হজ্বে নারীদের করণীয় ও বর্জনীয়

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

মুফ্তি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

নারীরা সামর্থ্যবান হলে তাদের উপরও হজ্ব করা ফরজ। তবে হজ্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বিশেষভাবে পালনীয় কিছু বিধান রয়েছে; যা তাদের হজ্ব পালনে সুবিধা ও পবিত্রতা রক্ষায় অধিক সহায়ক। পবিত্র হজ্বব্রত পালনে গমনেচ্ছুক মা-বোনদের হজ্বের কার্যাবলী সঠিকভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে এ সংক্রান্ত কিছু বিধি-বিধান পাঠকদের খেদমতে উপস্থাপণ করছি:-

  • প্রত্যেক নারীকে অবশ্যই মাহরাম পুরুষের সঙ্গে হজ্ যেতে হবে। মাহরাম বলা হয় এমন পুরুষকে যার সঙ্গে দেখা দেওয়া জায়েজ। যেমন- পিতা, পুত্র, স্বামী, আপন ভাই, আপন চাচা, আপন মামা ইত্যাদি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, কোনো নারী যেন স্বীয় মাহরাম ছাড়া সফর না করে। অতঃপর এক সাহাবী আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জেহাদে যাওয়ার জন্য সৈন্যদলে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছি, আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে ইচ্ছা করেছে। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমিও তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্বে যাও। (বুখারি: ১৭৪০)।
  • ঋতুবর্তী অবস্থায় তাওয়াফ করা যাবে না; তবে হজ্বের অন্যান্য আহকাম পালন করা যাবে। আর ঋতু শেষ হলে গোছল করে তাওয়াফ করে নিতে হবে। উল্লেখ্য যে, এ কারণে তাওয়াফ বিলম্বিত হলে গুনাহ হবে না। একদা হযরত আয়েশা রা. হজ্বের সময় ঋতুবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, হাজ্বিরা যা করে তুমিও তা কর, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ করবে না। (বুখারি: ১৫৪৭)।
  • ইহরাম অবস্থায় সাধারণ ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করতে হবে এবং মাথা ঢেকে রাখতে হবে। আকর্ষনীয় পোশাক পরিধান করা বা চেহারা ঢেকে রাখা যাবে না। এখানে চেহারা না ঢাকার দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয় যে, চেহারা সম্পূর্ণ খুলে রাখতে পারবে, বরং ইহরাম অবস্থায়ও পর্দার প্রতি সর্বোচ্চ খেয়াল রাখা জরুরী। তাই মাথার উপর ক্যাপ বা এ জাতীয় কিছু পরিধান করে তার উপরে নেকাব ঝুলিয়ে দিবে; যাতে নেকাবের কাপড় চেহারা স্পর্শ না করে।
  • নারীরা পুরুষদের মত মাথা মুন্ডাবে না। বরং চুলের আগা থেকে এক কর পরিমাণ ছেটে ফেলবে। হযরত আলী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. নারীদেরকে মাথা মুন্ডন করতে নিষেধ করেছেন (তিরমিযি: ৯১৬)। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় চুল একত্র করে তা থেকে আঙুলের এক কর পরিমান ছোট করবে (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ১৩০৬৫)।
  • রমল ও এজতেবা করা যাবে না। এ বিষয়ে ইবনে মুনযির রহ. বলেন, তাওয়াফ কিংবা সায়ী কোনো ক্ষেত্রেই নারীরা রমল এজতেবা করবে না। কারণ এর উদ্দেশ্য হল শক্তিমত্তা ও বীরত্ত্ব প্রকাশ করা, যা নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অধিকন্তু পর্দা রক্ষা করাই তাদের মূল বিষয়। আর এ ক্ষেত্রে পর্দা লঙ্ঘিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

সুত্র: ফাতাওয়ায়ে শামী, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, কিতাবুল হজ্ব ইত্যাদি।

লেখক: ইসলামী আলোচক  ও গবেষক।

মন্তব্য করুন