ঈদে পরিবহন বিড়ম্বনা : সরকারের দায় আছে কী?

প্রকাশিত: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

-সম্পাদকীয়

ঈদেই পরিবহন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় হাজার হাজার ঘরে ফেরা মানুষের। এটা বাংলাদেশের একটি পরিচিত দৃশ্য। কোনো সরকারের আমলেই এই দৃশ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। যদিও ঈদের এক সপ্তাহ বা দশদিন আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনেক বড় গলায় যাত্রীদের সুবিধার কথা বলা হয়ে থাকে, কিন্তু সেই সুবিধা আদৌ যাত্রীরা পান কিনা সেটা সরেজমিনে গেলেই প্রত্যক্ষ করা যায়।

প্রত্যেকটি স্টেশনে গেলেই দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট আমলাদের নিয়ে যাত্রীদের গালমন্দ এবং অসন্তোষ প্রকাশ! অভিযোগ আছে, পরিবহন মালিকরা ঈদের আগে নিজেরাই টিকিট সিন্ডিকেট করে থাকেন। দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করেন যাত্রীদের কাছে। যাত্রীদের অভিযোগ- টিকিট থাকতেও তারা বলেন টিকিট নাই। দাম বাড়াবার জন্যই এই ফন্দি।

ঢাকা টেকনিক্যাল থেকে ছেড়ে যাওয়া রংপুরগামী শ্যামলী পরিবহন সম্পর্কে রংপুরের যাত্রী হোসাইন বলেন, গত ঈদে অনেক চেষ্টা করেও একটা টিকিটও পাইনি। শেষ পর্যন্ত বক্সে বসে রওয়ানা হই। তাও স্বাভাবিকের থেকে অধবক ভাড়া দিয়ে। কিন্তু গাড়িতে উঠে দেখি অনেকগুলো সিট ফাঁকা!

ড্রাইভার-সুপারভাইজার বলাবলি করতে ছিলো, এবার আমাদের সিন্ডিকেটে আমরাই ধরা খেলাম! এখান থেকে প্রমাণ হয় মালিক সমিতির লোকজন টিকিট সিন্ডিকেট করে যাত্রী থেকে বেশি ভাড়া আদায় করে থাকে। ফলে যাত্রীরা নাড়ির টানে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় টিকিট কাটেন।

এর থেকে উত্তরণের কি কোনো পথ নেই? সরকার ও মালিক সমিতির লোকজন আন্তরিক হলে ঘরে ফেরা মানুষের মুখে যাতায়াতপথে একটু হলেও হাসি ফোটাতে পারেন। ঘরে ফেরা যাত্রীরা যে দুর্দশায় পড়েন তা বর্ণনাতীত। নারী ও শিশু নিয়ে যারা বাড়ি ফেরেন তাদের দুর্ভোগের তো কোনো শেষই নেই।

আরও অভিযোগ আছে, ঈদে পরিবহনের সুপারভাইজার-হেলপারদের আচরনও থাকে ক্ষিপ্ত এবং নির্দয়। তারা যেটা বলে যাত্রীদের সেটাই মানতে হয়। বেমি টাকা কামানোর ধান্দায় রাফ গাড়ি টানে ড্রাইভাররা। যাত্রীরা বারণ করলেও শোনে না। ফলে প্রায় প্রত্যেক ঈদেই অনেক মানুষ রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় স্বজনহারা বেদনায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিক হওয়ার বিকল্প নেই।

সরকারের উচিত এসব বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক সময় সুপারভাইজার হেলপার কিংবা ড্রাইভার ঘুমের অজুহাতে প্রকাশ্যে গাড়ির মধ্যে ধূমপান করে থাকে। এতে অনেক যাত্রীদের অসুবিধা হয়। কোনো সচেতন নাগরিক তাদের কে বারণ করলে তারা বলে, সিগারেট না খেলে ঘুম এসে যায়!

আসলে কথাটা কি আদৌ যৌক্তিক? রাত্রিকালীন ড্রাইভারদের যদি ঘুমই আসে, তাহলে তারা রাত্রিকালীন গাড়িতে কেন ড্রাইভিং করে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল থেকে কার্যকরি ভূমিকা বা পদক্ষেপ আশা করি।

এর পর ফেরি বিরম্বনা। বিশেষ করে মাওয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাট। ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে পড়ে থাকতে হয় যাত্রীদের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও এই ঘাটের কোনো উন্নতি দেখা যায় না। বিগত দিনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনগুলোতে যাতে সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি পরামর্শ থাকলো।

মন্তব্য করুন