ব্যারিস্টার সুমনের প্রচেষ্টায় চুনারুঘাটের দুলা মিয়ার লাশ গ্রামে ফিরছে

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

জুরাইন কবরস্থান থেকে র‌্যাব সদস্য ভাতিজার হাতে পরিকল্পিত ভাবে খুন হওয়া চাচা দুলা মিয়ার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে দুলা মিয়ার লাশ উত্তোলনের পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। বুধবার জুরািইন কবস্থান থেকে দুলা মিয়ার লাশ উত্তোলনের সময় ফেসবুকে লাইভে এসে ব্যারিস্টার এ তথ্য জানান। এসময় দুলা মিয়ার ভাই এবং মামা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ব্যারিস্টার সুমন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের চুনারুঘাটের দুলা হত্যা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। আজকে দুলার লাশ দাফন হওয়ার কথা ছিলো চুনারুঘাটে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো বেওয়ারিশ হিসেবে তার লাশ দাফন হয়েছে জুরাইন কবরস্থানে। আজকে পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় লাশ উত্তোলন করে চুনারুঘাটে নেওয়া হচ্ছে।

এসময় এ ঘটনার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করায় পুলিশের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার সুমন। তিনি বলেন, দুলা মিয়ার অভিবাবকরা আছে, আমি বলতে চাই আজকে আমি দুলা মিয়ার অভিভাবক। দুলা মিয়ার আমাদের চুনারুঘাটের সন্তান। তাকে চুনারুঘাটে নিয়ে দাফন করা হবে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তার জানাযা হবে। এসময় স্থানীয়দেরকে জানায় উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান সুমন। দুলা মিয়ার পাঁচ কন্যা রয়েছে এবং একজন প্রতিবন্ধী উল্লেখ্য করে তার নির্মম হত্যাকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার সুমন।

ব্যারিস্টার সুমনের প্রচেষ্টায় বুধবার দুলা মিয়ার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের নিজ গ্রামে জানাজা শেষে সেখানে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গ, গত ১৭ জুন সন্ধায় হবিগঞ্জের পাট্টাশরীফে এলাকা থেকে অপহরণ হন দুলা মিয়া (৪৫)। ১৮ জুন দুপুরে রাজধানীর হাজারীবাগের সিকদার মেডিকেল কলেজের পেছনে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে পাটের বস্তায় মোড়ানো এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অন্যদিকে দুলা মিয়ার ছোট ভাই ইদু মিয়া অপহরণের ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় মামলা করেন। এরপর চুনারুঘাট থানা-পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে অপহরণের পর হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা। জানা যায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুলা মিয়াকে অপহরণ করিয়ে নিজের হাতে খুন করেছে তারই ভাতিজা র‌্যাব সদস্য মো. সাদেক মিয়া। সাদেক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একজন ল্যান্সনায়েক, প্রেষণে ঢাকায় র‍্যাব-২-এ কর্মরত। তার গ্রামের বাড়িও চুনারুঘাটের পাট্টাশরীফে।

এঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একজন হলেন দুলালকে অপহরণ করে নিয়ে আসা মাইক্রোবাসের চালক মো. ইউসুফ সর্দার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. মামুন মিয়া। আদালতে দেওয়া এই দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে র‍্যাব সদস্য সাদেক মিয়ার পরিকল্পনায় দুলা মিয়াকে অপহরণ ও হত্যার পুরো বিষয়টি উঠে এসেছে।

/এসএস

মন্তব্য করুন