সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা না বাড়ানো বেকার যুবকদের প্রতি অবিচার

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

সম্পাদকীয়

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা নেই। কিন্তু আমাদের দেশে আছে। আছে আরও অনেক কিছু— সরকারী বহু পোস্ট খালি থাকা সত্বেও লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক বেকারত্বে ভোগে। কর্মসংস্থানের সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও দুর্নীতিবাজদের কারণে ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে আসছে উন্নতির দার। দেশের সাধারণ কর্মচারী থেকে সচিব পর্যন্ত, দুর্নীতিগ্রস্থ নয় এমন কাউকে খুঁজে বের করা দুষ্কর।

 

এর মাঝে সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা না বাড়ানোয় বেকারত্বের সময়সীমা আরও বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। বয়সসীমা বাড়ানো দরকার কী না__এ নিয়ে লেখালেখি-মানববন্ধন-সভা-সেমিনার কম হয়নি/হচ্ছে না। বর্তমানেও “বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ” নামে একটি সংগঠন সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ করার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

 

চাকরী থেকে অবসরের সময়সীমা দুই বছর বাড়ানো হলেও প্রবেশের বয়সসীমা অপরিবর্তিত। অথচ অবসরের সময়সীসা বাড়ালে প্রবেশের সময়সীমাও বাড়ানো ছিল যুক্তিসঙ্গত। আগে অবসরের বয়স ছিল ৫৭ বছর— এখন অবসরের সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়েছে।

 

লেখাপড়ার ক্ষেত্রে যেখানে স্নাতক ছিল দুই বছর, সেখানে এখন সেটা করা হয়েছে তিন বছর। স্নাতক (সম্মান) ছিল তিন বছর, এখন সেটা চার বছর। স্নাতকোত্তর শেষ করতে সময় লাগত চার বছর, এখন পাঁচ বছর। এমনইভাবে স্কুলিং এক বছর করে বাড়লেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়েনি।

 

অবশ্য মেডিকেল কলেজে স্কুলিং বেশি হওয়ার কারণে তাঁদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২ বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়েছে। তাহলে সাধারণদের স্কুলিং বাড়লেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়বে না কেন? তা ছাড়াও সেশনজটের কারণে অনেকের ৩০ বছরও পেরিয়ে যায়। পরীক্ষা স্থগিত, প্রশ্নফাঁস, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সবমিলিয়ে সেশনজন লেগেই থাকে। এখন চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা যদি ৩০ বছর থাকে, আর কোনো শিক্ষার্থী সেশনজটে ৩০ বছর পেরিয়ে যায়, তাহলে ঐ শিক্ষার্থীর শিক্ষা অর্জন করে কী লাভ? অন্তত সেশনজট মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারী চাকরিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর করা যেতে পারে। সরকার যখন সেশনজটের ১০০% সমাধান করতে পারবে, তখন নাহয় আবার ৩০ বছরে নিয়ে আসবে। কিন্তু এই সময়ে সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করা সরকারের জন্য প্রশংসা বয়ে আনবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজ পর্যায়ে যারা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে চায়, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা কম থাকায় তাদের লেখাপড়ার ভিত ততটা মজবুত হয় না। কেননা, চাকরীর আশায় কোনোমতে ধারণা নিয়ে চাকরীর লাইনে দাঁড়ায়। দেশব্যাপী দুর্নীতির অন্যতম কারণ এটাও একটা। আর যারা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে চায়, তারা চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পায় না। কেননা, প্রবেশের বয়সসীমা কম থাকায় ঐ সুযোগ হারায়। সেশনজটসহ নানা প্রতিকূলতায় লেখাপড়া শেষ করতে করতে চাকরীর বয়সসীমা পেরিয়ে যায়। সবদিক বিবেচনা করে সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করা যেতে পারে।

মন্তব্য করুন