স্বামী তার স্ত্রীকে পাগলের মতো ভালোবাসেন কখন? (এক বৃদ্ধার সাক্ষাৎকার )

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০১৯

তিনি স্বামীর সঙ্গে সফলভাবে কাটালেন দীর্ঘ পঞ্চাশটি বছর। তাদের জীবন শান্তিতে ভরপুর ছিলো। ঝগড়া তো দূরের কথা, দাম্পত্যজীবনে কখনও কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়নি। একজন সাংবাদিক এই বৃদ্ধার কাছে তার পঞ্চাশ বছরের স্থায়ী সফলতার রহস্যের ব্যপারে জানতে চাইলেন।

কি ছিলো সে রহস্য? মজার মজার খাবার বানানো? দৈহিক সৌন্দর্য? বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া? নাকি অন্যকিছু?

বৃদ্ধা বললেন, ‘দাম্পত্যজীবনের সুখশান্তি প্রথমত আল্লাহর ইচ্ছে, এরপর স্ত্রীর হাতেই। একজন স্ত্রী চাইলে তার ঘরটাকে জান্নাতের টুকরো বানাতে পারেন, আবার চাইলে জাহান্নামেও পরিণত করতে পারেন।

কিভাবে? অর্থ দিয়ে?

তা তো হতে পারে না। কেননা অনেক অর্থশালী নারী আছেন, যাদের জীবনে দুঃখ-দুর্দশার শেষ নেই, যাদের স্বামী তাদের কাছেই ভিড়তে চান না। . সন্তান জন্ম দান? না, তাও নয়। কারণ অনেক নারী আছেন, যাদের অনেক সন্তান আছে; অথচ স্বামী তাকে পছন্দ করেন না। এমনকি এ অবস্থায় তালাক দেওয়ার নজিরও কম নয়।

ভালো খাবার বানানো?

এটাও না, কারণ অনেক নারী আছেন, যারা রান্নাবান্নায় বেশ দক্ষ; সারাদিন রান্নাঘরে কাজ করেন; অথচ স্বামীর দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হন।

তার কথায় সাংবাদিক বিস্মিত হয়ে গেলেন৷ বললেন, ‘তাহলে আসল রহস্যটা কি?’


বৃদ্ধা বললেন, ‘যখনই আমার স্বামী রেগে গিয়ে আমাকে বকাবকি করতেন, আমি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়ে নিরবতা অবলম্বন করতাম৷ আর অনুতপ্ত হয়ে মাথা দুলিয়ে তার প্রতিটি কথায় সায় দিতাম। সাবধান! বিদ্রুপের দৃষ্টিতে কখনও চুপ হয়ে থেকো না৷ কেননা পুরুষ মানুষ বিচক্ষণ হয়ে থাকেন৷ তারা এটা সহজেই বুঝতে পারেন।


সাংবাদিক : ঐ সময় আপনি ঘর থেকে বেরিয়ে যান না কেনো?

বৃদ্ধা : সাবধান! সেটা কখনও করবেন না। তখন তিনি মনে করবেন, আপনি তার কথায় বিরক্ত হয়ে পালাতে চাচ্ছেন। আপনার উচিত, চুপ থেকে ওর প্রতিটি কথায় হ্যাঁ-সূচক সায় দেওয়া, যতোক্ষণ না তিনি শান্ত হন। এরপর আমি তাকে বলি, ‘আপনার শেষ হয়েছে? এবার আমি যেতে পারি?’ তারপর আমি চলে যাই৷ আর আপন কাজে লেগে যাই। কারণ চিৎকার করে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন৷ তার বিশ্রাম প্রয়োজন।

সাংবাদিক : এরপর কি করেন? সপ্তাহখানেক তার থেকে দূরে থাকেন এবং কথা বলা বন্ধ রাখেন নিশ্চয়ই?

বৃদ্ধা : সাবধান! এ ধরনের বদভ্যেস থেকে দূরে থাকুন; যা দু-ধারী তরবারির চেয়েও মারাত্মক। স্বামী যখন আপনার সঙ্গে আপোস করতে চান, তখন যদি আপনি তার কাছে না যান, তখন তিনি একা থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। কখনও কখনও এ অবস্থা তাকে প্রচণ্ড জিদের দিকে ঠেলে দেবে। 

সাংবাদিক : তাহলে কি করবেন তখন?

বৃদ্ধা : দুই ঘণ্টা পর এক গ্লাস দুধ বা এক কাপ গরম চা নিয়ে তার কাছে যাই, আর বলি, ‘নিন, এগুলো খেয়ে নিন, আপনি খুব ক্লান্ত।’ এ সময় তার সঙ্গে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই কথা বলি। তারপর তিনি বলেন, ‘রাগ করেছো?’ আমি বলি, ‘জী না।’ তারপর তার দুর্ব্যবহারে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্নেহ-ভালোবাসার কথা বলেন।

সাংবাদিক : আপনি কি তার কথা তখন বিশ্বাস করেন?

বৃদ্ধা : অবশ্যই। কেনো নয়? শান্ত থাকাবস্থায় যা বলেন, তা বিশ্বাস না করে, রাগান্বিত অবস্থায় যা বলেন, তা বিশ্বাস করবো?

সাংবাদিক : তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব?

বৃদ্ধা : আমার স্বামীর সন্তুষ্টিই আমার ব্যক্তিত্ব। আমাদের স্বচ্ছ সম্পর্কই আমাদের ব্যক্তিত্ব। আর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোনো ব্যক্তিত্ব থাকে না। যার সামনে তুমি পুরোপুরিভাবে বস্ত্রমুক্ত হয়েছো, তার কাছে আবার কিসের ব্যক্তিত্ব?

মন্তব্য করুন