মুফতী ফয়জুল করিমকে নিছক বক্তা ভাবা বেমানান

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০১৯

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১৫ জন বক্তার নামের তালিকা করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। বক্তাদের তালিকায় কয়েকজন আহলে হাদিস সমর্থকদের লোকও রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে হক্কানি ওলামায়ে কেরাম এতোদিন বক্তব্য বিবৃতি ও চ্যালেঞ্জ দিয়ে আসছেন। আরেকজন রয়েছে দেওয়ানবাগীর পীর খ্যাত, তার কর্মকান্ড তো শিরকের পর্যায়ে। শুধু ওলামায়ে কেরামের কাছে নয় বরং সে সর্বস্তরের তাওহীদি জনতার কাছে ‘বাংলার ফেরাউন’ নামে পরিচিত। আর কয়েক জন রয়েছেন পেশাদার বক্তা।

সে ১৫ জনের সাথে নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন, শাইখুল হাদিস মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের নাম থাকাটা বিস্ময়কর! তিনি কোন পেশাদার বক্তা নন। তিনি একজন বিপ্লবী মানুষ। তিনি মরহুম ফজলুল করিম রহ. এর সন্তান ও খলিফা। ইসহাক রহ. এর নাতি। তিনি আল্লামা আহমদ শফী ও যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার মুহতামিম মাহমুদুল হাসান দা. বা. এর খলিফা। একজন দীনের দায়ী। তার বয়ানে পথ ভোলা মানুষ পায় সঠিক পথের সন্ধান। পাষাণ হৃদয়ের মানুষও তার বয়ানে বরফের মত গলে যায়। তার জান্নাত-জাহান্নামের বয়ান শুনে রোনাজারি করে লাখ লাখ মানুষ। লাখ লাখ মানুষ তাঁর বয়ানে তাওবা-ইস্তিগফার করে ফিরে আসে হিদায়াতের সোনালী জীবনে। অনেক ভিন্ন ধর্মের মানুষও তার হাতে হাত দিয়ে সমবেত হয় ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।

তাকে নারীবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করা হলো, অথচ তাঁর বয়ান শোনার জন্য পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের জন্যও প্যান্ডেল তৈরি করতে হয়। তার বয়ানে তরুণদের মাঝে জেগে ওঠে ঈমানী জজবা। দেশের প্রতি মায়া-মমতা। তিনি একজন পীর, একজন আলেম হয়েও লাল সবুজের পতাকা বুকে ধারণ করে পালন করেন বিজয় দিবস। স্বাধীনতা দিবস।

দেশ ও জনগণের কল্যাণে তার বক্তব্য শুনে মাত্র ক’দিন আগে একজন হিন্দু হয়েও পরিচিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য বলেছিলেন “তিনি জনগণের মন বুঝতে পারা একজন জাতীয়তাবাদী নেতা”।

তার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মজলুমের ফরিয়াদ। তাকে ভালবাসেন ওলামা-তলাবা, তরুণ-তরুণী, কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতী জনতার। তিনি দরসের ময়দানে একজন শাইখুল হাদিস। দাওয়াত, ইসলাহ, সংগ্রাম ও সাধনার ময়দানে একজন শাহজালাল ইয়ামানী। তিনি দেশ, ইসলাম ও জনগণের সম্পদ। তিনি একজন জাতীয় রাজনৈতিক এবং দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের নায়েবে আমীর। আধ্যাত্মিক সংগঠন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির তিনি নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন। ‘আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত পরিষদ বাংলাদেশ’ এর তিনি সহ-সভাপতি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি একজন সমাদৃত ব্যক্তিত্ব।

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাঙালি মুসলিম জাতির শিক্ষা- সংস্কৃতি ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যিনি সংকল্পবদ্ধ ও সংগ্রামরত, তাকে নারী বিদ্বেষী ও রাষ্ট্র বিরোধী আখ্যায়িত করা কত বড় ষড়যন্ত্র!

যার হাতে অমুসলিমরা মুসলমান হয় ভিন্ন ধর্মের মানুষ যার কাছে শান্তির ঠিকানা খুঁজে পায় তাকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেয়া কত বড় চক্রান্ত!

“বহুমুখী কর্মবীর, সংগ্রামী সাধক, দাঈ, জ্ঞানতাপস, মজলুম মানুষের একজন জাতীয় বিপ্লবী নেতা” মুফতি ফয়জুল করিমকে নিছক বক্তা ভাবা বেমানান।

আরও :

বক্তাদের নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে সারাদেশে আন্দোলন হবে: আমীর, ইসলামী আন্দোলন

শীর্ষ আলেমদেরকে বিতর্কিত করার প্রকল্প

মন্তব্য করুন