ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও বাকস্বাধীনতা

প্রকাশিত: ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

 

সম্পাদকীয়-

প্রথম কথা কারও অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। দ্বিতীয় কথা প্রত্যেকের বাকস্বাধীনতাও থাকা উচিৎ। দুইটি বিপরীতমুখী কথা। জানা উচিৎ বাকস্বাধীনতা থাকলেই যা তা মন্তব্য করা যায় না। ভারতে গরু জবাইকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়— কারণ গরু তাদের দেবতা, আর দেবতাকে জবাই করলে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে।

 

সে হিসেবে ভারতীয় মুসলমানদের উচিৎ__তাদের সামাজিক ঘরানার বাইরে গরু জবাই না করা। তবে তাদের ঘরানায় তাদের ধর্মীয় রীতি পালন করা বা গরু জবাইতে বাধা না দেওয়া বাকস্বাধীনতা। মুসলিম ঘরানায় ইসলাম পালনে বাধাপ্রদান করা উগ্রতা ও জুলূম। মুসলমানদেরও হিন্দু পরিবেশে গরু জবাই করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দেওয়া উচিৎ। যেহেতু দেশটি হিন্দপ্রধান দেশ।

 

মুসলমানদের সামাজিক ঘরানায় গরু জবাই দিতে বাধাপ্রদান করা উগ্রতা ও বাকস্বাধীনতায় আঘাত দেওয়ার শামিল। আবার হিন্দুঘরানায় প্রকাশ্যে গরু জবাই দেওয়াটাও হিন্দুধর্মের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার শামিল। তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির ব্যঙ্গ করাও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল এবং ইসলাম এটা সমর্থনও করে না। অবশ্য ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির কথা টানা যেতে পারে। তবে তা অবশ্যই শালিনভাবে হতে হবে।

 

এবার আসুন সাবা কবিরের কথায় আসি। বাংলাদেশ মুসলিমপ্রধান দেশ। এই দেশে মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলা বা কাজ করার অধিকার কারও নেই। যেমন পহেলা__বৈশাখ পালনের নামে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা সম্পূর্ণ আইন ও ধর্মবিরোধী কাজ। ইসলাম পরকালকে বিশ্বাস করে, শুধু বিশ্বাস নয়, এটা ঈমানের অংশ। কেউ যদি পরকালে বিশ্বাস না করে, সে মুসলমান থাকতে পারে না। সেখানে কেউ যদি প্রকাশ্যে মুসলমানের এই বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত করে— তাহলে এটা নিশ্চয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাবা কবির এমন মন্তব্য করে নিশ্চয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে।

 

একবার বাংলাদেশে হিন্দুবৈদ্ধখৃস্টান ঐক্য পরিষদ গরু জবাইর বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিল; এটা ছিল জঘন্যতম এক অনধিকার চর্চামূলক অপরাধ। বাংলাদেশে ৯২% মুসলমান বসবাস করে এবং এই দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী রীতিনীতি পালন হয়। সে দেশে গুটিকয়েক সংখ্যালঘুদের সেই দাবি কোনোভাবেই যৌক্তিক ছিল না। ইসলামে গরুর গোস্ত হালাল। অতএব— বাংলাদেশে গরু জবাইর বিরুদ্ধে কথা বলা মানে ইসলামী অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া৷ বাকস্বাধীনতার নামে মুসলিম দেশে মুসলমানের বিরুদ্ধে কথা বলা__নিশ্চিত ধর্মীয় উস্কানী। এভাবে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে ধর্মীয় উস্কানী দিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে এখনও অনেকে আপত্তি করে থাকে। অথচ তাদের সংখ্যাটা নিতান্তই নগন্য। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার জন্য ভাষাশহীদদের ত্যাগ কারোরই অজানা নয়। দেশের বেশিরভাগ নাগরিক বাংলায় কথা বলি বলেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি ছিল। পাকিস্তান সরকার না মানায় ভাষা আন্দোলন করতে হয়েছিল আমাদের। ঠিক__সেভাবেই এ দেশে ৯২% মুসলমান। সঙ্গত কারণেই এ দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে। সংখ্যাঘরিষ্ট মুসলিম দেশে ইসলামের বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বললে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া যৌক্তিক দাবি। বাকস্বাধীনতার নামে বৃহৎগোষ্ঠীর অনুভূতিতে আর আঘাত না আসুক!

 

তবে অন্যায় করে কেউ যদি ক্ষমা চায় এবং তওবা করে; তাহলে ভিন্ন কথা। আমরাও দোয়া করি তাকে আল্লাহ মাফ করে দিন।
“যে অন্যায় করে না সে ভালো, যে অন্যায় করে ক্ষমা চায় ও অনুতপ্ত হয় সে আরও ভালো। যে অন্যায় করে সে খারাপ, যে অন্যায় করে তার ওপর স্থির থাকে সে আরও খারাপ”

মন্তব্য করুন