উজবেকিস্তানে নারীরা ঘরে তারাবীহ আদায় করে; বিশেষ সাক্ষাৎকার

প্রকাশিত: ২:১৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৯

রোজা সম্পর্কে উজবেকিস্তানের এক নারীর সাক্ষাৎকার


ফাতেমা আব্দুজ্জাব্বারোভা। উজবেকিস্তানের নাগরিক। পড়াশুনা করছেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক একাডেমি অফ উজবেকিস্তান-এ।পবিত্র মাহে রমজান নিয়ে কথা হয় তার সাথে। রমজানে উজবেকিস্তানের মুসলমানরা রোজা, ইফতার, তারাবীহ কিভাবে উপভোগ করে বলেছেন সেসব। কথা বলেছেন মারুফ বিল্লাহ। পাবলিক ভয়েস পাঠকের জন্য সেসব তুলে ধরা হলো।


বিজ্ঞাপন :


পাবলিক ভয়েস: আসসালামু আলাইকুম

ফাতেমা: ওয়া আলাইকুমুস সালাম

পাবলিক ভয়েস: কেমন আছেন?

ফাতেমা: আলহামদুলিল্লাহ

পাবলিক ভয়েস: রোজার দিনগুলো কেমন কাটছে?

ফাতেমা: প্রচন্ড গরম। তবে আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালোভাবে রমজান উপভোগ করছি।

পাবলিক ভয়েস: পাঠকের জন্য আপনার পরিচয়টা একটু বলেন।

ফাতেমা: আমি ফাতিমা আব্দুজ্জাব্বারোভা, বাসা: কোকান্দ শহরে। রাজধানী তাসখন্দ শহরে এখন বসবাস করছি। এখানে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক একাডেমি অফ উজবেকিস্তানে ইসলামী স্টাডিজ করছি।

পাবলিক ভয়েস: এখন পবিত্র মাহে রমজান মাস চলছে। উজবেকিস্তানের মানুষ পবিত্র রমজান মাস কীভাবে উপভোগ করে থাকে?

ফাতেমা: উজবেকিস্তানে বহুজাতিক মানুষের বসবাস। তারা সকলেই এ মাসে আত্নসংযমসহ থাকার চেষ্টা করে। এবং সবধরনের ঝগড়া ফাসাদকে এড়িয়ে চলে। এমনকি অন্য ধর্মের মানুষরাও এ মাসে আমাদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে। এবং সবধরনের কাজে সাহায্য করে।


পাবলিক ভয়েস: উজবেকিস্তানের মানুষজন তারাবীর নামাজ কীভাবে আদাায় করে থাকে?

ফাতেমা: উজবেকিস্তানে মহিলাদের জন্য মসজিদে তারাবীহ পড়ার অনুমতি নেই। তবে পুরুষরা সবাই দলবেঁধে মসজিদে একসাথে নামাজ আদায় করে।


পাবলিক ভয়েস: উজবেকিস্তানের মানুষরা কত রাকাত তারাবীহ পড়তে অভ্যস্ত? এবং সেখানে কি কোরআন খতম তারাবীর প্রচলন আছে?

ফাতেমা: উজবেকিস্তানের মুসলমানরা ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করে থাকে। এবং এখানকার মতোই বিভিন্ন মসজিদে কুরআন খতম তারাবীর প্রচলন আছে। কোনো মসজিদে দুই খতম কুরআন আবার কোনো মসজিদে এক খতম করে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। এবং বাকী মসজিদগুলোতে স্বাভাবিকভাবে তারাবীহ পড়া হয়।

পাবলিক ভয়েস: উজবেকিস্তানের মানুষজন কী কী খাবারের মাধ্যমে ইফতার পরিবেশন করে থাকে?

ফাতেমা: উজবেকিস্তানের মোসলমানরা ইফতারের জন্য সাধারণ খাবার খায়, যেমন পাইলভ, সমুসা, স্যুপ ইত্যাদি। কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবে রমজানে কিছু স্পেশাল মিষ্টি খাবারও থাকে, যেমন- ‘নিশোল্ডা’। এছাড়াও সাদা চেসি পাস্তা যা শুধুমাত্র রমজানের মাসেই তৈরি হয় এবং এগুলো অন্যান্য মাসে পাওয়া যায় না।

পাবলিক ভয়েস: রমজান উপলক্ষে উজবেক সরকার মুসলমানদের জন্য কী কী সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে?

ফাতেমা: পবিত্র রমজান উপলক্ষে উজবেক সরকার কিছু পাবলিক ট্রান্সপোর্ট দিয়ে থাকে যা মসজিদের সড়ক অতিক্রম করে। সেগুলো খোলা হয়। বিনামূল্যে খোলা ইফতার, পানি এবং খাদ্য বিতরণ করে থাকে।

পাবলিক ভয়েস: বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনার জানাশোনা আছে কেমন?

ফাতেমা: তাসখন্দে বাংলাদেশের দূতাবাস আছে জানি। সম্প্রতি- আমরা শুনেছি যে উজবেকিস্তানের ওরিয়েন্টাল ইনস্টিটিউটের প্রফেসররা বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় একটি প্রকল্পে কাজ করছেন। বাংলা কিছু বই উজবেক ভাষাতে অনুবাদ করছেন। তবে বাংলাদেশ সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানি না। আমরা আপনাদের কাস্টমস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।

পাবলিক ভয়েস: অনেক অনেক মোবারকবাদ আপনাকে মূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের সাথে থাকার জন্য।

ফাতেমা: আপনাকেও মোবারকবাদ এবং বাংলাদেশের সকল মুসলমানদের জন্য ভালবাসা ও দোয়া।

(বিশেষ কারণে ফাতেমা আব্দুজ্জাব্বারোভার ছবি দেওয়া হলো না)

-সমাপ্ত

[লেখাটি সম্পাদনা করেছেন পাবলিক ভয়েসের বিশেষ সিনিয়র প্রতিবেদক ও বহুগ্রন্থের লেখক শাহনূর শাহীন]

মন্তব্য করুন