২০১৮ সালে অপ্রয়োজনীয় সিজার ৭৭% : ঠেকাতে ব্যারিস্টার সুমনের রিট

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় সিজার অপারেশনের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। উদ্বেগজনক হারে নারীদের সিজারেরর এই উদ্বেগজনক অবস্থার কারণে দেশে যেভাবে বাড়ছে মাতৃমৃত্যুর হার তেমনিভাবে বাড়ছে বিভিন্ন অসুস্থতা ও সামাজিক সমস্যা। অপ্রয়োজনীয় এসব সিজার অপারেশন ঠেকাতে ও এসব বিষয়ে হাইকোর্টের অবস্থান জানতে একটি রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। তিনি এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল বা ক্লিনিকের বাড়াবাড়ি ও টাকা কামাই করার নেশার কারণে এভাবে সিজার অপারেশনের চিত্র বেড়েছে।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ভাবে ১০/১৫ হাজার বা ক্ষেত্রবিশেষে ২০/৩০ হাজার টাকা খরচ করে যে সিজার অপারেশন করা হয় তা জনগণের ওপর এক ধরণের অন্যায় চাঁপিয়ে দেওয়া। এসব ব্যাপারে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে তা জানতে চেয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এর এক প্রতিবেদন তুলে ধরে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি বিজ্ঞ আদালতকে। এ বিষয়ে রিট আবেদন করতে মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের অনুমতি নিয়েছেন। আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড কাউন্সিলের সভাপতি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে। আবেদনে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

রুলে বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় যেসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গর্ভবতী নারীদের অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বা সি সেকশন করে সেগুলো নিষিদ্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। গত ২১ জুন বিবিসির প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে এই আবেদন করা হয়। বিবিসির সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ বলছে বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ। বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, এতে বাবা-মায়েদের সন্তান জন্মদানে ব্যাপক পরিমাণে খরচের ভার বহন করতে হচ্ছে। সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানে রয়েছে নানা রকম ঝুঁকি, বলছে সেভ দ্য চিলড্রেন।

সংস্থাটি তার কয়েকটি তুলে ধরেছে প্রতিবেদনে। সংস্থাটি বলছে মা ও শিশু উভয়কেই এমন অস্ত্রোপচার ঝুঁকিতে ফেলে। এছাড়া সিজারিয়ানের কারণে প্রাকৃতিক জন্মের লাভজনক দিকগুলোও নষ্ট হতে পারে। যেমন, শিশু মায়ের প্রসবের পথ দিয়ে যদি স্বাভাবিকভাবে বের হয় তাহলে তার শরীর কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া গ্রহণ করতে পারে। এসব ব্যাকটেরিয়া শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

অস্ত্রোপচারের ফলে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সে যেতে পারে না। যার ফলে এই ভালো ব্যাকটেরিয়া সে পায় না। শিশু জন্মে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ফলে ইনফেকশন ও মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানি, জমাট রক্ত ইত্যাদির কারণে মায়েদের সুস্থতা ফিরে পেতে প্রাকৃতিক প্রসবের তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় লাগে। এছাড়া মায়ের বুকের দুধ পান করার জন্য মায়ের সাথে শিশুর যে শারীরিক নৈকট্যে আসা দরকার সিজারিয়ান হলে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় দেরিতে ঘটে। কারণ মায়ের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য শিশুকে তখন কিছু সময় দুরে রাখা হয়। একদম শুরুর দিকে মায়ের বুক দুধের বাড়তি উপকারিতা রয়েছে। তা থেকে সে বঞ্চিত হয়।

মন্তব্য করুন