কাশ্মীর কা কলি

প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০১৯

কাশ্মীরের সুন্দর সুন্দর মেয়েদেরকে সাহিত্যের ভাষায় ‘কাশ্মীর কা কলি’ বলে অভিহিত করা হয়। কাশ্মীরের মাঝে যা কিছু আছে, তার সবই সৌন্দর্য আভিজাত্য ও ঐশ্বর্যে ভরা। কাশ্মীরের মাটিকে যেন স্বর্গ থেকে আনা হয়েছে। এ মাটিতে উৎপন্ন ফলরাজী সুস্বাদুর দিক দিয়ে পৃথিবী সেরা । কাশ্মীরের নয়নাভিরাম পাহাড়, নদী, বাগান, শষ্য ক্ষেত্র, প্রাণীজগত ও আবহাওয়া সবকিছুই মেনে নিয়েই তো বলা হয়ে থাকে ‘পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ।’

কাশ্মীরের একটি ফুল পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ফুল হিসেবে বিবেচিত। আমি জাফরানের কথা বলছি। কাশ্মীরি জাফরানের মান অন্যান্য দেশে উৎপন্ন জাফরানের চেয়ে উৎকৃষ্ট। দামেও অতিরিক্ত মূল্যবান। কাশ্মীরের প্রাণীগুলোও তো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কাশ্মীরি জাফরান সারা বিশ্বে রপ্তানি করা হয়। এর ফলে ঐ অঞ্চলের বাসিন্দারা ব্যাপক প্রাচুর্যতার মাঝে থাকে।

তাঁদের পরিমিত উৎকৃষ্ট খাবার গ্রহণ, ইসলামী আদর্শের মাঝে থেকে স্বতন্ত্র জীবনযাপন তাদেরকে ভিন্ন প্রকৃতির মুসলিম হিসেবে বিশেষভাবে মূল্যায়ণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারে পর্দা প্রথাটা অবশ্য বাঞ্ছনীয়। পারিবারিক ইজ্জত আব্রূর মাঝে বেড়ে ওঠা কাশ্মীরের মেয়েরা অত্যন্ত সুশ্রী ও স্বাস্থ্যবান। যে কোনো পুরুষ দেখলে তাদেরকে ঘরনী করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।

ভারত সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে কাশ্মীরের চিরচেনা ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্রতা আজ হারানোর উপক্রম। সরকারী দলের পান্ডারা কাশ্মীর দখলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঐ এলাকায় বাড়ীঘর স্থাপনের জন্য কূট কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তাদেরকে দলীয় নেতারা নির্দেশ দিচ্ছে, কাশ্মীরে যাও, আর সুন্দরীদেরকে বিয়ে করো। জোর করে হলেও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে ওখানের বাসিন্দা হয়ে যাও।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার আইন বহাল থাকলে তারা এমনটা কল্পনাও করতে পারতো না। ওখানকার জায়গাজমি বহিরাগতদের কাছে ক্রয়-বিক্রয়ে বারিত ছিল। ছিলো বহিরাগতদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা। কোনো মেয়ে যদি অ-কাশ্মীরি কাউকে বিয়ে করে ফেলতো, তাহলে সে কাশ্মীরের মাটির হিস্যা থেকে বাদ পড়তো। দূরে গিয়ে সংসার করতে হতো। আর এখন হিন্দু গেরুয়াধারী গুন্ডারা কাশ্মীরে অবাধ প্রবেশ করে সেখানকার মাটি ও মানুষকে অপবিত্র করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। জোর জবরদস্তি করে কাশ্মীরীদের সাথে বিয়ে শাদী করার জন্য হামলে পড়বে তা সহজেই অনুমেয়। আর বিয়েতে রাজী না হলে চলবে ধর্ষণের উৎসব।

একজন মুসলমান হিসেবে এসব কথা ভাবতেই শরীর শিউরে ওঠে। পৃথিবী তো মানুষদের বসবাসের জায়গা। কিন্তু অমানুষরা গ্রহটি দখল করে আছে। খারাপ মানুষে ভরে গেছে। যাদের প্রভাব ও ক্ষমতা আছে, তারা এখন মোদি সরকারের সাথে পিরিতি বজায় রেখে চলছে। বুঝা গেছে তাঁরা সোচ্চার হবে না কাশ্মীরে আগ্রাসন ইস্যুতে। বাংলাদেশ সরকার সাফ জানিয়েছে, তারা ভারতের পক্ষে থাকবে। অর্থাৎ ইসরাইল আর ভারতের মিত্র দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। যেখানে নব্বই পারসেন্টেরও বেশী মুসলমান বসবাস করে। জনসংখ্যা বা সমর্থন বর্তমানে কোন ফ্যাক্ট না। ফ্যাক্ট হলো, অস্ত্র বা ক্ষমতা যাদের হাতে তারাই সর্বেসর্বা। জনমত বা সেন্টিমেন্ট ওসব এখন কিতাবি কথা।

এ সরকারটা তো দেশের জনগনের রায় নিয়ে আসেনি। তারা জবর দখলের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে আছে। জনগন পক্ষে থাকলেই কি আর না থাকলেই বা কি? কে কি বললো তাতে কিচ্ছু যায় আসে না! প্রকৃত মুসলমানরা আল্লাহতে বিশ্বাসী। আল্লাহই তাদের জন্য যথেষ্ট। আমাদের এত উদ্বেগ কেন? সময় মতো তিনি তাঁর বান্দাদেরকে জিল্লতি থেকে মাহফুজ করবেন। এটাই আপাতত মোদের আস্থা ও শান্তনা।

লেখক, এক্টিভিস্ট ও বিশ্লেষক

মন্তব্য করুন