বিমানবন্দরে লাগেজ বিড়ম্বনা: মালামাল চুরি যাত্রী হয়রানির চূড়ান্ত কৌশল

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০১৯

এ নিয়ে না লিখলে অপরাধী হয়ে থাকব। কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে, বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনার দিকটা যেন বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়। যাত্রীদের হয়রানীরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক!


বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার পথে নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের চেক করা হয়। এটা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ম মাফিক রুটিন কাজের অংশ। এমনকি শুধুমাত্র যাত্রীদেরই নয়, বিমানের পাইলট থেকে শুরু করে বিমান ক্রুদেরও। এটা না করলে যে কত বড় ক্ষতি হতে পারে তা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাতার থেকে আনতে যাওয়া পাইলটের কাণ্ড থেকে বিষয়টা যথেষ্ঠ স্পষ্ট হয়েছে।

এ ধরণের কাণ্ড থেকে রেহাই পেতে এবং অপরাধীদের অপরাধ কর্মকাণ্ড রোধ করতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে স্তর ভিত্তিক চেকিং করে থাকে। এই নিরাপত্তা চেকিংয়ের কারণেই আমরা প্রায় সময়ই বিদেশ থেকে চোরাই পথে আমদানীকৃত কিংবা পাচার করার জন্য বহন করা স্বর্ণবার, বিদেশি মুদ্রাসহ অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্য উদ্ধার করার ঘটনা চোখে পড়ে।

আবার যে নিরাপত্তার দূর্বলতা নেই তাও নয়। অনেক সময় ভিআইপিদের চেকিং ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হয় কিংবা দায়সারা চেকিং করা হয়। যান্ত্রিক ত্রুটিও হয় অনেক সময়। কিছুদিন আগে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এর লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিয়ে ভিতরে প্রবেশের নিজ থেকে তা নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দেয়া । এরপর সিকিউরিটির দূর্বলতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে সেসবও নিশ্চয়ই মনে আছে।

এসব ঘটন-অঘটনে আলোচনা-সমালোচনা হয়। রিপোর্টিং হয়। পত্রিকার পাতায় সম্পাদকীয় ছাপা হয়। টেলিভিশনের পর্দায় সচিত্র প্রতিবেদন হয়। বড় বড় কর্তা ব্যক্তিরা এর সমাধানে উঠে পড়ে লাগে। কিন্তু যাত্রী হয়রানির খুব জায়গা আছে যেগুলো নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়। কর্তাদের নজর দেওয়ার তো সময়ই হয় না এমন কোনো কোনো ক্ষেত্রে। গত বছরের শেষের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা যায় যাত্রীদের অনেকগুলো ব্যগ/লাগেজ এক জায়গায় ঝড়ো করা। আর উচ্চবাচ্য হচ্ছে। চিৎকার চেচামেচি হচ্ছে তুমুল বেগে। একটা সময় নিরাপত্তা রক্ষার উর্ধ্বতন কোনো এক কর্তাও হয়তো এগিয়ে আসে। উপস্থিত ছিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও। কিন্তু তাদের অবস্থ ছিলো ভিকটিমের মতোই। কোথাও অপরাধীর চেয়ে ভিকটিম যদি ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ শুরু করে তখন স্বয়ং অপরাধী এবং দায়িত্বশীল কোনো উর্ধ্বতন সম্মানীয় ব্যক্তিও ভিকটিম হতে বাধ্য। ভিডিওর ভাষ্য অনুযায়ী ওই লাগেজগুলো চেকিংয়ের নাম করে লাগেজ থেকে মূলব্যান জিনিপত্র, টাকা পয়সা চুরির উৎসব চলছিলো। ভিকটিম যাত্রীরা যখন একজোট হয়ে প্রতিবাদ করছিলো; কর্মকর্তারা অসহায়বোধ করছিলো।

এটা ছিলো অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে দেখা দৃশ্যের অভিজ্ঞতা। সাম্প্রতি সরেজমিনে এই দৃশ্য দেখার বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো। গত রমজানে ব্যবসায়িক ও ইনভাইটেশন সফরে মধ্যপ্রচ্য গিয়েছিলাম। দীর্ঘ এক মাসের সফর শেষে গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরি। আসা-যাওয়ার পথে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তার নামে যাত্রীদের লাগেজ চেক কাণ্ড প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা হয়।

অনেক যাত্রীর অভিযোগ, ব্যাগ থেকে মূ্ল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে। বিমান থেকে লাগেজপত্র বেল্টে দেওয়ার আগে নিরাপত্তারক্ষীরাই সেগুলো গায়েব করে দেয়। বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরায় এমন অনেক চিত্র অনলাইনে ভাইরাল হতে দেখেছি। ব্যাগ থেকে মূল্যবান জিনিস পত্র, টাকায় পয়সা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ আছে ভুরিভুরি। ব্যাগ/লাগেজ কেটে কিংবা তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে বিমানবন্দরের ভেতরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

যাত্রীরা হয়তো এসব নিয়ে একজোট হয়ে বাইরে বেরিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে পারে না, পারে না কোনো প্রতিবাদমূলক মিছিল-মিটিং করতেও। ফলে এসব বিষয় থেকে যায় আলোচনার বাইরে। কোনো ভিআইপি হয়ত এমন হয়রানির শিকার হয় না, যার কারণে সংবাদ মাধ্যমে স্বপ্রনোদিত রিপোর্টও হয় না। সংবাদমাধ্যমের একজন কর্মী বা দেশের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টালের সম্পাদক হিসেবেও নয়, আজ একজন সাধারণ যাত্রী হিসেবেই এ নিয়ে লিখছি।

নিজের দায়বোধ বলছে, এ নিয়ে না লিখলে অপরাধী হয়ে থাকব। কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে, বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনার দিকটা যেন বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়। যাত্রীদের হয়রানীরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক!

মন্তব্য করুন