লক্ষ্য পূরণে যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভাগ্য

প্রকাশিত: ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০১৯

…………………………………

মোঃ জিবুর রহমান(সবুজ)

………………………………..

১ম পর্ব-

মোঃ সাজিদুল ইসলাম একটা গরিব পরিবারের ‘মা’ বাবার আদরের ছেলে। আদর করে তাকে সাজু বলে ডাকে সবাই। খুব মেধাবি ছিল বলে ‘মা’-বাবার আশা পূরণের একমাত্র মনোবল ছিলো সাজিদুল। কিন্তু আশা পূরণ করার মতো সৌভাগ্য আর হলো না। সাজু যখন এসএসসি পরীক্ষা দিবে এমন সময় দুনিয়া ছাড়লেন বাবা। পরিবারে আয়ের আর কোনো লোক না থাকায় কাজের সন্ধানে নামতে হয় সাজুকে।

ফলে সাজুকেই খুঁজতে হয় কাজ। বন্ধ হয়ে যায় পড়ালেখা। শুরুতে এলাকায় কিছু দিন কাজ করলেও নিয়মিত জুটতো না কাজ। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই `মা’কে নিয়ে পাড়ি জমাল শহরে। শহরে কী চাকরি করবে তা ভেবে পায় না সাজু। অনেক চেষ্টা করেও কোনো চাকরি পেল না। চাকরি খুঁজতে গিয়ে বার বার প্রতারণার শিকার হয়েছে সাজু। কিন্তু মেলেনি কোনো কাজের সন্ধান। বেঁচে থাকার জন্য অর্থ দরকার। কিন্তু নেই কোনো কাজের সন্ধান, কোথা থেকে আসবে টাকা। মাকে নিয়ে দিন কাঁটছে অনেক কষ্টে। একদিকে শহরে থাকা খাওয়ার খরচ; অন্যদিকে নেই কাজের সন্ধান। সবচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে বাধ্য হয়ে সাজুকে বেছে নিতে হয় রিকশা।

ঢাকার রাস্তাঘাট তেমন একটা চেনা নেই সাজুর। না তার পরেও জীবিকার অভাবে রিকশা নিয়েই নামতে হয় অচেনা ঢাকার রাস্তায়। রিকশা চালিয়ে সাজু যা আয় করে তাতে মাকে নিয়ে চালতে কঠিন ছিলো। ফলে রিকসার পাশাপাশি অবসর সময়ে দিনমজুরের কাজ ও করত সাজু। এই ভাবে কেটে গেলো কয়েকটা বছর। তখন ‘মা’ ভালো একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করালেন সাজুকে। সাজুর পড়াশুনা খুব বেশি না থাকলেও স্ত্রী সামিরা ছিলেন শিক্ষিত। বিয়েক কয়েক দিন যেতে না যেতেই সাজুর স্ত্রী সামিরা স্বামীর সাহায্য করতে টিউশনি করা শুরু করেন। আর সাজু রিকসা চালানোর উপার্জনে সুখেই চলছিল তাদের সংসার।

দুই বছরের মাথায় সাজুর স্ত্রীর কোল জুড়ে এলো পুত্র সন্তান। ছেলের নাম রাখে রবিন। রবিনের জন্ম নিয়ে সাজুর পরিবার খুব খুশি। কিন্তু মাঝে মাঝে সাজুর মনে কি যেন এক ভয়। সাজু চিন্তা করে আদরের সন্তানও কি আমার মতো রিকশা চালাবে না চাকরি করবে? কিন্তু সেই চিন্তা যেন সাজুকে কোন ভাবেই টলাতে পারেনি। তার আশা ছেলেকে শিক্ষিত করবে এবং তার আশা পূরণ করবে। মানুষের মতো মানুষ হবে। তার বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও রবিন যেন তাদের আশা পূরণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন