ঘুমিয়ে আয় করার পথ তৈরি করুন

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৯

ফয়সাল আরেফিন : জবি।

চাকরি করলে বেতন আসে। এটাই নিয়ম। কাজ ও সিস্টেমের তারতম্যে সেই বেতন বেশি কম হয়। কিন্তু কারো বাৎসরিক বেতন যদি ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা প্রায় ১৩২ কোটি টাকা হয় তখন কিছুটা কৌতুহল সৃষ্টি হয়। এমন অবিশ্বাষ্য সংখ্যার বেতনই পান কোকা কোলা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস কুয়েনসি। কিন্তু কৌতুহল এখানেই শেষ নয় বরং কুয়েনসির এই আয় মাত্র অর্ধ দিবসে আয় করে নেন কোকা কোলা কোম্পানির মালিক ওয়ারেন বাফেট।

কোকা কোলা কোম্পানী সূত্রে জানা যায়, জেমস কুয়েনসির বাৎসরিক বেতন ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩২ কোটি টাকা) , অন্যদিকে বিখ্যাত আমেরিকার ইনভেস্টর ওয়ারেন বাফেট সেই কোকা কোলা কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগ থেকেই গড়ে প্রতি ঘন্টায় দেড় ১.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২.৫ কোটি টাকা) উপার্জন করেন। অর্থাৎ কুয়েনসি’র সারাবছরের ইনকাম পরিমাণ অর্থ পকেটে পুড়তে ওয়ারেন বাফেট সময় নেন মাত্র অর্ধদিবস!

কোকা কোলা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সারাবছর তার প্রতিষ্ঠানের জন্য মেধা খাটান, হাজারো কর্মীকে সশরীরে নিয়ন্ত্রণ করে তবেই নির্দিষ্ট সময় পরে বেতন পান। এমনকি তার এই উচ্চপর্যায়ের চাকুরিও নিরাপদ নয়, বোর্ড যেকোনো সময় নতুন কাওকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে বহাল করার ক্ষমতা রাখে ।

অপরদিকে একজন দক্ষ বিনিয়োগকারী আয় করেন এক বিশেষ সূত্র প্রয়োগ করে। আর এই সূত্রটা হচ্ছে – ” ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে উপার্জন”!

বিশ্বের ৩য় শীর্ষ ধনী হবার পেছনে এই বিশেষ সূত্রই প্রয়োগ করেছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ইনভেস্টর ওয়ারেন বাফেট। এই আমেরিকান বিজনেস ম্যাগনেট এক টিভি সাক্ষাৎকারে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন ;

“যদি এমন কোনও পথ বের করতে না পার, যা তোমার ঘুমের সময়েও তোমার জন্য উপার্জন করবে, তবে তুমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে যাবে” ওয়ারেন বাফেটের এই উক্তি শুনে অনেকেই হতচকিত হবেন হয়ত। প্রশ্ন করতে পারেন, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে উপার্জন! এটা আবার কি?

আচ্ছা, তবে একটু খুলে বলি। বিল গেটস, জেফ বেজোসরা কিভাবে আজ শীর্ষ ধনী হলেন ভেবে দেখেছেন ? তারা কি আজও প্রতিদিন অপারেটিং সিস্টেম বানান? কিংবা ই-কমার্স সাইট ডেভেলপ করেন? অবশ্যই না! তারা এমন এক পথ তৈরি করে রেখেছেন যেখানে কাজ করেন হাজার হাজার কর্মী। বস্তুত তারাই গেটস, বেজোস কিংবা বাফেট দের মতো ধনী ব্যক্তিদের “ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে উপার্জন” করিয়ে দেন।

আপনি হয়ত ভাবতে পারেন তাহলে অধিকাংশই কেনো এই সূত্র নিজেদের মাঝে প্রয়োগ করে না? তবে আপনাকে বাফেটের ঐ উক্তির প্রথম লাইনটা আরেকবার বলি, ” যদি এমন কোনও পথ বের করতে না পার….।” হ্যা পাঠক এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন অধিকাংশই এই “পথ বের করা”র কাজটা করতে পারেন না বা করতে চান না। সবাই চায় নিরাপদ জীবন, কিন্তু তারা যা জানে না তা হলো নিরাপদ জীবনের প্রধান শর্তই হলো ঝুঁকি নেয়া, সঠিক উপায়ে সঠিক পথে নিজেকে বিনিয়োগ করা।

ভারতের পেমেন্ট সিস্টেম সার্ভিস PayTm এর প্রতিষ্ঠাতা বিজয় শেখর শর্মার দিকে তাকালে দেখা যাবে দিনের পর দিন পানি খেয়ে কাটিয়েছেন কিন্তু নিজ প্রতিষ্ঠান “ওয়ান ৯৭” ঠিকই চালিয়ে গেছেন। ঐ কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ভারতের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠতম বিলিওনিয়ার হবার স্বীকৃতি। এখন তাকে নিয়মিত অফিসে যাবার প্রয়োজন হয় না, কারণ অগণিত কর্মী এখন PayTm এ তার হয়ে কাজ করছেন ।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও সফল ব্যক্তিদের দিকে তাকালে বোঝা যায় সবাই কোনো না কোনো পথ তৈরি করে নিয়েছেন যা তাদের জন্য প্রতি মুহুর্তে মুনাফা এনে দিচ্ছে। তারা কেওই লটারির টিকিটের সুবাদে ধনী হবার আশায় বসে থাকেননি । বরং দিনরাত এমন একটি রাস্তা তৈরি করার চেষ্টা করে গেছেন যা থেকে সাফল্য ও অর্থ উভয়ই সমান গতিতে আবির্ভূত হয়।

এই লেখকের আরও ফিচার : 

ইলন মাস্ক : জন্মেছেন পৃথিবীতে শেষ নিঃশ্বাস নিতে চান মঙ্গলে 

মন্তব্য করুন