সাঈদীসহ ১০৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, আদালত প্রাঙ্গণে জনতার ভীড়

প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৯

আল্লামা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীকে রাজশাহী জেলা জজ আদালতে নেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবীর সরকারের আদালতে তাকে হাজির করা হয়।

এদিকে আদালত অঙ্গনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে দেখা যায় আদালত চত্বরে। রাজশাহী জামায়াত নেতারা ছাড়াও সাধারণ মানুষও ভিড় করেছেন আদালতের আশপাশে।

এ মামলায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ মোট ১০৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে পলাতক আছেন ৪৬ জন। এছাড়া জামিনে আছেন ৬১ জন, যারা প্রত্যেকেই আজ আদালতে হাজির ছিলেন।

মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী আবু ইউসুফ মোহাম্মদ সেলিম জানান, প্রথমে এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ৩৫ জন যেখানে জামায়াত নেতা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম ছিল না। পরে পুলিশি তদন্তে তাকে এ হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা মামলায় হুকুমের আসামি দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদী।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করছেন ওই আদালতের এপিপি শিরাজী শওকত সালেহীন। আর আসামিপক্ষে মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্যানেল এ মামলা লড়ছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আদালতে মামলার শুনানি চলছে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল দখল নিয়ে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীর সাথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে শিবির কর্মী ছাত্রলীগ নেতা ফারুককে খুন হয়।

পরদিন এ নিয়ে নগরীর মতিহার থানায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩৫ শিবির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেক শিবির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

পরে ওই মামলার হুকুমের আসামি করা হয় জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বেশ কয়েকজনকে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিজামী ও মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

২০১২ সালের ৩০ জুলাই নগরীর রাজপাড়া থানার তৎকালীন ওসি জিল্লুর রহমান মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘদিনেও মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি।

জিআরএস/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন