কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০১৯

আশরাফ আলী সোহান : ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কতৃক দেশটির সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির মাধ্যমে কাশ্মীরের শেষ স্বাধীনতাটুকুও কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের খেলাফত যুব মজলিস।

৭ আগস্ট (শুক্রবার) শহরের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদ চত্বর থেকে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল বের হয় এবং একই স্থানে জড়ো হয়ে দোয়ার মাধ্যমে শেষ হয়।

যুব মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা উসমান গনীর পরিচালনায় জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা উসমান গনী কাগজী, যুব মজলিস পৌর শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ শামসুল আলম, মাওলানা মেসবাহ উদ্দিন, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রমূখ।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন; ভারত সরকার কাশ্মীরের মুসলমানদের উপর যে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে কোন মুসলমান তা বরদাশত করতে পারেনা। প্রতিনিয়ত তাদের উপর অবিচার করেই যাচ্ছে। এসবের শেষ চাই। চাই আজাদ কাশ্মীর। চাই আমার ভাইবোনের নিরাপত্তা, বেঁচে থাকার অধিকার। আমরা কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের প্রাণের যে দাবী স্বাধীনতা সেই দাবির প্রতি বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখার আহবান জানাচ্ছি। বক্তারা আরও বলেন ইতিমধ্যে কাশ্মীরের যে সকল নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার ও গৃহবন্দী করা হয়েছে তাদের মুক্তির দাবি জানাই। পাশাপাশি ওআইসি ও জাতিসংঘকে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের পাশে দাড়ানোর আহবান জানাই।

প্রসঙ্গত : ভারত অধিকৃত জম্মু কাশ্মীর রাজ্যকে আলাদা মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা দিয়ে ভারতের সাংবিধানে যে ৩৭০ ধারা এবং ৩৫-এ আর্টিকেল রয়েছে অন্যায় ভাবে ভারতের বিজেপিশাসিত সরকার তা রদ করে দিয়েছে। যার মাধ্যমে জম্মু কাশ্মীর তার আলাদা রাজ্যের মর্যাদা হারিয়েছে সাথে সাথে জম্মু কাশ্মীরকে ভাগ করে লাদাখ অঞ্চলকে আলাদা রাজ্য এবং জম্মু কাশ্মীরকে আলাদা রাজ্য করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপির প্রধান এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর নেতৃত্বে গতকাল সোমবার (৫ আগষ্ট) রাজ্যসভায় এই ধারা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়। বিরোধি দদলগুলোর চরম বিরোধিতা উপেক্ষা করেও রাজ্যসভায় এ বিলটি পাশ করিয়ে নেওয়া হয়। রাজ্যসভায় এ বিল পাশ হওয়ার পর সমগ্র ভারতে কঠোর প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছে কংগ্রেস, সিপিএমসহ অনেক সংগঠন। কিন্তু সেসব প্রতিবাদ উপেক্ষা করে আজ মঙ্গলবার রাজ্যসভার পর লোকসভাতেও পাশ হয়ে গেল ‘কাশ্মীরিদের অধিকার খর্ব করার বিল’ বা ‘আর্টিকল ৩৭০’ বিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৩৬৬ ভোটে লোকসভায় বিলটি পাশ হয়ে গিয়েছে। এবার শুধু রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষা।

এর আগে রাজ্যসভায় তথাকথিত এই ‘কাশ্মীর রি-অর্গানাইজেশন বিল’ পাশ হয় দুই তৃতীয়াংশ ভোটে। তবে এ বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন তারা কাশ্মীরিদের সকল ধরণের সহায়তা দেবে। ইমরান খানকে সকল ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এমনকি বিশ্ব পরাশক্তি চিনও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

মন্তব্য করুন