মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হয়েও রেস্টুরেন্টের একজন বুয়া হয়ে ওঠার গল্প

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৯
পার্লামেন্টে আলেক্সান্দ্রিয়া, ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

শাহনূর শাহীন

আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। জন্ম ১৯৮৯ সালের ১৩ অক্টোবর। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। বয়স মাত্র ৩১ বছর। ২০০৮ সালে যখন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হন তখন বয়স ছিলো ২৯ বছর।

২০০৮ সালে বারাক ওবামা যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তখন তিনি প্রথম রেস্টুরেন্ট বুয়ার কাজ নেন। শৈশব কৈশোর খুব খারাপ কাটেনি তার। পড়াশুনাও করেছেন।২০১১ সালে  বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলেজ অব আর্টস এন্ড সাইন্স-এ অনার্স সম্পন্ন করেন।

ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০০৮ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর আর্থিকভাবে খুব দূর্বল হয়ে পড়েন। এরপরই মূলত তিনি রেস্টুরেন্ট কাজ নেন। সেসময় তাকে কখনো কখনো ১৮ ঘন্ট পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে। রেস্টুরেন্টে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে থালা-বাসন ধোয়া-মোছা থেকে শুরু করে ডেলিভারি দেয়ার কাজও করেন।

পরবর্তীতে বোস্টনে পড়ার সময় তিনি মার্কিন সিনেটর টেড কেনেডির অফিসে বিদেশী বিষয় এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বিভাগে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ নেন। এরপর তার সময়টা ভালোই কেটেছে।

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর তার নেওয়া পদক্ষেপে সবচে আলোচিত ইস্যু ছিলো বারাক ওবামার চালু করা স্বাস্থ্য বীমা বাতিল করার সিদ্ধান্ত। স্বাস্থ্য বীমা বাতিল হওয়ার পর আর্থিকভাবে বেকায়দায় পড়ে যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও।

আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ

রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন আলেক্সান্দ্রিয়া কর্তেজ

২০১৮ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিরোধী দল ‘ডেমোক্রেটিক’ পার্টি থেকে মার্কিন কংগ্রেসের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

নির্বাচনের পর প্রবল আর্থিক সংকটে পড়ে যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও। জানুয়ারিতে ‘দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওয়াশিংটন ডিসিতে বাসা ভাড়া করে থাকার মতো সামর্থ তার নেই।

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের পার্লামেন্ট সদস্য হয়েও বাসা ভাড়া দিতে না পারর মতো আর্থিক সংকটের প্রকাশ হলে সে সময় বিষয়টা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

জানুয়ারিতে কংগ্রেসে যোগ দেয়ার পর ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে যান আলেক্সান্দ্রিয়া। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ফের নিউ ইয়র্কে ফিরে এসে রেস্টুরেন্টে কাজ নেন। আগের মতোই বাবুর্চির সহকারি বা বুয়া হিসেবে কাজে যোগ দেন। প্রতি ঘণ্টা কাজের জন্য পান মাত্র ২ ডলার।

নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বুঝতে না পারলে কিভাবে তাদের হয়ে কাজ করা সম্ভব প্রশ্ন তুলে আলেক্সান্দ্রিয়া কোর্তেজ বলেন, আমি চাই আমার মতো নিম্ন আয়ের মানুষ কতটা কষ্ট করে জীবন-যাপন করে তার প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ হোক।

আলেক্সান্দ্রিয়া কর্তেজ’র টুইটার প্রোফাইলে দেওয়া বার্তা অনুযায়ী এখনো তিনি মনে করেন, একটি আধুনিক, নৈতিক, এবং ধনী সমাজে কোনো আমেরিকানকে বাস করতে হলে খুব দরিদ্র হওয়া উচিত।

টুইটার, উইপিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

মন্তব্য করুন