২৬ মার্চ : নতুন করে দেশ গড়ার শপথ নেওয়ার দিন

প্রকাশিত: ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০১৯

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক এই দিনকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। পৃথিবীর মানচিত্রে যতদিন বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ড থাকবে, ততদিন ২৬ মার্চ ইতিহাসের পাতায় অম্লান থাকবে।

১৬ মার্চ ১৯৭১— লাখো জীবনের রক্ত আর মা-বাোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
২৫ মার্চ ১৯৭১— মধ্যরাতে ঢাকাসহ সারাদেশে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হিংস্র জানোয়ারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ও আইনসঙ্গত অধিকারকে রক্তের সাগরে ডুবিয়ে দিতে সারাদেশে গণহত্যা শুরু করে তারা৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, রোকেয়া হল, ইপিআর সদরদপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে একযোগে হত্যাযজ্ঞ চালায়। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একাধিক গণকবর খুঁড়ে শত শত লাশ মাটি চাপা দেয়। বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয় অগণিত লাশ!

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী সন্ত্রাসীদের হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে শুরু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা হয়। শুরু হয় মুক্তিসংগ্রাম। নয় মাসের চরম আত্মত্যাগ ও রক্তসাগরের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ৷

সেই ২৫ মার্চে কালোরাতের ভয়ঙ্কর ইতিহাস আজও কাঁদায় ১৬ কোটি বাংলাদেশীকে। ২৬ মার্চ এলে প্রতিটি নাগরিক শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধাদের। পাড়া মহল্লায় দোয়া হয় তাদের জন্য।

দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক এই দিনে নানা আয়োজনের ব্যবস্থা করে থাকেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় এই দিনটি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে শোভা পায় লাল সবুজের পতাকা।

স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছর পেরিয়ে। অর্ধশত বছর আগে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারলেও— আজ দেশীয় হানাদার বাহিনীর হাতে জিম্মি দেশ। তাই ২৬ মার্চ নতুন করে দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে। দেশীয় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এবার লড়তে হবে। বিদেশী এজেন্ট ও স্বদেশী সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে আরেকটা আত্মত্যাগের প্রয়োজন। তবেই স্বার্থক হবে ২৬ মার্চ। স্বার্থক হবে ৭১ এর লক্ষ লক্ষ আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা ও মা-বোনের কোরবানী।

মন্তব্য করুন