ভারতে বাড়ছে গণপিটুনি: ‘কাউকে জোর করে কিছু বলানো ঠিক না’

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৯

দেশের অসহিষ্ণুতার পরিস্থিতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা ভারতে বাড়ছে গণপিটুনির ঘটনাও। দেশজুড়ে এমন ঘটনার প্রতিবাদ হওয়া উচিত। বুধবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন কথাই বললেন অপর্ণা সেন। অসহিষ্ণুতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখেছেন বিদ্বজনেরা। দেশের বিদ্বজ্জনদের সেই তালিকায় নাম রয়েছে মোট ৪০০ জনের।

সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি সাহিত্য, সিনেমা, সংগীত জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব থেকে বৈজ্ঞানিক, ইতিহাসবিদ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন, অনুপম রায়, রূপম ইসলামের মতো ব্যক্তিত্বরাও তাতে স্বাক্ষর করেছেন। এই নিয়েই বুধবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন অপর্ণা সেন। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন।

এরপর দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন অভিনেত্রী। জানান, তারা যে আজ প্রতিবাদ করছেন, তার পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। এটা সম্পূর্ণ মানবিকতার ব্যাপার। ভারতের সংবিধানে বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত। সরকারের বিরুদ্ধাচরণ মানে এই নয় সে দেশদ্রোহী। সংখ্যালঘু, দলিতদের উপর অত্যাচার চলছে। তা বন্ধ করার আবেদন করেছেন তারা।

পরিচালক আরও জানান, সারা দেশে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। গরু পাচারের নামে যত্রতত্র গণপিটুনি চলছে। এই ঘটনা থামাতে হবে। দেশজুড়ে এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত। তিনি এদিন প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে? এই বিষয়টির দিকে প্রধানমন্ত্রীর নজর দেওয়া উচিত। কেন জয় শ্রীরাম বলতে মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন তা নিয়েও।

জিজ্ঞাসা করেন, তার মতো কেউ যদি হিন্দু হয়, তাকে কি আল্লাহ বলার জন্য জোর করা ঠিক? এসব যে যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেউ জয় শ্রীরাম বলবে, নাকি আল্লা-হু-আকবর বলবে, নাকি জয় মা কালী বলবে, সেটা তার ইচ্ছা। এটা বলে দেওয়ার অধিকার কারওর নেই। কেউ যদি অন্যের ইচ্ছেমতো জয়ধ্বনি না দেয়, তাহলে তার উপর অত্যাচার করাটা কোনও কাজের কথা নয়। এসব একেবারেই সমর্থন করা যায় না।

আইএ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন