খুনের আসামী প্রকাশ্যে ঘুরলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়: চরমোনাই পীর

প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও দেশের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়নি। খুনীদের বিরুদ্ধে মামলা করে যে দেশে বাদীকে বিচারের জন্য ধর্ণা দিতে হয় আর আগষ্ট ১৮ মাসে খুন করা আসামীরা যখন ধরাছোয়ার বাইরে থেকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় তখন বিচারের বানী নিভৃত্বে কাঁদে। তিনি বলেন, অপরাধীদেরকে ধরা ছোয়ার বাইরে পৃষ্টপোষকতা দিয়ে বিচার প্রার্থীদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করা এখন কালচারে পরিনত হয়েছে। এ কারণে দেশে হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোসহ বিভিন্নরকম অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে।

গতকাল ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার কলেমা চত্তরে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন ভান্ডারিয়া সাংগঠনিক জেলা শাখা আয়োজিত কৃষক-শ্রমিক ছাত্র জনতা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভান্ডারিয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম কবিরের সভাপতিত্বে ও মাও: ইকবাল শিকদারের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, দলের প্রেসিডিয়ার সদস্য আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, ইসলামী শ্রমিক অন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগরের সভাপতি প্রভাষক মাও: জাকারিয়া হামিদী, ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মাও: আব্দুর রাজ্জাক জেহাদী,ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মো: ইব্রাহিম হোসেন মৃধা, পিরোজপুর জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারী মাও: এবিএম শেহাব উদ্দীন শেহাব, ভান্ডারিয়া উপজেলার নেতা মাও: মো: সোলায়মান মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব বাদশা জোমাদ্দার, শ্রমিক আন্দোলন নেতা মাও: বেলায়েত হোসেন প্রমূখ।

চরমোনাই পীর বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায় অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়। কৃষক কৃষি কাজ করে লাভবান হতে চায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে শ্রম দেয় না।

সরকার মুখে বড় বড় কথা বললেও বাস্তবিক অর্থে দু:খ কষ্টে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে। দেশে বিদেশে শ্রমিকরা অধিকার হারা, প্রতারিত হচ্ছে কিন্তু সরকারের সে দিকে কোন খবর নেই। দুর্নিতি, দু:শাাসন ও ক্ষমতাসীনদের অপরাজনীতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবিভাবকরা নিরাপদ মনে করেনা। সব মিলিয়ে দেশে এখন নীতি- নৈতিকতা,আস্থা-বিশ্বাস, ভক্তি-শ্রদ্ধা, মায়া-মমতা, মানুষের প্রতি মানুষের মুহাব্বত ও দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ায় দেশে প্রতিদিন নতুন করে সঙ্কটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এ সকল সঙ্কট থেকে দেশকে রক্ষা,আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে কুরআন-সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মহান গ্রন্থ আল কুরআন সেল্ফে রাখার জন্য আসেনি এসেছে রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে। কালেমা পড়ে শুধু নামাজ রোজা করলেই ইসলাম হবে না। কালেমা পড়ে আল্লাহর বিধানকে রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এটাই মুসলমানের দায়িত্ব। সমাবেশে মাও: বেলায়েত হোসেন কে সভাপতি, মাও: মো: ইকবাল শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ভান্ডারিয়া সাংগঠনিক জেলা ও মাও: ছিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি, মাও; জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ভান্ডারিয়া উপজেলা ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কমিটি ঘোষনা করেন। পরে তিনি ভান্ডারিয়া সরকারী কলেজ ময়দানে বিশাল ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহন করেন।

মন্তব্য করুন