পাঠ্যবই থেকে ‘বিবর্তনবাদ’ বাতিলের দাবিতে প্রবাসী শত আলেমের বিবৃতি

প্রকাশিত: ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০১৯

ইবনে সালেহ : বাংলাদেশের স্কুল কলেজের পাঠ্যবই থেকে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ বা ‘ডারউইনবাদ’ বাতিলের দাবি জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন প্রবাসের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী আলেমদের মধ্যে শতাধিক প্রবাসী আলেম।

শতাধিক আলেম এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। যেখানে ৯২% মুসলমানের বসবাস। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষনা দিয়েছিলেন ‘দেশ চলবে মদীনার সনদে’। তিনি একাধিকবার বলেছেন যে ‘ইসলাম বিরোধী কোন আইন করবে না’। সেই দেশে কিভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নাস্তিক বানানোর পরিকল্পনায় গুটিকয়েক নাস্তিকের পরামর্শে ডারউইনের বিবর্তনবাদ সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হলো? নবম-দশম শ্রেণী থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষার আধুনিকায়নের নামে নাস্তিক্যবাদি ধ্যান-ধারণার ‘বিবর্তনবাদ’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি বলেও বলেন প্রবাসী আলেমরা।

বিবৃতিতে জাতীয় পাঠ্য বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে ওলামায়ে কেরামরা বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পাঠ্যবইয়ে যে বিবর্তনবাদ পড়ানো হচ্ছে তাতে উল্যেখ রয়েছে, “বিবর্তনের বিপক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। জীব-জগৎ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যতই সমৃদ্ধ হচ্ছে, বিবর্তনকে অস্বীকার করা ততই অসম্ভব হয়ে পড়ছে”। (জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, ২৭৬ পৃষ্ঠা)।

নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইয়ের ১১২ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে- “পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীকে নিয়ে একবার একটা জরিপ নেওয়া হয়েছিল, জরিপের বিষয়বস্তু ছিল পৃথিবীর নানা বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ কোনটি। বিজ্ঞানীরা রায় দিয়ে বলেছিলেন, বিজ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ তত্ত্ব হচ্ছে ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব”।

প্রবাসী আলেমরা বলেন, কত ভয়ংকর ভুল তত্ত্ব আমাদের সন্তানদেরকে পড়ানো হচ্ছে। অথচ বিবর্তনবাদের বিপক্ষে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক প্রমান রয়েছে।

পাঠ্যবইয়ের রেফারেন্সে প্রবাসী আলেমরা বলেন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ‘জীববিজ্ঞান’ বইয়ের ২৯২ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে- “বিবর্তনের ক্ষেত্রে ডারউইনের মতবাদ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী ও সাড়া জাগানো অবদান”। ২৯৪ পৃষ্ঠায় আছে- “বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রাপ্ত প্রমাণগুলো একত্র করলে কারো পক্ষে-এর বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি তৈরি বা উত্থাপন করা সম্ভব হবে না।

এভাবেই ২০১৩ সালের পর থেকে গত ৬ বছর ধরে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে বিবর্তনবাদ পড়ানো হচ্ছে। যার কারণে ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি যে, দেশের তরুণ শিক্ষিত শ্রেণীর একটা অংশের মধ্যে নাস্তিক্যবাদি চিন্তা-চেতনা দিনের পর দিন বাড়ছে। স্বাধীন সার্বভৌম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে এটা কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রবাসীদের রক্ত ঘামে উপার্জিত রেমিট্যান্সের টাকায় বেতন খেয়ে মুসলমানদের ঈমান আক্বিদা ধ্বংসের আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা আপামর তৌহিদী জনতা কখনো সফল হতে দিবে না।

প্রবাসী ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, সরকারের প্রতি দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের দাবী, পাঠ্যবই থেকে ইসলামী আক্বিদা- বিশ্বাস এবং সংবিধান বিরোধী ‘বিবর্তনবাদ’ বাতিলের পাশাপাশি ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

শতাধিক প্রবাসী ওলামায় কেরামের পক্ষে যেসব ওলামায়ে কেরাম বিবৃতি দিয়েছেন তারা হলেন, শায়েখ মুফতী মিজানুর রহমান, সৌদিআরব। মাও. আমিনুল ইসলাম, সৌদি আরব। হাফেজ মাও. বেলায়েত হোসাইন, সৌদিআরব। এইচ.এম শহীদ উল্লাহ, সৌদিআরব। মুফতী জহিরুল ইসলাম, সৌদিআরব। সৈয়দ মাও. হাবিব উল্লাহ বেলালী, সৌদিআরব। মাও. আতাউর রহমান মারুফ, সৌদিআরব। মাও. জসিম উদ্দীন, সৌদিআরব। মাও. ওসমান গনী রাসেল, সৌদিআরব। মাও. মজিবুল হক ভূঁইয়া। সৌদিআরব। মাও. ইব্রাহীম খলিল, সৌদিআরব। মাও. এমদাদ উল্লাহ, সৌদিআরব। মাও. নুরুল ইসলাম, সৌদিআরব। মাও. নজরুল ইসলাম, সৌদিআরব। মাও. আবু তাহের, সৌদিআরব।মাও. ফয়েজ উল্লাহ, সৌদিআরব। মাও. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৌদিআরব। মাও. শামসুল হক ভূঁইয়া, সৌদিআরব। মাও. হাফেজ জাকির হোসেন, সৌদিআরব। মাও. মাহমুদুল হাসান, সৌদিআরব। মাও. মেজবাহ উদ্দীন, সৌদিআরব। মাও. এনায়েত উল্লাহ, সৌদিআরব। মাও. শামসুর রহমান, সৌদিআরব। হাফেজ ফজলুল হক, সৌদিআরব। হাফেজ শাহ অালম, সৌদিআরব। মাও. সাবের আহমদ, ওমান। মুফতি হোসাইন অাহমদ, ওমান। মাও. মীর আহমাদ মিরু,ওমান। মাও. মিজানুর রহমান, ওমান। সাংবাদিক মাওলানা আজগর সালেহী, ওমান। মাও. এমদাদ উল্লাহ, ওমান। মাও. আবুল হাসেম, ওমান। মাও. সাইফুল ইসলাম, ওমান। মাও. আলিম উল্লাহ, ওমান। মাও. রহমত উল্লাহ, ওমান। মাও. ওবায়দুল করীম, ওমান। মাও. সিরাজুল ইসলাম শিরাজী, ওমান। মাও. মির হোসেন মীরু, ওমান। মাও. শাহাদাত হোসেন মোরশেদ, ওমান। মাও. রফিক বিন হোসাইন, ওমান। মাও. তৈয়্যব হাটহাজারী, ওমান। মাও. সানাউল্লাহ হক্কানী, ওমান। মাও. তাজুল ইসলাম, ওমান। মাও. আবুল খায়ের মাসুদ, ওমান। মাও. ওসমান গণী সুয়াবিলী, ওমান। মাও. ইরফানুল হক চৌধুরী, ওমান। মাও. ক্বারী তৈয়্যব, ওমান। মাও. আবদুর রহিম, ওমান। মাও. আবুল কালাম, ওমান। মাও. আব্দুল কাইয়ুম, ওমান। মাও. আবুল হাশেম, ওমান। মাও. আব্দুল হক হক্কানী, ওমান। আজিজ উল্লাহ, আরব আমিরাত। আবুল কাসেম, আরব আমিরাত। শায়খ আবদুর রহমান জামী কুয়েত। শায়খ আইউব ইউনুস, কুয়েত। শায়খ আবদুল্লাহ আল-হারুন, কুয়েত। মাওলানা সৈয়দ জামাল উদ্দীন, কুয়েত। মাওলানা ইসমাঈ আল-হাবীব, কুয়েত। মাওলানা সিহাব উদ্দীন, কুয়েত। মাওলানা কাজী সফি আবেদীন, কুয়েত। মাও. জসিম উদ্দীন, কুয়েত। মাও. নুরুল্লাহ মিয়াজী, কাতার। মাও. হাফেজ তোহা, কাতার। মাও. আব্দুল কুদ্দুস, বাহরাইন। মাও. আব্দুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, ইটালী। মাও. আমিরুল ইসলাম, মালয়েশিয়া। মাও. মিজানুর রহমান, পাকিস্তান। মুফতি কামাল উদ্দিন, সাউথ আফ্রিকা। মাও. মাজহারুল ইসলাম, সাউথ আফ্রিকা। মাও. দেলোয়ার হোসেন ফরিদী, সাউথ আফ্রিকা। মাও. ইব্রাহীম চৌধরী, সাউথ আফ্রিকা। মাও. শোয়াইব, সাউথ আফ্রিকা। মাও. জুনাইদ আল হাবীব, সাউথ আফ্রিকা। হাফেজ ওমর ফারুক, সাউথ আফ্রিকা। মাও. নোমান, সাউথ আফ্রিকা। মাও. নুর উদ্দিন, সাউথ আফ্রিকা। মাও. মুহিব্বুল্লাহ আমিনী, দুবাই। মাও. জুলফিকার আলী, দুবাই।মাও. আখম কাসেম ওসমানী, দুবাই। মাও. ইউসুফ সুয়াবিলী, দুবাই। মাও. ইদ্রিস রাঙ্গামাটিয়া, দুবাই। মাও. ইয়াকুব সুয়াবিলী, ওমান। হাফেজ মাও. জুবাইর বিন জালাল, দুবাই।মাও. আনছারুল্লাহ শাহনগরী, দুবাই। মাও. আবু আইয়ুব আনছারী, কাতার ও হাফেজ মাহমুদুল্লাহ, সৌদিআরব প্রমূখ।

মন্তব্য করুন