মনুষ্যপশুর দৃষ্টি নারীর বক্ষদেশে!

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০১৯

মানবতা, মানবিকতা আর লজ্জা, সবই যেন রুপকথায় পরিণত হয়েছে। হিংস্র জানোয়ারে রূপ নিয়েছে মনুষ্যজাতি। ভাদ্রের কুকুরগুলো যেমন মহিলা কুকুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, মনুষ্যজানোয়ার তার থেকেও ভয়ঙ্কর। এদের কাছে প্রতিদিনই যেন ভাদ্র মাসের নতুন সকাল। ভালো মানুষির পেছনে হিংস্র পশুর চেহারাটা সুন্দর অবয়বে আবৃত থাকায় সহজে চিহ্নিত করা যায় না কোনটা সত্যিকারের মানুষ আর কোনটা মানুষরূপী জানোয়ার।

পত্রিকার পাতা খোলতেই হৃদয়টা ভেঙ্গে যায়। শিশু বৃদ্ধা শিক্ষার্থী, কেউই বাদ যায় না যৌনহয়রানী থেকে। নিত্যদিন এমন বিভীষিকাময় সংবাদ পড়তে কার ভালো লাগে? “মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন”র তথ্য অনুযায়ী গত ছয় মাসে ৩৯৯ টি শিশু যৌনহয়রানীর শিকার হয়েছে! বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য এটা। পত্রিকার বাইরে যে আরও কয়েকগুন অপরাধ রয়েছে তা চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায়।

এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ বলতে ঐ সংবাদ সম্মেলন আর পুলিশ ইনভেস্টিগেশনের নামে অযথা হয়রানী। সুশিল সমাজের টকশো গলাবাজি আর নারী সংগঠনের মানববন্ধন। ব্যস! হয়ে গেলো? শিশু বাচ্চাদের প্রতি কি দেশের কোনো দায় নেই?

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কিন্তু আজকের শিশুরা যদি বর্তমানের অভিভাক দ্বারাই আক্রান্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যত নিয়ে এরা কী ভাববে? দেশ জাতি আর মানুষের প্রতি এদের ধারণাটাই বা কী জন্মাবে? হ্যাঁ, একটা ধরাণাতো নিশ্চয়ই জন্মাবে, আর সেটা হলো- ওরা জানবে মানুষ বলতে আলাদা কিছুই নেই, এটা জানোয়ারেরই আরেকটা রূপ।

দিন দিন বেপরোয়াভাবে বাড়ছে ধর্ষণ খুন ও পরকীয়া। পত্রিকার পাতা, টেলিভিশনের স্ক্রীণ আর ফেসবুকের ওয়াল, সবকিছুই যেন ধর্ষণময়! বর্বর অন্ধকার সেই জাহেলী যুগকেও হার মানিয়েছে বর্তমানের হিংস্রতা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, ঘরোয়া টিচার, কেউ বাদ নেই এই পশুত্ব থেকে! শিক্ষার নামে মজা লোটে এরা। ক্লাসে বইয়ে দৃষ্টি না রেখে এসব শিক্ষক নামক লম্পটদের নজর থাকে ছাত্রীর বক্ষদেশে! যৌন সূরসুরীমূলক কৌতুক আর আলাপচারিতা হয়ে ওঠে ক্লাসের মূল প্রতিপাদ্য। তবে বেশিরভাগ সময় ভিকটিম হয় ছাত্রী নামক অসহায় মেয়েরাই। সামাজিক আত্মমর্যাদার কথা ভেবে বেশিরভাগ মেয়েরা এসব গোপন রাখে, ফলে পুরুষ নামক পশুগুলো একের পর এক লালসার শিকার বানায় সন্তানতূল্য ছাত্রীদের। শুধু কি শিক্ষক আর ছাত্রী? সর্বক্ষেত্রে নারীরা নিরাপত্তাহীন।

ধর্ষণ পরকিয়া আর যৌনহয়রানীর বড় একটা কারণ হলো প্রেম নামক যৌনাচারের বৈধতা। এই এক প্রেম যুবক-যুবতীদের চারিত্রিক অবক্ষয়ের শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার পশ্চিমা কালচার এদেশের নারী-পুরুষকে বানিয়েছে অসভ্য, বেশরম। ইন্ডিয়ান সিরিয়াল বানিয়েছে পরকীয়াকাসক্ত।

ধর্ষণ ও যৌনহয়রানী বন্ধে-

১. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করতে হবে।
২. প্রেম নামক যৌক কালচার বন্ধ করতে হবে।
৩. পার্কসহ দর্শনীয় স্থানে প্রেমিক-প্রেমিকা দেখলে তাৎক্ষণিক সাজা দিতে হবে।
৪. ছেলে-মেয়ের জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকবে এবং মেয়েদের প্রতিষ্ঠানে পুরুষ আর ছেলেদের প্রতিষ্ঠানে মহিলা শিক্ষক থাকতে পারবে না।
৫. বাস, লেগুনা ও ট্রেনে কার্যত মহিলাদের আলাদা আসন থাকতে হবে। ঐ সিট খালি থাকলেও কোনো পুরুষ বসতে পারবে না।
৬. প্রত্যেক মার্কেটে মহিলাদের জন্য আলাদা দোকান কিংবা বসার জন্য সেফ জোন থাকতে হবে।
৭. যাচাইমূলক ও শর্তসাপেক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি প্রদান করতে হবে।
৮. ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আইন করতে হবে।
৯. শিশু ধর্ষণকারীর ক্ষেত্রে আগে লিঙ্গ কর্ত্তণ এবং পরে মৃত্যুদণ্ড আইন করতে হবে।
১০. পরকীয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ ইভয়কে মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে হবে।
১১. বাইশ বছরের মধ্যে পুরুষকে অবশ্যই বিয়ে করতে হবে।
১২. কার্যত প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার পরই মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা আঠারো বছরের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১৩. বাংলাদেশ থেকে সমস্ত পর্ণসাইট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে হবে।
১৪. টিভি মিডিয়ায় যৌনসুরসূরীমূলক কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার হতে পারবে না।
১৫. নাটক সিনেমায় কোনো ধরণের অশ্লীলতা থাকতে পারবে না।

মন্তব্য করুন