়জনই যান আপনাকে গাড়ি রিজার্ভ করে যেতে হবে। নতুবা ফেরার পথে মারাত্মক বিড়ম্ভনায় পড়বেন।

বাঘাইঘাট থেকে ৩২ কিলোমিটার যাত্রাপথে ‘মাচালং’ আর্মি ক্যাম্পে যাত্রা বিড়তি করতে হয়। এখান থেকে সাজেকের সর্বোচ্চ চুড়া কংলাক পাহাড় অল্প কয়েক কিলোমিটারের দূরত্ব। ৫/৬ কিলোমিটার হবে। আর্মি ক্যাম্পের পাশেই মাচালং বাজার। বেশ বড় বাজার বলা চলে। পুরোটাই পাহাড়িদের আধিপত্য। বাঙালি নেই বললেই চলে। তবে তারা বেশ মিশুক এবং অতিথিপরায়ণ। দূষ্কৃতিকারীদের মতো নয়। অতিথিপরায়ণ বলার একটা কারণ আছে। সেটা হলো বাঘাইঘাট থেকেই আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পাবেন ছোট ছোট পাহাড়ি বাচ্চারা আপনাকে অভিবাদন জানাচ্ছে। মনে হবে আপনি তাদের বাড়িতেই মেহমান হচ্ছেন।

রাস্তায় গাড়ি চলাচলের পাশে যদি মানুষের বসবাস থাকে কিংবা বাচ্চারা খেলাধুলা করে তাহলে দেখা যায় স্থানীয় ওই বাচ্চারা গাড়িতে পথচারীদের ঢিল ছুড়ে। কিন্তু সাজেকে যাওয়ার পুরো যাত্রাপথে এরকম দৃশ্য চোখে পড়েনি। বরং সুন্দর সুন্দর ছোট ছোট পাহাড়ি বাচ্চাগুলো সারাদিন হাত নেড়ে নেড়ে দর্শনার্থীদের অভিবাদন জানায়। প্রায় কোলের বাচ্চারাও এমনটি করে। দূর্ভাগ্যবশত বাচ্চাদের অভিবাদন জানানোর চমৎকার দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে পারিনি। ফেরার পথে আমাদের ক্যামেরাম্যানকে বার কয়েক বলার পরও গাড়ির ভিতরে থাকায় চলতি অবস্থায় ভালো ছবি তুলতে পারিনি আমরা।

সাজেক-শাহনূর শাহীন

সকালের রোদে মেঘ কেটে পরিস্কার হচ্ছে

পাহাড়ের উঁচুনিচু ও আঁকাবাকা রাস্তা পারি দিয়ে উঠানামা করে যখন এগোতে থাকবেন রাস্তার তখন দুই পাশে সাজানো গোছানো পাহাড় দেখে হৃদয় শীতল হয়ে যাবে। উপরে উঠার সময় মনে হবে সামনের পাহাড়ে উঠলেই আকাশ ছোঁয়া যাবে। পাহাড়ের ওপাশেই মনে হবে আকাশের সীমানা শেষ হয়ে গেছে। আবার নিচের দিকে নামার সময় মনে হবে উঁচু কোনো পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছেন। সে চমৎকার অনুভুতি। রোমাঞ্চকর, শিহরণ জাগানিয়া এবং কিছুটা কাঁপন ধরানোর মতো মিশ্র অনুভুতি।

ওহ! ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যের কথা বলেছিলাম। কেন বলেছিলাম সেটাই স্পষ্ট করে বলা হয়নি এখনো। মাচালং বাজার পার হয়ে রুইলুইপাড়া পৌঁছতে শেষ দুই কিলোমিটার রাস্তা-ই ধরা যাক। এতোক্ষণ তো ছিলো কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু। উঠানামার মাঝখানে দু’চার গজ সমতল রাস্তাও ছিলো। কিন্তু শেষ দুই কিলোমিটার রাস্তায় কোনো নিচু বা সমতল নেই। এই দুই কিলোমিটার আপনাকে সোজা উপরের দিকেই উঠতে হবে। তার ওপর একমুখি সরু রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে ঘন জঙ্গল। অনেকটা অন্ধকারের মধ্যেই সরু রাস্তায় দুই দিকের গাড়ি পাস করতে হয়। আরো প্রায় খাড়া রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে পাহাড়ে উঠা! ভাবতেই গা শিওরে উঠে। আনাড়ি ড্রাইভার আর ত্রুটিযুক্ত গাড়ি হলে নিঃসন্দেহে মারাত্মক এক্সিডেন্ট। কোনোভাবে গাড়ি যদি ব্রেক ফেল করে নির্ঘাত মৃত্যুর শহরে চলে যাওয়া। হুম, এজন্যই এতো সতর্কতার সাথে সাজেক ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারে পক্ষ থেকে।

সাজেক-শাহনূর শাহীন

পাহাড়ের কোলে বাঙালি বাড়ি উপভোগ

শেষের এইটুকু পথ যেতে কোনোভাবেই রাজি হননি আমাদের ড্রাইভার। বাধ্য হয়ে আমরা হেটে রওয়ানা হই। গাড়িতে ড্রাইভারের সঙ্গে একা নানা ভাইকে রেখে আসি। পথিমধ্যে আর্মিদের গাড়ি আমাদেরকে লিফ্ট দিয়ে পৌঁছে দেয়। রুইলুইপাড়া পৌঁছে আমরা বেশ চিন্তিত ছিলাম আমাদের নানা ভাই আর ড্রাইভারকে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত তারা সন্ধার পর সেখানে পৌঁছে। তবে স্থানীয় ড্রাইভাররা নিয়মিত যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকে বেশ সাহসী।

ভয় আর আতঙ্কময় এই সফরকে আনন্দময় করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিজিবির ভুমিকাই মূখ্য। পাশাপাশি পুলিশের ভুমিকাও অনস্বীকার্য। খাগড়াছড়ি শহরে ঢোকার আগেই পাহাড়ি রাস্তায় চলাচল শুরু। শহরে কাছাকাছি পৌঁছলে এক সময় খাগড়াছড়ি শহরটা দেখা যায়। পাহাড়ের উপর থেকে শহরের দালান বা দোকানগুলোকে পাখির বাসা বলে কেউ ভুল করলেও কিছু সময়ের জন্য মেনে নিতে হবে। চমৎকার সেই দৃশ্য। তবে সব কিছু ছাপিয়ে সাজেকে পৌঁছার পর আর ফেলে আসা পাহাড়কে পাহাড় মনে হবে না। ওখানে গেলে ভাবতে জানে না এমন মানুষও ভাবতে বাধ্য হবে যে, আল্লাহ তাআলা কত সুন্দর করে এই পৃথিবীটা সাজিয়েছেন।

সাজেক থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরত্বে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের অবস্থান। রুইলুইপাড়া বা কংলাকপাড়া থেকে পূর্ব দিকে তাকালে সীমানা প্রাচিরের মতো যে বড় পাহাড় দেখা যাবে সেটাই মিজোরাম রাজ্য। দূর থেকে মিজোরামের পাহাড়ে ছোট ছোট টিনের চালার মতো কুটির দেখা যায়। রুইলুইপাড়া থেকে সর্বোচ্চ চুড়া কংলাকপাড়া কিংবা কংলাক পাহাড় আরো প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে। পাহাড়ের সর্বোচ্চ চুড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮৭০ ফিট উঁচু। পাহাড়ের চুড়ায় করা হয়েছে হেলিপ্যাড। চাইলে কেউ হেলিকপ্টার নিয়ে সেখানে যেতে পারবে। তবে তাতে বিজিব এবং আর্মির বিশেষ অনুমতি লাগবে।

সাজেক-শাহনূর শাহীন

সাদা মেঘের পরে উঁচু পাহাড়টি ভারতের মিজোরাম রাজ্য

সাজেক পৌঁছে দিনের আলোতে যতটুকু সময় পাওয়া যায় তাতে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। দিন শেষে সন্ধা নামলেই মেঘ নামতে শুরু করবে। তখনকার দৃশ্যটা শীতের কুয়াশার মতো মনে হবে। নয়ানাভিরাম সেই মুহুর্তে মেঘের ভিতর হারিয়ে যাবেন অনায়াসেই। সে এক অভুতপূর্ব অভিজ্ঞতা।

হ্যাঁ, চমৎকার এই সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ভয়ঙ্কর এবং দীর্ঘ পথ পারি দিতে হয় বলেই একে ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য বলে অভিহিত করেছি। যাত্রাটা এতোটাই ভীতিকর এবং কষ্টকর যে, প্রথমবার যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার যাওয়ার মতো সাহস করার লোক খুব কমই হয়। আমরা দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে অভিমত নিয়েছি। তাতে অনেকই বলেছেন দ্বিতীয়বার সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। আবার কেউ কেউ বলেছেন গাড়ি নিয়ে পুরো রাস্তা যেতে পারলে যাবেন।

তবে যতটা ভয়ের কথা বলছি যাত্রাটা ততটা অনিরাপদ না। মূলত ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যারা যায় অপরিচিত ড্রাইভার এবং অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় হাঁটা লাগে। উঁচু রাস্তায় হাঁটা ভীষণ কষ্টকর তাই মূলত অনেকে দ্বিতীয়বার যেতে আগ্রহী হয় না। তবে আমার আরেকবার যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

প্রথম ট্রিপে পৌঁছতে পারলে দিনভর ঘোরাঘুরি, সন্ধায় মেঘ ছোঁয়া, তারপর রাত যাপন করে সকালে ফেরা। হুম, রাতে থাকার জন্য উন্নত মানের আবাসিক হোটেল আছে। এছাড়াও সুন্দর পরিবেশে ভালো মানের থাকার ঘর আছে। যেগুলোতে মোটামুটির সাধ্যের মধ্যে ভাড়ায় থাকা যায়। আমার নানা-নাতি টিম দুই রুম নিয়েছিলাম ৩ হাজার টাকা দিয়ে। দুই রুমে চারটি খাট ছিলো। তাতে আরাম করেই ঘুমোতে পেরেছিলাম। খাবার নিয়েও কোনো টেনশন নেই। অসংখ্য ছোট বড় হোটল-রেস্টুরেন্ট আছে পাহাড়িদের। বেশ কয়েকটি মুসলিম হোটলও আছে। খাবার দাবারের দামও স্বাভাবিক। আছে আর্মিদের দুটি ভিআইপি আবাসিক হোটেল। যার একটি রুইলুইপাড়ায় আরেকটি কংলাকপাড়ায়।

সো, এই ঈদ কিংবা সামনের কোনো ছুটিতে আপনিও প্রস্তুত হয়ে যান সাজেক ভ্রমণের জন্য। যাওয়াটা কষ্টকর হলেও পাহাড় আর পাহাড়ী কন্যাদের প্রেমে পড়ে গেলে কিন্তু আপনার আর ফিরতে ইচ্ছে করবে না……..

/এসএস

মন্তব্য করুন