কোরবানীর পশুর চামড়া বিষয়ে জরুরী মাসআলা

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

ককোরবানীর পশু জবাই করার পর চমড়া সংক্রান্ত বিষয় সামনে আসে। অনেকেই প্রশ্ন করেন চামড়া কী করবো? নিজেরা ব্যবহার করবো নাকি অন্যদেরকে দিয়ে দেবো?
তাই, আজকে এ বিষয়ে কিছু জরুরী কথা আলোচনা করছি।

১. নিজের কাজে ও নিজের পরিবারবর্গের কাজে কোরবানীর পশুর চামড়া ব্যবহার করা জায়েজ। যেমন, জায়নামাজ বানানো, বই বাইন্ডিংয়ের কাজে ব্যবহার করা, কোনো পাত্র অথবা জুতা বানিয়ে ব্যবহার করা।

তবে, এসকল জিনিস বানিয়ে ভাড়া দেওয়া যাবে না, নিজেরাই ব্যবহার করতে হবে। এতদসত্ত্বেও ভাড়া দিয়ে দিলে অর্জিত পারিশ্রমিক গরিব-মিসকীনদের মাঝে ভাগ করে দিতে হবে।

২. কোরবানীর পশুর চামড়া দিয়ে কোনো বস্তু বানানোর পর তা অন্যদেরকে হাদিয়া দেওয়া জায়েজ। এক্ষেত্রে ধনী-গরীব, পিতা-মাতা ও বন্ধু-বান্ধব সবাইকে দেওয়া জায়েজ।

৩. কোনো কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানীর পশুর চামড়া দেওয়া জায়েজ নেই। শুধু চামড়াই নয়, বরং কোরবানীর পশুর কোনো অংশই পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া বৈধ নয়।

৪. কোরবানীর পশুর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বস্তু, যেমন বালতি, রশি, গলার হার ইত্যাদিও কোনো কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া বৈধ নয়। কোরবানীর কশাইকেও কোরবানীর কোনোকিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া বৈধ নয়। এমনকি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকেও পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নেই।

৫. কোরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করাও জায়েজ। এমনকি পশুর চামড়া দ্বারা বানানো জিনিসও বিক্রি করা জায়েজ। তবে, তার মুল্য নিজেরা ব্যবহার করতে পারবে না। মুল্য সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। এই সম্পদ গরীব-মিসকীনদের হক হয়ে যায়। এজন্য নিজেরা ব্যবহার করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।

৬. কোরবানীর পশুর চামড়া যদি এমন কোনো জিনিস দ্বারা বিক্রি করে, যেগুলো নিজের কাছে রেখে উপকৃত হওয়া যায় না, উপকৃত হতে হলে সেগুলো খরচ করতে হয়, যেমন, খানার জিনিস, তৈল, পেট্রোল ইত্যাদি, তাহলে এগুলো নিজে ব্যবহার করতে পারবে না। এগুলো সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব।

৭. কোরবানীর চমড়া যদি এমন জিনিস দ্বারা বিক্রি করে, যেগুলো নিজের কাছে রেখে উপকৃত হওয়া যায়, যেমন, কাপড়, কলম, বই, টেবিল ইত্যাদি, তাহলে এগুলো সদকা করা ওয়াজিব নয়। নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। আবার এসকল জিনিস যদি খানা পিনা অথবা ব্যয় করতে হয়, এমন কোনো বিষয় দ্বারা বিক্রি করে ফেললে সেই টাকা সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব।

জাকাত দেওয়া যাদের ওপর ওয়াজিব, চামড়ার মূল্য তাদেরকে দান করা যাবে না। কেবলমাত্র গরীব মিসকীনদেরকেই দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে এমন মাদরাসায় দান করা সবচেয়ে উত্তম, যে মাদরাসায় এতীম-গরীব-মিসকীনরা লেখাপড়া করে।

মন্তব্য করুন