আস্তিনের সাপ প্রিয়া সাহা; আ.লীগের ভাবার সময় কি এখনও আসেনি?

দেশদ্রোহী হিসেবে প্রিয়া সাহার নাম স্মরণ করবে দেশবাসী

প্রকাশিত: ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯

সম্পাদকীয় :

বিতর্কিত হিন্দু নারী প্রিয়া সাহা। দেশের বিরুদ্ধে বিদেশের কাছে মিথ্যাচার করা এই নারী বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রশ্ন হলো-

• কে এই নারী?
• সাংগঠনিক পরিচয়
• আলোচিত নাকি বিতর্কিত
• স্বামীর পরিচয়
• রাজনৈতিক পরিচয়
• ট্রাম্প পর্যন্ত পৌঁছুলো কীভাবে?
• হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও বামপন্থীরা কি দেশের বন্ধু?
• অভিযোগ সত্য হলে সে ন্যায় বিচার প্রাপ্য
• আসলে তার অভিযোগ কি সত্য?
• বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা কি অসহায়?
• সংখ্যালঘুরা এ দেশে রাজার হালতে আছে
• তার অভিযোগের কথা সে কি সরকারকে জানিয়েছিল?
• সরকারের দায়
• তার অভিযোগ গণমাধ্যমে আসেনি কেন?
• আওয়ামিলীগকে চপোটাঘাত
• ভারতের সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশেও তৎপর

কে এই নারী : প্রিয়া সাহা। গ্রাম থেকে উঠে আসা একজন লোভী ও দেশবিরোধী নারীর নাম। যে নারী সাধারাণ থেকে এখন অসাধারণে পরিণত হয়েছে। গ্রামের বাড়ি চরবানিরী, মাটিভাঙ্গা, নাজিরপুর, পিরোজপুর, বরিশাল।

সাংগঠনিক পরিচয় : বর্তমানে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে ছাত্র ইউনিয়ন করত। রোকেয়া হলে থাকত। এখন একটি এনজিও আছে তার।

আলোচিত নাকি বিতর্কিত : প্রিয়া সাহা মহিলা ঐক্য পরিষদ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিল। বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এক বছর আগে তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার নাটক করে প্রচুর বিদেশি ফান্ড কালেক্ট করে থাকে সে। তার মানে আরও আগ থেকেই এই হিন্দু নারী বিতর্কিত ও সুবিধাভোগে পারদর্শী। নিজের ঘরে আগুন লাগিয়ে পয়সা কামাই করা নারী আর যাই হোক, চোর বাটপারের থেকে ভালো হতে পারে না।

স্বামীর পরিচয় : প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় সাহা। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের সহকারী পরিচালক। শোনা যায় স্ত্রী প্রিয়া সাহাকে দুদকের অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহার করেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেন মলয় সাহা। তার মানে দুদকের কর্মকর্তাই দুর্নীতিতে যুক্ত! ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় সাহাও আছেন অপরাধীর কাতারে।

রাজনৈতিক পরিচয় : বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া না গেলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে অনেক ছবি রয়েছে তার। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বামধারার লোকদের সঙ্গেও বেশ যোগাযোগ যে রয়েছে তা ছবি থেকে অনুমেয়। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে ছাত্র ইউনিয়ন করত বলে জানা যায়।

ট্রাম্প পর্যন্ত পৌঁছুলো কীভাবে : প্রশ্ন হলো ট্রাম্প পর্যন্ত পৌঁছুলো কীভাবে? বাংলাদেশের সাধারণ একজন নারী বিশ্বের সব থেকে প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত পৌঁছা সাধারণ কথা নয়। এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগও নেই। নিশ্চয়ই এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র নিহিত আছে। সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও বামপন্থীরা কি দেশের বন্ধু? : অন্তত এই ঘটনা থেকে বুঝা যায়, দেশে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বিদেশে গিয়ে কী পরিমাণে দেশের বদনাম গেয়ে বেড়ায়। মাত্র একটা প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ না হওয়া এরকম হাজার ঘটনা আমাদের চোখ এড়িয়ে গেছে। আর এসব সংগঠনগুলোকে শেল্টার দেয় বেশিরভাগ বামপন্থী নেতারা। হয়ত কোনো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও জড়িত থাকতে পারে। এই সংগঠনগুলো দেশে ধর্মীয় উষ্কানী দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ ও সরকার তৎপর থাকায় সে আশায় গুড়েবালি। ফলে বিদেশি প্রভূর কাছে নালিশ করে দেশ ধ্বংসের পায়তারা করছে এরা। এরা উগ্র ও উষ্কানীদাতা। এরা দেশের বন্ধু হতে পারে না।

তার অভিযোগ কি সত্য? : ট্রাম্পকে সে অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বিলীন হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। এখনও বাংলাদেশে ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লাখ) মানুষ রয়েছে! প্রথম কথা হলো তথ্যগত ভুল। বাংলাদেশের জনসংখ্যার তথ্য ভুল বলেছে প্রিয়া সাহা। দ্বিতীয় কথা, হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টানের সংখ্যায়ও ভুল তথ্য দিয়েছে সে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা কি অসহায়? : প্রিয়া সাহা আরও বলেছে, বাংলাদেশে তারা নির্যাতিত। তাদের গুম করা হয়েছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা বাংলাদেশে থাকতে চায়। তার এই অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী হিন্দুদের বাড়ি যেমন জ্বালিয়েছিল, তেমনই স্বাধীনতাকামী মুসলিমদেরও নির্যাতন করেছিল, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল, হত্যা করেছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সংখালঘু নির্যাতনের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার কোনোটিই ধর্মীয় কারণে নয়। ব্যাক্তিগত শত্রুতার পাশাপাশি বেশিরভাগই সম্পত্তির লোভে প্রভাবশালী অসৎ মানুষগুলোর কাজ। যারা সব সরকারের সময়ই বিরাজমান; ধর্মীয় পরিচয়ে নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ে।

সংখ্যালঘুরা এ দেশে রাজার হালতে আছে : প্রিয়া সাহাদের বাংলাদেশে থাকতে কেউ নিষেধ করেনি। বরং তারা রাজার হালতে আছে। ৩০% চাকরী কোটা, সরকারী বেসরকারী সহানুভূতি, ধর্মীয় রীতিনীতি, কোনোদিক থেকেই প্রতিবন্ধকতা নেই তাদের। এমনকি তার স্বামী মালয় সাহা বাংলাদেশে সরকারী সর্বোচ্চ একটি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর একজন উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল। এদেশে থাকতে এবং বসবাস করতে কোনোদিক থেকেই সমস্যা হওয়ার কথা না তার। বরং ভারতের থেকেও বেশি সুযোগসুবিধা নিয়ে বসবাস করছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা।

রাজনৈতিক শত্রুতায় এ দেশে গুম যে হয় না এমন নয়, তবে কোনো হিন্দু নেতা বা ব্যক্তি ধর্মীয় প্রতিহিংসায় গুম হয়েছে এমন নজির নেই। প্রিয়া সাহা পুরোটাই মিথ্যাচার করেছে এবং জঘন্য মিথ্যাচার।

তার অভিযোগের কথা সে কি সরকারকে জানিয়েছিল? : তার অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ সরকারকে কি সে তার অভিযোগ জানিয়েছিল? সরকারের অনেক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ লোকদের সঙ্গে প্রিয়া সাহার ওঠাবসা। তাহলে জানায়নি কেন? আর যদি জানিয়ে থাকে, তাহলে বিচার হয়নি কেন?

সরকারের দায় : এই সরকার সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টানা ক্ষমতায়। এই সময়েও কি সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার! কারা করেছে নির্যাতন? নির্যাতন যদি হয়েই থাকে, তাহলে সরকার করছেটা কী?

তার অভিযোগ গণমাধ্যমে আসেনি কেন? :  এত নির্যাতন যদি হয়েই থাকে, তাহলে গণমাধ্যমে এলো না কেন? নারায়ণগঞ্জে শ্যামল কান্তি, হাইকোর্টের সামনে মূর্তি, রংপুরে রাকেশ, সবার পাশেই তো মিডিয়া ছিল এবং সক্রিয়ভাবে। কিন্তু প্রিয়া সাহার অভিযোগ মিডিয়ায় আসেনি কেন? বাংলাদেশের গণমাধ্যম তো অতি ধর্মনিরপেক্ষতা দেখাতে সবসময় তৎপর। তার মানে প্রিয়া সাহা দেশের বিরুদ্ধে একজন আন্তর্জাতিক মিথ্যুক ও ষড়যন্ত্রকারী। আর জমি ও বাড়ি দখলের যে ঘটনাগুলো আছে, একই অবস্থা মুসলমানদের ক্ষেত্রেও হচ্ছে।

আওয়ামীলীগকে চপোটাঘাত : বিএনপি ও তার জোটের নেতাকর্মীদের যা অবস্থা, তাতে নিজেদের জীবন নিয়েই টানাটানি, সেখানে কারও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার চিন্তাও তারা করবে না। তাহলে প্রিয়া সাহার অভিযোগগুলো কার ওপর চপোটাঘাত, আওয়ামীলীগ তা কি ভেবেছে? একচ্ছত্র ক্ষমতার মধ্যেও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ প্রকারন্তরে আওয়ামীলীগকেই চপোটাঘাতটি করলো প্রিয়া সাহা। সরকারের প্রতি অনুরোধ, আস্তিন থেকে এই সাপগুলোকে ঝেড়ে ফেলুন! অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনুন, তার পরিচয় যাই হোক।

ভারতের সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশেও তৎপর : ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের অত্যাচার নির্যাতন করতে করতে এখন সেই শ্রীরামের সেনারা বাংলাদেশেও তৎপর! ইসকনের নিন্দনীয় কাজটি এরইমধ্যে সবাই জেনেছেন। প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্পৃতিকে আন্তর্জাতিকভাবে চরম অপমান করেছে। এই নারীর কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি এর পেছনে কারা কারা কাজ করছে তাও খতিয়ে দেখতে হবে এবং উগ্রবাদী ও উষ্কানীদাতা হিন্দুত্ববাদী উগ্র সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করে দিতে হবে। বামপন্থীদের দিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা সময়ের দাবী।

মন্তব্য করুন