তুমি চিরঞ্জীব হও বৈশাখী ভালোবাসায়

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০১৯

রেজাউল করিম:

তিনি ছিলেন নিরক্ষর, স্মরণশক্তিতে প্রখর।
অসাধারণ সমরনায়ক, সংস্কারক;
দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভারত অধিশ্বর।
তিনি হলেন মুঘল বাদশাহ আকবর।

১৫৫৬ থেকে তিনি ভূ-ভারতের অধিশ্বর!
‌তখন থেকে নব রাজ্য জয়ে নব সংস্কারে নবচিন্তায় নব উদ্ভবাবনে নব আলোকে আলোকিত উদ্ভাসিত ভারত অধিশ্বর।
‌তিনি স্বপ্ন দেখলেন বিদ্রোহপ্রবণ বাংলা জয়ের।
‌একদিন তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো।
‌এই স্বপ্নই যে একদিন বাঙালি সংস্কৃতির ঐক্যতান হবে, একথা কে জানতো?
‌তিনি বাংলাসনের নব উদ্ভাবনে নব সংস্করণে হাত দিলেন।
তিনি সৌভাগ্যবান, পারস্য জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমীর ফতুল্লাহ সিরাজীকে পেয়ে যান।
সিরাজি এবার থেমে নেই,
গভীর চিন্তায় সৃজনশীল ভাবনায়
হিজরী চন্দ্রবর্ষপঞ্জিকে
সৌরবর্ষপঞ্জিতে রূপান্তর করলেন।
নব বাংলা পঞ্জিকার উদ্ভাবন,
বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক
নবদিগন্ত উম্মোচন।
এ কী আনন্দ! নব চিন্তার, নব সৃষ্টির।

সম্রাটের সিংহাসনে বসার বছর থেকে
বাংলাসন কার্যকর হয়,
৯৬৩ হিজরীসন থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। সৌর বছর থেকে ৫৯৩ বছর কমে
বাংলাসনের বয়স নির্ধারিত হয়।
বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
নব চিন্তন নব সংয়োজন।
কতো আনন্দ! কতো উল্লাস!

ওই হিজরী সনের মুহররম মাস,
বাংলা বৈশাখ মাস। শেষ মাস চৈত্র।
সেই থেকে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ। আকবরের এ চিন্তা একদিন বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে ভিত্তি রচনা করবে,
এ কথা কে জানতো?
আজ পহেলা বৈশাখ।
বাঙালির একক সর্বজনীন উৎসব।
বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে
এ উৎসবের তাঁর অবদান অস্বীকার করার কে?
এ উৎসবের আদি পুরুষ স্রষ্টা-দ্রষ্টা
সম্রাট আকবর ছাড়া আর কে?

ইতিহাস-পন্ডিতের ভাষ্যে, তিনি
ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক;
আজ তুমি হয়ে উঠেছো বাঙ্গালী সংস্কৃতি, জাতীয়তাবাদেরও এক অনন্য প্রবর্তক।
মহামতি আকবর,
তোমাকে জানাই হাজারো সালাম।
তুমি চিরঞ্জীব হও,
বৈশাখী হাওয়ায় আবেগে
ভালোবাসায় চেতনায়।

লেখক: সহযোগি অধ্যাপক, চট্টগ্রাম কলেজ

/এসএস

মন্তব্য করুন