কাশ্মীরে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গুজব বলে উড়াচ্ছে ভারত

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

ইসমাঈল আযহার:

ভারতীয় গণমাধ্যমসহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে মিথ্যা বলে দাবি করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণকেও মিথ্যে এবং গুজব বলে দাবি তাদের। ভারতের একটা পত্রিকা বলছে, ‘৩৭০ ধারা বিলোপের আগে থেকেই গুজবের ফুলঝুরি দেখা গিয়েছে কাশ্মীরে। সরকারি সিদ্ধান্তের পরও গুজব ছড়ানোর সেই প্রবণতা বন্ধ হয়নি। এই গুজব ছড়ানোর প্রবণতা উপত্যকার গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে।’

গণমাধ্যমটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদকেও মিথ্যে বলে দাবি করছে। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও একই সুর তুলেছে। শুক্রবারই আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স দাবি করে কাশ্মীরে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যে বিক্ষোভে নাকি অন্তত ১০ হাজার কাশ্মীরবাসী সামিল হয়েছেন। শনিবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়ে দিল রয়টার্সের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক এক দেশীয় গণমাধ্যমগুলো কাশ্মীরের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। শুধু ভারত তার উল্টো সুর ধরেছে। বিবিসির সাংবাদিক পর্যন্ত কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখে বলেছেন, এমন অবস্থা তিনি কোনো দিন দেখেননি। কাশ্মীরে মোদি সরকার কারফিউ জারি করেছে। উপত্যকার জনগণ বলছে, মাত্র দশ মিনিটের জন্য কারফিউ তুলে নিক সরকার এরপর দেখুক কী অবস্থা হয়। সামনে ঈদ। ঈদে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা লাটে উঠেছে। সবাই মাল কিনেছে রেখেছে কিন্তু বিক্রি করতে পারছে না। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। না খেয়ে দিন কাটেছে তাদের।

এসব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ উড়িয়ে দিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, ‘কিছু সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে কাশ্মীরে নাকি ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত। শ্রীনগর এবং বারামুলায় কিছু বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু, কোনওটিতেই ২০ জনের বেশি লোক জমায়েত হননি।” গোটা উপত্যকায় বেশ কিছুদিন ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবা বন্ধ থাকার জন্য সে অর্থে স্থানীয় খবর প্রকাশ পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে রয়টার্স কীভাবে ১০ হাজার মানুষের বিক্ষোভের এই দাবি করল তা ভেবে পাচ্ছেন না কাশ্মীরের স্থানীয় সাংবাদিকরা।’ এমন দাবি নিতান্তই হাস্যকর।

বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এরকম অবস্থা এর আগে তিনি কখনো দেখেননি। এর সঙ্গে যেন আগের কোনো কিছুর তুলনা চলে না। কাশ্মীর এখন যেন এক মৃত্যুপুরী। রাস্তাঘাটে কোনো লোকজন নেই। পুরো রাজ্য জুড়ে আছে প্রায় আড়াই লাখ ভারতীয় সেনা। টানা কারফিউ জারি রয়েছে। দোকানপাট বন্ধ। অনেকের বাড়িতেই খাবার ফুরিয়ে গেছে, রেশন ফুরিয়ে গেছে। কেনাকাটার জন্য তারা সাহস করে কেউ কেউ বেরুচ্ছেন, কিন্তু কিছু কেনার মতো কোন দোকান খোলা নেই। ব্যাপক ধরপাকড় শ্রীনগরের যেসব জায়গায় আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে পুরো শহর জুড়ে একটা থমথমে পরিবেশ। চারিদিকে আতংক, ক্ষোভ। রাজনীতিবিদদের প্রায় সবাই কারাগারে কিংবা গৃহবন্দী। আন্তর্জাতিক এবং কাশ্মীরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। মোদি সরকার কাশ্মীরের আসল বিষয়টি চাপা রাখার জন্যই এমন উদ্যোগ নিয়েছে।

আই.এ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন