কো র বা নী : শিল্প ও অর্থনীতির পরিচায়ক

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

ইবনে মুসা :  কোরবানী ধনীদের জন্য অবশ্যকরণীয় একটি বিধান। দু বছর আগে কিছু অসুস্থ চিন্তাবিদরা কোরবানী না দিয়ে সে অর্থ তৎকালীন বানভাসীদের মাঝে বিলিয়ে দেবার প্রস্তাব করেছিলো, তারা অথর্ব মূর্খ বৈ কিছু নয়। বর্তমানেও এমন কিছু মূর্খের আবির্ভাবের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কোরবানীর মাধ্যমে শুধু আল্লাহর নৈকট্য/বিধানই পালন হয় না, পাশাপাশি গরীবের ঘরেও বয়ে আনে আনন্দের সু-বাতাস।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষা নিয়ে, ধনী ব্যক্তিরা তাদের কোরবানীর গোস্তের কিছু অংশ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে থাকেন। ফলে গরীব মা-বাবাও স্বীয় সন্তান নিয়ে দু’মুঠো ভালো খাবারের উপলক্ষ্য খুঁজে পান। হাসি ফোটে অসহায় শিশুদের মুখে। আনন্দে নেচে ওঠে চারপাশ।

কোরবানীর পশুর চামড়া বা তার মূল্য গরীবদের জন্যই বরাদ্দ। ফলে বিক্রিত চামড়ার মূল্য দিয়েও উপকৃত হয় লক্ষ লক্ষ গরীব পরিবার। অপরদিকে চামড়া শিল্পে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিও জড়িত। হাজার হাজার টেনারী ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা সারা বছর লোকসান গুনেন এ কোরবানীর আশায়। কোরবানী এলেই জবাইকৃত পশুর চামড়া রপ্তানী করে পুরো বছরের লোকসান পুষিয়ে নেন তারা।

বাহির দেশের সাথেও বন্ধুত্ব তৈরী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম এ ব্যবসা। দেশে হাজার হাজার মানুষ গরুর ব্যবসা করেন। যাদের পরিবার নির্ভর করে এ ব্যবসার ওপর।

প্রতিটি ব্যবসার ক্ষেত্রেই মুনাফার একটি বাম্পার সময় থাকে। গরুর খামারী বা ব্যবসায়ীদের সে সময়টি হলো কোরবানী।
কোরবানীকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার গরু, ছাগল, মহিষ, উট বা ভেড়া লালন-পালন করে থাকেন।

এদিকে এ দেশে বসবাসকারী ভারতীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা নেমেছে “জীব হত্যা মহাপাপ”র ফতোয়া দেখিয়ে কোরবানী বন্ধের দাবি নিয়ে। দু’বছর আগে উগ্রবাদী সংগঠন “হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ” সংবাদ সম্মেলন করে কোরবানী বন্ধের দাবি জানিয়েছিল!

কোরবানী বন্ধ হলে এদের অবস্থা কী হবে? কোরবানী উপলক্ষ্যে দেশের আনাচে-কানাচে অসংখ্য গরু-ছাগলের হাট বসে। যে হাটের মাধ্যমে রাষ্ট্র-জনগণ উভয়ই আর্থিকভাবে লাভবান হয়। বহু অসহায় মানুষও ইজারাদারের কর্মী হয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারে এর মাধ্যমে। মাইক, জেনারেটর, বাঁশ, ডেকোরেটর ও ছাপাখানার ব্যসায়ীদেরও ব্যাবসার একটি মোক্ষম সুযোগ এ কোরবানী।

কোরবানী বন্ধ হলে বানভাসীদেরও দুঃখের সাগরে ভেসে বেড়াতে হবে। কেননা, তাদের অধিকাংশই কোরবানীকে ঘিরে গরু পালন করে থাকেন। যা কোরবানীর হাটে বিক্রি করলে তবেই স্ত্রী-সন্তান আর পরিবারের রুটি-রুজির ব্যাবস্থা হয়।

গরু ব্যাবসায়ীদের বেশীরভাগই উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা। ফলে কোরবানীর সাথে জড়িয়ে আছে তাদের জীবন-মরণ। কোরবানীর সাথে কতো কিছুই না জড়িত! দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি, ব্যবসায়ীদের মুনাফা, গরীবদের হাসি ইত্যাদি জড়িয়ে আছে এ কোরবানীর সঙ্গে। সাথে আল্লাহর হুকুম তো আছেই!

কোরবানী বন্ধ করে দেওয়া হলে যে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে শুধু তাই নয়, বরং প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়ও। তাহলে ওরা কারা? যারা বানভাসীদের দরদী সেজে কিংবা “জীব হত্যা মহাপাপ”র ধোয়া তুলে দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিতে চায়? কেড়ে নিতে চায় গরীব-অসহায়দের মুখের হাসি? ব্যবসায়ীদের বানাতে চায় পথের ভিখারী? ধ্বস নামাতে চায় দেশের অর্থনীতিতে?

যারা কোরবানী বন্ধের দাবি তুলেছে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি-
অশ্লীল সিনেমা নাটক আর কাল্পনিক বিজ্ঞাপনে দেশের অর্থ নষ্ট না করে, সেগুলো দিয়ে কোরবানী করে নিজের ভেতরের পশুত্বকে জবাই করুন, বন্যার্তদের মাঝে বিলিয়ে দিন! গরীবের পাশে দাঁড়ান! আপনাদের নাটক সিনেমার ফলে দেশ অশ্লীলতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। ধর্ষন, পরকীয়া, আত্মহত্যা ইত্যাদি দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এর পূর্ণ অবদানই আপনাদের।

আপনারা দেশ জাতিকে কিছুই দিতে পারেননি এক অসভ্যতা ছাড়া। কোটি কোটি টাকা পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন আপনারা। সুতরাং, মায়ারান্না না দেখিয়ে বাস্তবতায় ফিরে আসুন! ফিরে আমুন সত্য ন্যায় ও কল্যাণের পথে।

বিউটি পার্লারে না গিয়ে অযু করে নামাযে দাঁড়ান! বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ডেটিংয়ে বের না হয়ে সিজদায়ে লুটিয়ে পড়ুন! দেখবেন আপনার চেয়ে লাবণ্যময়ী নারী/পুরুষ দ্বিতীয় কাউকে পাবেন না। আল্লাহ প্রদত্ত্ব নূরের ঝলকে ঝিলমিল করবে আপনার অবয়ব।

আপনিই হবেন শ্রেষ্ঠ সুন্দরী/সুন্দর। অন্তরে ঈমানের নূর চমকালে কেবল তখনই বুঝতে পারবেন কোরবানী কী জিনিস! কতো কল্যাণ রয়েছে এ কোরবানীতে। পাশাপাশি এও বুঝতে পারবেন যে, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে কোরবানী বন্ধ করতে হয় না, বরং স্বদিচ্ছা থাকলে কোরবানী দিয়েও তাদের সহযোগিতা করা যায়।

মন্তব্য করুন