ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু: আসুন নিজেরাও কিছু করি

ডেঙ্গু

প্রকাশিত: ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০১৯

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সর্বত্র। সরকারি হিসেবে শুধু সোমবারই ঢাকাসহ দেশের ৫০ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০৯৬ জন।

কী করব আমরা?

লার্ভাবস্থা সহ সাধারণত ৫-৭ দিন। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ায় ১৪ দিন পর্যন্তও হতে পারে। আবার প্রজাতিভেদে মাসখানিক বা তারও বেশি সময় ধরে বেচে থাকতে পারে। এ অবস্থায় মশার আবাসস্থল ধ্বংস করতে হবে আমাদের। নতুনভাবে জন্মাতে দেয়া যাবে না মশা। তাই নিজের বাসস্থান ও আশপাশের এলাকায় নিজের উদ্যোগেই চালাতে হবে নিধন অভিযান।

মশা মারার চেয়ে মশার প্রজনন রোধ জরুরি। মশা তার জীবনচক্রের প্রথম ১০ দিন পানিতে কাটায়, তারপর যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে তখন তাদের মারা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ছোট ছোট এই বাচ্চা সহজেই মারা যায়। তাই পানিতে থাকা অবস্থায় মশার প্রজনন স্থান নির্ণয় ও নির্মূল করা মশা নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর অংশ।

কোনো পাত্রে পানি জমে থাকতে দেবেন না। আবর্জনা পরিষ্কার রাখুন বাসার আশপাশে। এডিস মশা স্থির পানিতে ডিম পাড়ে, তাই বালতি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার, বাড়ির আশপাশ প্রভৃতি স্থানে যেন পানি জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুষ্ক ও আর্দ্র উভয় মৌসুমে এডিস মশা সক্রিয় থাকে, তবে বর্ষার সময় এদের আধিক্য দেখা যায়।

এডিস মশা সাধারণত সূর্যোদয়ের আধঘণ্টার মধ্যে ও সূর্যাস্তের আধঘণ্টা আগে আক্রমণ করে থাকে। তাই এ দুই সময়ে মশার কামড় থেকে সাবধান থাকতে হবে।

মশারি ব্যবহার করুন বর্ষাকালে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। এটা ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম পন্থা। এডিস মশা দিনের বেলাতেও কামড়ায়। তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারি ব্যবহার করুন।

যদি জ্বর হয়ে যায়?

ডেঙ্গু জ্বরের যে উপসর্গগুলো দেখা যায় তার মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, পেশী ও গিটে ব্যথা এবং ত্বকে র্যাশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। স্বল্পক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে পরিণত হয়, যার ফলে রক্তপাত, রক্ত অণুচক্রিকার কম মাত্রা এবং পরবর্তীতে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে পরিণত হয়।

বেশিরভাগ ডেঙ্গু জ্বরই সাত দিনের মধ্যে সেরে যায় এবং অধিকাংশই ভয়াবহ নয়। প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান, বিশ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার গ্রহণ করা। সঙ্গে জ্বর কমানোর জন্য এসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) গ্রুপের ওষুধ সেবন করতে হবে। তবে ব্যথানাশক ওষুধ হিসাবে অ্যাসপিরিন বা ক্লোফেনাক জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে।

জ্বর কমানোর জন্য বার বার শরীর মোছাতে হবে। রোগীকে সব সময় মশারির ভিতর রাখতে হবে। জ্বরের সঙ্গে রক্তক্ষরণ হলে বিশেষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

মন্তব্য করুন