সরকার আন্তরিক হলে রমযানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্রতা রক্ষা করা সম্ভব

প্রকাশিত: ১১:৪২ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০১৯

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র রমযানুল মোবারক। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো” রমযানের রোযার মাধ্যমে মানুষ পাপকে পূণ্যতে পরিণত করার মহাসুযোগ পায়। মুত্তাকী হওয়ার মাস এই রমযান মাস। কিন্তু আমরা রমযানের শিক্ষা নিতে পারছি না।

রমযানের আগে আগে ইসলামী দলগুলো ও বিভিন্ন ইসলামিক সেবা/সামাজিক সংগঠনগুলো রমযানের পবিত্রতা নিয়ে মিছিল মিটিং করলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রমযানের প্রথম এক দুইদিন হোটেল রেস্তোঁরাগুলো বন্ধ থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনের বেলা খাওয়াদাওয়া চলে হোটেলগুলোতে। রমযানের মাঝামাঝি সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকার পরিবেশ দেখে মনে হবে ঈদ হয়ে গেছে আরও কয়েকমাস আগে! মানে রোযার কোনো পরিচিত পরিবেশ থাকে না। তারাবীর নামাযের ক্ষেত্রেও ঠিক একই অবস্থা।

সরকার উদ্যোগী হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা করা সামান্য ব্যাপার ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারকে আন্তরিক বলে মনে হয় না। ৯২% মুসলিম দেশে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা না হওয়া দুঃখজনক ব্যাপার। সরকার প্রধানও একজন রোযাদার বলে জানি আমরা। সেখানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার শহরে রমযানে পর্দা টানিয়ে চলে হরদম খানাপিনা।

রমযানে আল্লাহ তায়লা তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য যে সুযোগ দিয়েছেন এবং ক্ষমার মাস বলে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা সে সুযোগ গ্রহণ না করে উপরন্তু আরও গুনাহের কাজে প্রতিযোগিতা শুরু করি পবিত্র রমযানে।

তারই একটি অংশ দ্রব্যমূল্য। রোযাদারের খেদমত করাও ইবাদাত। কিন্তু আমাদের দেশে রোযাদারকে চিপতে চিপতে মেরে ফেলতে চায় ব্যবসায়ীরা। সারাবছর মাল গুদামজাত করে রমযানে বাজারমূল্য চড়া করে থাকে তারা। সারাবিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো রমযান এলে পাল্লা দিয়ে দ্রব্যমূল্য কমিয়ে থাকে রোযাদারের খেদমত হবে বলে, আর বাংলাদেশে পাল্লা দিয়ে বাজারমূল্য্য বাড়ানো হয়।

সব জিনিসের দাম রমযানে বাড়তি থাকে। দুই নাম্বারী আর পঁচা দ্রব্যও হজম করতে হয় রোযাদারদের। সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক হয়ে পদক্ষেপ নিলে প্রশংসিত হবেন।

মন্তব্য করুন